📄 নবী ﷺ এর মেজাজ Humour of Holy Prophet-P.B.U.H
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনেক সময় গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি আগমন করতেন। তাঁর নাম ছিল যাহের। তিনি ছিলেন একবারে কৃষ্ণবর্ণের যাযাবর। তাঁর টাকা-পয়সা তেমন ছিল না। মানুষের অন্তরেও তাঁর তেমন মর্যাদা ছিল না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খুবই ভালবাসতেন। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেখলেন যে হযরত যাহের রাযি. বাজারে দাঁড়িয়ে আছেন। একথা সকলেই জানে যে, বাজারে যদি কৃষ্ণবর্ণ মর্যাদাহীন কোন বেদুইন দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তার দিকে কেউ দৃষ্টিপাত করে না। তার কাপড় চোপড় যদি পুরাতন এবং ছেঁড়া হয়, তবে তার দিকে কেউ তাকাবে না। কিন্তু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাজারে তাশরীফ নিয়ে গেলেন, তখন বাজারবাসী সব মানুষকে বাদ দিয়ে হযরত যাহের রাযি. এর নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। পিছন থেকে আস্তে হাত বাড়িয়ে এমনভাবে তাঁর চোখ চেপে ধরলেন যেমন এক বন্ধু অপর বন্ধুর সাথে আনন্দ দানের জন্য করে থাকে।
হযরত যাহের রাযি. তাঁর চক্ষু ছাড়ানোর জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগলেন। কারণ তিনি তো জানেন না যে, কে চক্ষু চেপে ধরেছে। তারপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সামান বিক্রেতার ন্যায় আওয়াজ দিলেন— 'গোলাম খরিদ করার কেউ আছেন?' এতক্ষণ পর্যন্ত হযরত যাহের রাযি. এর জানা ছিল না যে, কে তাঁকে ধরে রেখেছেন। এ জন্য চোখ থেকে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু যখন তিনি এ শব্দগুলি শুনতে পেলেন, তখন সঙ্গে সঙ্গেই চিনে ফেললেন যে, ইনি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবার তিনি হাত ছাড়ানোর পরিবর্তে স্বীয় শরীরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে লাগলেন। হযরত যাহের রাযি. বলতে লাগলেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি যদি আমাকে ক্রীতদাস বানিয়ে বিক্রয় করেন তবে আমার মূল্য অনেক কম হবে। কারণ আমার তো কোন বিশেষত্ব নেই।'
সুবহানাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে কত সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর বাক্য এরশাদ করলেন, 'হে যাহের! মানুষ তোমার কোন মূল্যায়ন করুক অথবা নাই করুক, আল্লাহ তা'আলার নিকট তোমার মূল্য কম নয়; বরং তোমার মূল্য অনেক বেশি।'
এখন লক্ষ্য করুন যে, পুরো বাজারে বড় ব্যবসায়ী বসে বসে ব্যবসা করছেন, তারা অনেক ধন-সম্পদেরও মালিক। তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব বাজারবাসীকে বাদ দিয়ে তাঁর মন রক্ষা এবং তাঁকে সুসংবাদ শোনানোর জন্য তাঁর নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। তাঁর সাথে এমন আচরণ করলেন যেন এক বন্ধু অপর বন্ধুর সঙ্গে আচরণ করছে। সারা জীবন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করতেন— 'হে আল্লাহ আমাকে মিসকীন বানিয়ে জীবিত রাখুন, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং মিসকীনদের সাথে আমার হাশর করুন।' (তিরমিযী)
📄 মুনাফা (Profit)
পূর্বের ব্যবসায়ীগণ শতকরা পাঁচ অথবা দশ টাকা লাভ করতেন। পনের টাকার বেশি লাভ নেয়াকে খারাপ মনে করতেন। একবার হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফকে কেউ জিজ্ঞেস করল, 'আপনি এত সম্পদের মালিক হলেন কিভাবে? আর আপনি এত বড় সফল ব্যবসায়ী বা কিভাবে হলেন?' তিনি উত্তরে বলেন, 'আমি ১০০০ উট কেনা দামে বিক্রি করেছি। আর এতে আমি ১০০০ উটের ১০০০ রশ্মি মুনাফা হিসেবে পেয়েছি।' পূর্বের অনেক ব্যবসায়ী আলেম এবং নেককারদের সেবা করার মানসে ব্যবসা করতেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন মোবারক বলতেন, 'আমি অমুক অমুক আলেমের সেবা করা এবং তাদেরকে উপার্জনের চিন্তা থেকে মুক্ত রাখার মানসে ব্যবসা করছি।'
📄 মুসলমানদের প্রশংসা
স্বয়ং কুরআন শরীফে মুসলমানদের প্রশংসায় বলা হয়েছে, 'তারা নিজেরা অভাবী হয়েও কষ্ট সহ্য করে অন্যদেরকে নিজের খানা খাওয়ায়।' এক আয়াতে এ রকম আছে যে, 'তারা আল্লাহ তা'আলাকে ভালবেসে অন্যদেরকে খানা খাওয়ায়।' এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের এমন আচরণ কিভাবে আশা করা যায় যে, তারা মজুতদারী করে অপর মুসলমানদেরকে দুঃখের মধ্যে নিক্ষেপ করবে? এ ধরনের লোকদের উচিত নিজেকে মুসলমান বলে পরিচিত করার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করা। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক বলেছেন, 'তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল।' (সুরা তাওবা-১২৯)
📄 সাদীর ঘটনা
শেখ সাদী একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, এক দরবেশ হজ্জের ভ্রমণ শুরু করা থেকে প্রতিটি কদমে দু'রাকাত করে নামায পড়তে থাকেন। এতে তার মধ্যে গর্ব আসে। তখন সাথে সাথে অজানা উৎস থেকে আওয়াজ শোনা যায়, 'একটি অন্তরকে আনন্দিত করা এক হাজার রাকাত নামাযের চেয়েও উত্তম।' উল্লেখ্য যে, আলেম এবং আধ্যাত্মিক সাধকগণ বলেছেন, 'নফল হজ্জের পরিবর্তে গরিব মিসকিনদেরকে সাদকা করা বড় সওয়াবের কাজ।' মজুদদার ব্যক্তি মুনাফা দিয়ে মর্মর পাথরের মসজিদ বানায়। কিন্তু ইকবাল বলেন— 'আমি মর্মর পাথরের নুড়ির উপর অসন্তুষ্ট। আমার জন্য অন্য একটি মাটির ঘর বানিয়ে দাও।'
টিকাঃ
(ইসলামী জীবিকা ব্যবস্থা)