📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুসলমানদের প্রশংসা

📄 মুসলমানদের প্রশংসা


স্বয়ং কুরআন শরীফে মুসলমানদের প্রশংসায় বলা হয়েছে, 'তারা নিজেরা অভাবী হয়েও কষ্ট সহ্য করে অন্যদেরকে নিজের খানা খাওয়ায়।' এক আয়াতে এ রকম আছে যে, 'তারা আল্লাহ তা'আলাকে ভালবেসে অন্যদেরকে খানা খাওয়ায়।' এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের এমন আচরণ কিভাবে আশা করা যায় যে, তারা মজুতদারী করে অপর মুসলমানদেরকে দুঃখের মধ্যে নিক্ষেপ করবে? এ ধরনের লোকদের উচিত নিজেকে মুসলমান বলে পরিচিত করার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করা। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক বলেছেন, 'তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল।' (সুরা তাওবা-১২৯)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সাদীর ঘটনা

📄 সাদীর ঘটনা


শেখ সাদী একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, এক দরবেশ হজ্জের ভ্রমণ শুরু করা থেকে প্রতিটি কদমে দু'রাকাত করে নামায পড়তে থাকেন। এতে তার মধ্যে গর্ব আসে। তখন সাথে সাথে অজানা উৎস থেকে আওয়াজ শোনা যায়, 'একটি অন্তরকে আনন্দিত করা এক হাজার রাকাত নামাযের চেয়েও উত্তম।' উল্লেখ্য যে, আলেম এবং আধ্যাত্মিক সাধকগণ বলেছেন, 'নফল হজ্জের পরিবর্তে গরিব মিসকিনদেরকে সাদকা করা বড় সওয়াবের কাজ।' মজুদদার ব্যক্তি মুনাফা দিয়ে মর্মর পাথরের মসজিদ বানায়। কিন্তু ইকবাল বলেন— 'আমি মর্মর পাথরের নুড়ির উপর অসন্তুষ্ট। আমার জন্য অন্য একটি মাটির ঘর বানিয়ে দাও।'

টিকাঃ
(ইসলামী জীবিকা ব্যবস্থা)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামী শাসনের মূলনীতি

📄 ইসলামী শাসনের মূলনীতি


ডেল কার্নেগী, মার্তন, চিউলাপ, ফ্রাইড, এইচ কিউ, লাস, ক্যালিস, হেমের, জ ভল্ট, কেনেডি, আব্রাহাম লিঙ্কন প্রমুখ নেতারা (উল্লেখ্য এদের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রপ্রধান, আবার কেউ সাহিত্যে শীর্ষস্থানীয়) নিজেদের জীবনে উত্তম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁরা যে সব ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেগুলোর মাঝে রয়েছে মানুষের কল্যাণ, সফলতা, সম্মান, ক্ষমা, দয়া, প্রীতি ইত্যাদি। প্রেসিডেন্ট ভল্ট অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং পরিশ্রমী ছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কন নিজের অসহায়ত্ব জয় করে প্রেসিডেন্টের মর্যাদায় পৌঁছেছেন। তিনি গরিব, দুঃখী, মজুর, শ্রমিকদেরকে ভালবাসতেন। কেনেডি জীবনভর ইনসাফ এবং মানবাধিকারের কথা বলেছেন। আর সে অনুযায়ী ফয়সালাও করেছেন। নিকলসন কোনো মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কাজ করে দিয়ে তাদের সাহায্য করতেন। এ সব মহৎ ব্যক্তি এ ধরনের আদর্শিক জীবন কাটিয়ে কি খুব বড় অবদান রেখে গেছেন? অথচ তাদের যুগের বহু পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সব মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের যুগ এর চেয়েও সোনালী এবং সাফল্যমণ্ডিত ছিল। তাদের কর্মপদ্ধতিও ছিল মূলত ইসলামী মূলনীতির প্রতিচ্ছবি। এ কারণেই তারা সফল ও কৃতকার্য হয়েছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হযরত ওমর রাযি. এর মধু চেয়ে আবেদন

📄 হযরত ওমর রাযি. এর মধু চেয়ে আবেদন


একদা হযরত ওমর রাযি. এর চিকিৎসক রোগের ঔষধ হিসেবে মধুকে নির্বাচন করেন। তখন হযরত ওমর রাযি. মসজিদে প্রবেশ করে উপস্থিত জনগণের নিকট রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সামান্য মধু নেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। তারা অনুমতি দেন। এরপর তিনি ঔষধ হিসেবে সামান্য মধু ব্যবহার করেন। শিবলী বলেন, একদিকে তিনি রোম আর সিরিয়ায় সৈন্য প্রেরণ করেছেন, হযরত খালেদ এবং মুয়াবিয়ার রাযি. নিকট বারবার তথ্যানুসন্ধান করেছেন, অন্যদিকে গায়ে ১২টি তালি দেয়া পাঞ্জাবি, মাথায় ছেঁড়া পাগড়ি আর পায়ে ফাটা জুতো পরে কাঁধে মশক ভর্তি পানি নিয়ে বিধবা মহিলাদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন, অথবা মসজিদের কোণায় মাটিতে শুয়ে আছেন, এত সব কাজের ক্লান্তি দূর করছেন, হয়তো তাঁর অজান্তেই নিদ্রাও পেয়ে বসেছে। (আল ফারুক-২৭২)

মুসলমানরা ইরান, রোম এবং সিরিয়া জয় করেছেন। কিন্তু কোন মুসলমান গভর্নর পারস্য অথবা অন্য কোন দেশের বাদশাহর শাহী মহলকে নিজেদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করেন নি। তাঁরা কাঁচা ঘরে অবস্থান করেছেন। কোন গভর্নরের দারোয়ান রাখার অনুমতি ছিল না। ঘরের সামনে পাহারাদার রাখারও অনুমতি ছিল না। কেননা তাদের ভয় ছিল এতে হয়তো সাধারণ লোকের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটবে। হযরত সাদ রাযি. কুফার গভর্নর ছিলেন এবং তিনি জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশ জনের একজন। তাঁর বাড়ি ছিল বাজারে। বাজারে উচ্চ শব্দ থেকে বাঁচার জন্য তিনি ঘরে আলাদা দরজা বানান। হযরত ওমর রাযি. লোক পাঠিয়ে ঐ ঘরের দরজা জ্বালিয়ে দেন এবং বলেন, এতে সাধারণ লোকদের সাক্ষাতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। হযরত খালেদ রাযি. একজন কবিকে এক হাজার মুদ্রা উপহার দেন। হযরত ওমর রাযি. বলেন, 'এ উপহার যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেয়া হয়, তবে তা রাষ্ট্র তথা জনগণের সাথে খেয়ানত করা হবে। আর নিজের সম্পদ থেকে দেয়া হলে, অপব্যয় হবে। উভয়টি ভুল।' একথা বলে তিনি তাকে সেনা-নায়কত্ব থেকে বরখাস্ত করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারী) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। হযরত ওমর রাযি. গভর্নরদেরকে ভাতা প্রদান করতেন যাতে তাঁরা জীবিকার প্রয়োজনে ঘুষ অসাধুতা অবলম্বন থেকে বেঁচে থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি গভর্নরদেরকে সাদাসিধে জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করতেন। গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়ার সময় তাদের থেকে এ বিষয়ে ওয়াদা নেয়া হতো যে, তারা মিহি আটা খাবে না, সূক্ষ্ম কাপড় পড়বে না, দামী ঘোড়ায় চড়বে না। এরপরও কোন গভর্নরের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলে তার অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতো। (আল ফারুক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00