📄 মিসওয়াক সম্পর্কে আধুনিক গবেষনা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র শিক্ষার বরকতে পৃথিবীর যেকোন অঞ্চলে মুসলমান দাঁত পরিষ্কার রাখার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান। মূলত ব্রাশ দ্বারা ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করার পরেও দাঁত ময়লা (Plaque) থেকে যায়। যদি ২৪ ঘন্টায় একবারও দাঁত পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে ময়লার পরিমাণ এত বৃদ্ধি পায় যে, দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণ শুরু হয়। পক্ষান্তরে দিনে কয়েক বার মিসওয়াক করার ফলে দাঁত পরিষ্কার থাকে।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা নিয়মিত মিসওয়াক করে তাদের দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে। ১৯৮৫ খৃ. দেশে দাঁত পরিষ্কারে ব্যবহৃত গাছের ডালের উপর নতুন করে ডাক্তারি গবেষণা হয়েছে। উক্ত গবেষণায় দেখা যায়, পিলু গাছের শক্তিবর্ধক গুণ রয়েছে। মিসওয়াক করার কাজে ব্যবহৃত উদ্ভিদের ডালের জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা জীববিজ্ঞানের দিক থেকে পরীক্ষা করা হয়। নিম্নে সেই উদ্ভিদগুলোর নাম দেওয়া হল:
১) Melia azadirachta Linn (নিম গাছ)
২) Acacia arabica willd (বাবলা গাছ)
৩) Acacia modesta wall
৪) Salvadora persica Linn (পিলু)
৫) Pongamia glabra Vent
উক্ত গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং আমেরিকার উষ্ণ ও দক্ষিণ অঞ্চলে পিলু বৃক্ষের ডাল ও শিকড় দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়। শহরের অধিবাসীদের অধিকাংশই দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্রাশ ব্যবহার করে। কিন্তু গ্রামের অধিবাসীগণ সাধারণত গাছের ডাল ও শিকড় ব্যবহার করে। তাই তাদেরকে খুব কম দন্ত রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
এ সব বাস্তব বিষয়াবলীর ব্যাখ্যায় ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করা হয়। এতে পিলু বৃক্ষের উপকারিতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। বিভিন্ন ব্যক্তির দাঁত, মাড়ি ও মুখের লালা থেকে কিছু জীবাণু পৃথক করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায় মুখ ও দন্তরোগ সৃষ্টিতে কতিপয় জীবাণুর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
এসব জীবাণু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু উদ্ভিদের ভূমিকা নিয়েও গবেষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, পিলু ছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদে Sarcina Lutea ও Bacillus Pumilis নামীয় ব্যাকটেরিয়া বিরোধী কোন প্রতিক্রিয়া নেই। পক্ষান্তরে পিলুর মিসওয়াক ব্যবহারকারীদের মুখের লালায় ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক ক্রিয়া দেখা যায়। অধিকন্তু অন্যান্য উদ্ভিদ অপেক্ষা পিলুতে জীবাণুরোধী (Anti-Microbial), জীবাণুনাশক (Germicidal) এবং ছত্রাকনাশক (Fungicidal) গুণাগুণ বেশি পাওয়া যায়।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, পিলুতে বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও মাড়িকে দৃঢ় ও পরিষ্কারকরণ এবং ঘষা-মাজার (Abrasive) গুণাগুণ বিদ্যমান রয়েছে। শুধু মিসওয়াকই নয়; বরং মিসওয়াক ব্যবহারকালে ঘর্ষণজনিত কারণে মিসওয়াকের যে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা (Dust) দাঁত বা মুখে সাথে লেগে যায় সেগুলোও মুখ, দাঁত ও মাড়ির পরিচ্ছন্নতার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। মূলত এটা আল্লাহ পাকের দান ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী তালীমের বরকত। পিলু বৃক্ষের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন সারা পৃথিবীতে এই বৃক্ষের মিসওয়াকের অধিক প্রচলন করা হয়।
📄 মিসওয়াকের উপকারিতা সম্পর্কে একটি ঘটনা
বর্তমানে সব টুথ পেস্টেই অধিক পরিমাণে ফ্লোরাইড সংযোজন করা হয়। অথচ বিজ্ঞানের বক্তব্য হলো মিসওয়াকের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ফ্লোরাইড রয়েছে। এটাই দাঁত ও মাড়ির রাসায়নিক মহৌষধ।
একবার এক নবমুসলিমের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তাকে ইসলাম গ্রহণের কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। তখন সে বললো, 'আমি দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক রোগে আক্রান্ত ছিলাম। অনেক ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করেছি। কিন্তু সুস্থতার পরিবর্তে অসুস্থতা বেড়েছে। অবশেষে আমার চিকিৎসার জন্য আমেরিকার বড় বড় ডাক্তারদের বোর্ড বসে। আমেরিকার অধিবাসী হিসাবে তারা অত্যন্ত যত্ন ও সহমর্মিতার সাথে আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। অবশেষে আমার জন্য একটি ব্যবস্থাপত্র নির্বাচন করেন। ঔষধ নিয়ে আমি বাসায় ফিরছিলাম। পথিমধ্যে আমার এক মুসলমান বন্ধুর সাথে দেখা হলো। উভয়ে এক পাশে গাড়ি থামিয়ে কুশল বিনিময় করলাম। তিনি আমার অসুস্থতার কথা শুনে আমাকে মুসলমানদের এক জামাতের কাছে নিয়ে গেলেন। তারা আমেরিকাতে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিল।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম, প্রত্যেকে একটি করে কাঠ-খণ্ড নিয়ে দাঁতে ঘর্ষণ শুরু করেছে। তাদের অবস্থা দেখে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, 'এ কি কাণ্ড?' তারা বললো, 'এটা মিসওয়াক।' এই মিসওয়াক দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁতের অনেক উপকার হয়। তাদের নিকট মিসওয়াকের উপকারিতা ও গুণাগুণের কথা শুনে খুবই অভিভূত হলাম। তাদের কথাবার্তা শুনে তাদের সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গতা ও হৃদ্যতা সৃষ্ট হয়ে গেল। কয়েকদিন নিয়মিত মিসওয়াক করলাম। ধীরে ধীরে আমার অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে লাগলাম। অবশেষে ৮ দিনে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠি। কিছুদিন পর আমি চিকিৎসা বোর্ডের ডাক্তারদের নিকট গেলে তাঁরা আমাকে সুস্থ দেখে নিজেদের ঔষধ কার্যকরী হয়েছে ভেবে খুব খুশী হলেন। তখন আমি তাদের প্রদত্ত ঔষধগুলো যেভাবে ছিল, অবিকল সেভাবে টেবিলের উপর রেখে দিলাম। তারা ঔষধগুলো দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, 'এত দ্রুত আরোগ্য লাভ করলে কিভাবে?' তখন আমি মিসওয়াক বের করে বললাম, 'এই ডাল ব্যবহার করে আমি দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করেছি।' আমার উত্তর শুনে তাদের বিস্ময় সীমা ছেড়ে গেল। তৎক্ষণাৎ তারা ক্যামেরা নিয়ে মিসওয়াকটির ফটো তুলে নিয়ে তা নিয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করল।