📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গভর্নররের বালিশ

📄 গভর্নররের বালিশ


মিশরের গভর্নর, আমর বিন আসের অভ্যাস ছিল তিনি যখন নিজের আসনে বসতেন তখন বালিশে ঠেস লাগিয়ে বসতেন। এক সাহাবী, নাম তার আরাফা, তাকে বলেন, আমাদের সামনে ঠেস লাগিয়ে বসবেন না। যদি আগামীতে আর কখনো বসেন, তবে এ ব্যাপারে হযরত ওমরকে অবহিত করব। কিন্তু গভর্নর এ কথায় কর্ণপাত করলেন না এবং ঠেস লাগিয়েই বসতে থাকলেন। ফলে হযরত আরাফা খলীফার কাছে অভিযোগ পত্র পাঠালেন। খলীফার দরবার থেকে এ মর্মে আদেশ নামা আসল, 'লোকজনের সামনে ঠেস লাগিয়ে বসবে না। হ্যাঁ, যখন নিজ ঘরে যাবে, তখন মনের চাহিদা অনুযায়ী বসবে।' (আল-মাতালিবুল আলিয়া-২/২১৭)

ইব্রাহীম নখয়ী থেকে বর্ণিত আছে, হযরত ওমর রাযি. পুরুষদেরকে মহিলাদের সাথে তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছিলেন। পরে তিনি এক লোককে মহিলাদের সাথে নামায পড়তে দেখে দোররা মারেন। লোকটি বলল, যদি আমি বৈধ কাজ করে থাকি, তবে আপনি আমার উপর জুলুম করেছেন। আর যদি ভুল করে থাকি তবে আপনি আমাকে এটা শিক্ষা দেন নি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি আমার উপদেশের সময় উপস্থিত ছিলে না? সে না সূচক জবাব দেয়। ফলে তিনি দোররা ফেলে দেন এবং বলেন, 'তুমি তোমার প্রতিশোধ নাও।' সে বলল 'আজকে নিব না।' তিনি বলেন, 'তাহলে ক্ষমা করে দাও।' সে বলল 'মাফ করব না'। পরের দিন তার সাথে খলিফার দেখা হলো সে খলিফাকে পরিবর্তিত অবস্থায় দেখল। এতে সে খলিফাকে বলল, আপনি আমার কথায় অত্যন্ত প্রভাবান্বিত হয়েছেন। আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। (আল আহকামুল সুলতানিয়া)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অদ্বিতীয় কর্মপদ্ধতি এবং পূর্বপুরুষের অবদান

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অদ্বিতীয় কর্মপদ্ধতি এবং পূর্বপুরুষের অবদান


মৃত্যুর পূর্বে খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে সর্ব সাধারণের সামনে বদলা নেওয়ার জন্য পেশ করেন। এ জন্য বাদশা মুরাদ বিচারকের সামনে বদলা হিসেবে কাটার জন্য নিজের হাত পেশ করেন। ইবনে বতুতার ভাষ্য মতে সুলতান মুহাম্মদ তোঘলককে বিচারকের ফয়সলা অনুযায়ী এক বালক বদলা হিসেবে একুশটি দোররা মারেন। এক পর্যায়ে তার টুপিও পড়ে যায়। অনেক মন্ত্রী এমন ছিল, যদি তাদের মুখ থেকে ঘটনাচক্রে কারো ব্যাপারে গাধা শব্দ বের হতো, তবে বদলা হিসেবে ঐ মন্ত্রীকে গাধা বলার জন্য ঐ লোকটিকে আদেশ দেয়া হতো। বাদশা আব্দুল মালেকের যুগে ঘুষ গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। (আল বয়ান ওয়াত তীবয়ান-৩/২০৩)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খেদমতে খালকের জন্য কোন জিনস ওয়াক্ফ করা

📄 খেদমতে খালকের জন্য কোন জিনস ওয়াক্ফ করা


আল্লাহর রাস্তায় নিজের সম্পদ ওয়াক্ফ করা খুবই উত্তম আমল। যদি কোন ব্যক্তি কোন কিছু ওয়াক্ফ করতে চায়, তবে মূল জিনিষকে ওয়াক্ফ করবে এবং তা থেকে অর্জিত আয় আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে। ওয়াক্ফকৃত জিনিষ বিক্রি করা, দান করা, উত্তরাধিকার হিসেবে ওয়ারিশদের মাঝে বন্টন করা যাবে না। মুতাওয়াল্লী অছিয়ত অনুযায়ী জিনিসের আমদানি নিজেও খেতে পারবে ও বন্ধু-বান্ধবদেরকেও খাওয়াতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমগ্র জীবন পরোপকার ও উৎসর্গে পরিপূর্ণ এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনেরও একই অবস্থা। হযরত ওসমান রাযি. পানির কূপ ক্রয় করে উম্মতের কল্যাণের জন্য ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন। কোন কোন সাহাবী নিজের বাগান জনসাধারণের কল্যাণের জন্য ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন। বনু উমাইয়া ও বনু আব্বাসের যুগে কূপ খনন করা, হাসপাতাল তৈরি করা, মুসাফির খানা বানানো, বিধবা ও এতিমদের লালন পালনের জন্য বিশেষ নিবাস তৈরি করা ইত্যাদি সব ধরনের ওয়াক্ফের কাজ মুসলমানদের দায়িত্বে ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইউরোপীয় জীবনের এক ঝলক (A view of European life)

📄 ইউরোপীয় জীবনের এক ঝলক (A view of European life)


১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ইংরেজরা মানুষের সুবিধার জন্য অগণিত হাসপাতাল, মুসাফির খানা, পশু হাসপাতাল ইত্যাদি তৈরি করছে। লেডী ওলিংটন হাসপাতাল এর মতো অগণিত ওয়াক্ফের উদাহরণ রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষ লক্ষ লোক উপকৃত হচ্ছে। এ সব ওয়াক্ফের মূল ভিত্তি ইসলামের ওয়াক্ফ নিয়মের অনুরূপ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00