📄 কিছু দিক-নির্দেশক আলোচনা
আমার জীবন ইউরোপ ও কানাডায় কেটেছে। আমি একজন মুসলমান হিসাবে ইউরোপীয় জীবন কেমন পেয়েছি, তার কিঞ্চিৎ নিরীক্ষণ ও অভিজ্ঞতা আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করি তা সুন্নাতে নববী ও আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনায় অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হবে না।
📄 চরম বেয়াদবি ও মানসিক ব্যাধি
ইউরোপের খ্রিষ্টানরা যখন শরীরের কোন স্থানে আঘাত পায়, তখন হযরত ঈসা আ.-কে অত্যন্ত জঘন্য ও অশ্লীল ভাষায় গালি দেয় (নাউযুবিল্লাহ)। এতে তাদের অন্তরের ক্রোধ প্রশমিত হয়। তারা এই গর্হিত আচরণে দুটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। প্রথমত, তারা আল্লাহ তা'আলার ক্রোধের পাত্র হয়। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন প্রকার আত্মিক ও মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। পক্ষান্তরে কোন মুসলমানের শরীরে বা অন্তরে যখন আঘাত লাগে, সাথে সাথে সে দোয়া পাঠ করে। দোয়াটি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য মনে হলেও ইউরোপীয় বিদ্যানদের কাছে বিরাট গুরুত্বের বিষয়।
📄 প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার অনুভূতি
ইউরোপীয়রা এতো বেশি মানসিক বিকারের শিকার যে, বাথরুমে যাওয়ার মুহূর্তেও তারা এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন থাকে সেখানে কেমন অবস্থা হবে? কত সময় বসে থাকতে হবে? ইত্যাদি। তারা যে বস্তুবাদী জীবনের উন্নতির জন্য পরিশ্রম করে নিজেদের মর্যাদা খাটো করেছে, সেই জড় পদার্থ যখন শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তখন তাদের আনন্দ দেখে কে? এমনকি আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠে 'O, What I relax' আহ! কি শান্তি।
মোটকথা আল্লাহ পাক তাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন। ফলে শান্তির একটু ছায়া দেখলেও তারা সেটাকে পরম শান্তির নীড় মনে করে তার কোলে আশ্রয় নিতে চায়। বস্তুত এ অবস্থা তখনই হয় যখন সীমাহীন অশান্তি ও অস্থিরতার আগুনে অবিরত দগ্ধ জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। তাদের অবস্থা পানিতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তির ন্যায় যে একটি খড়কুটো পেলেও পরম আনন্দে আঁকড়ে ধরে।
📄 যেমন ঘোড়ার খেদমত তেমন গাড়ির খেদমত
আমি ধর্মীয় পুস্তক পাঠ করে জানতে পেরেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও অলি-আল্লাহগণের অভ্যাস ছিল, ঘোড়ার শরীর পরিষ্কার রাখা এবং ঘোড়ার কপালে প্রহার করা। যখন গন্তব্যস্থলের নিকটে আসতেন, তখন ধীরে ধীরে ঘোড়ার গতি মন্থর করতেন যেন সহজে শ্বাস নিতে পারে, শরীরের উষ্ণতা স্বাভাবিক থাকে ও ধুলোবালি না উড়ে। আবার কোন কোন স্থানে পড়েছি, গন্তব্যস্থলে আসার পর বৃত্তাকারে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে তারপর ঘোড়া থামাতেন।
ঠিক এমনই আচরণ করে ইউরোপীয়রা তাদের মোটর গাড়ির সঙ্গে। তারা গাড়ির সম্মুখ ভাগ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে। গাড়ি চালানোর পূর্বে বাইরে নিয়ে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে। গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পূর্বক্ষণে খুব ধীরে ধীরে গতি নিয়ন্ত্রণ করে যেন ধুলা বালি না উড়ে এবং ইঞ্জিন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গাড়ির ক্ষতি না হয়।