📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুনাফা (Profit)

📄 মুনাফা (Profit)


পূর্বের ব্যবসায়ীগণ শতকরা পাঁচ অথবা দশ টাকা লাভ করতেন। পনের টাকার বেশি লাভ নেয়াকে খারাপ মনে করতেন। একবার হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফকে কেউ জিজ্ঞেস করল, 'আপনি এত সম্পদের মালিক হলেন কিভাবে? আর আপনি এত বড় সফল ব্যবসায়ী বা কিভাবে হলেন?' তিনি উত্তরে বলেন, 'আমি ১০০০ উট কেনা দামে বিক্রি করেছি। আর এতে আমি ১০০০ উটের ১০০০ রশ্মি মুনাফা হিসেবে পেয়েছি।' পূর্বের অনেক ব্যবসায়ী আলেম এবং নেককারদের সেবা করার মানসে ব্যবসা করতেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন মোবারক বলতেন, 'আমি অমুক অমুক আলেমের সেবা করা এবং তাদেরকে উপার্জনের চিন্তা থেকে মুক্ত রাখার মানসে ব্যবসা করছি।'

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুসলমানদের প্রশংসা

📄 মুসলমানদের প্রশংসা


স্বয়ং কুরআন শরীফে মুসলমানদের প্রশংসায় বলা হয়েছে, 'তারা নিজেরা অভাবী হয়েও কষ্ট সহ্য করে অন্যদেরকে নিজের খানা খাওয়ায়।' এক আয়াতে এ রকম আছে যে, 'তারা আল্লাহ তা'আলাকে ভালবেসে অন্যদেরকে খানা খাওয়ায়।' এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের এমন আচরণ কিভাবে আশা করা যায় যে, তারা মজুতদারী করে অপর মুসলমানদেরকে দুঃখের মধ্যে নিক্ষেপ করবে? এ ধরনের লোকদের উচিত নিজেকে মুসলমান বলে পরিচিত করার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করা। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক বলেছেন, 'তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল।' (সুরা তাওবা-১২৯)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সাদীর ঘটনা

📄 সাদীর ঘটনা


শেখ সাদী একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, এক দরবেশ হজ্জের ভ্রমণ শুরু করা থেকে প্রতিটি কদমে দু'রাকাত করে নামায পড়তে থাকেন। এতে তার মধ্যে গর্ব আসে। তখন সাথে সাথে অজানা উৎস থেকে আওয়াজ শোনা যায়, 'একটি অন্তরকে আনন্দিত করা এক হাজার রাকাত নামাযের চেয়েও উত্তম।' উল্লেখ্য যে, আলেম এবং আধ্যাত্মিক সাধকগণ বলেছেন, 'নফল হজ্জের পরিবর্তে গরিব মিসকিনদেরকে সাদকা করা বড় সওয়াবের কাজ।' মজুদদার ব্যক্তি মুনাফা দিয়ে মর্মর পাথরের মসজিদ বানায়। কিন্তু ইকবাল বলেন— 'আমি মর্মর পাথরের নুড়ির উপর অসন্তুষ্ট। আমার জন্য অন্য একটি মাটির ঘর বানিয়ে দাও।'

টিকাঃ
(ইসলামী জীবিকা ব্যবস্থা)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামী শাসনের মূলনীতি

📄 ইসলামী শাসনের মূলনীতি


ডেল কার্নেগী, মার্তন, চিউলাপ, ফ্রাইড, এইচ কিউ, লাস, ক্যালিস, হেমের, জ ভল্ট, কেনেডি, আব্রাহাম লিঙ্কন প্রমুখ নেতারা (উল্লেখ্য এদের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রপ্রধান, আবার কেউ সাহিত্যে শীর্ষস্থানীয়) নিজেদের জীবনে উত্তম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁরা যে সব ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেগুলোর মাঝে রয়েছে মানুষের কল্যাণ, সফলতা, সম্মান, ক্ষমা, দয়া, প্রীতি ইত্যাদি। প্রেসিডেন্ট ভল্ট অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং পরিশ্রমী ছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কন নিজের অসহায়ত্ব জয় করে প্রেসিডেন্টের মর্যাদায় পৌঁছেছেন। তিনি গরিব, দুঃখী, মজুর, শ্রমিকদেরকে ভালবাসতেন। কেনেডি জীবনভর ইনসাফ এবং মানবাধিকারের কথা বলেছেন। আর সে অনুযায়ী ফয়সালাও করেছেন। নিকলসন কোনো মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কাজ করে দিয়ে তাদের সাহায্য করতেন। এ সব মহৎ ব্যক্তি এ ধরনের আদর্শিক জীবন কাটিয়ে কি খুব বড় অবদান রেখে গেছেন? অথচ তাদের যুগের বহু পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সব মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের যুগ এর চেয়েও সোনালী এবং সাফল্যমণ্ডিত ছিল। তাদের কর্মপদ্ধতিও ছিল মূলত ইসলামী মূলনীতির প্রতিচ্ছবি। এ কারণেই তারা সফল ও কৃতকার্য হয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00