📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 গন্ধক (Sulpher)

📄 গন্ধক (Sulpher)


পিলু গাছে বিদ্যমান গন্ধক জীবাণুনাশক ও বিষ প্রতিষেধক গুণসম্পন্ন হওয়ায় মুখের সুস্থতা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভিটামিন

📄 ভিটামিন


দাঁতের সুস্থতা ও মাড়ির সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পিলুতে এই উদ্ভিজ্জ উপাদানটি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে। এর ফলে দাঁত নষ্ট হওয়া ও মাড়ি ফুলে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। উপমহাদেশের ডাক্তারগণ বহুদিন থেকে মিসওয়াককে দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রঞ্জক পদার্থ

📄 রঞ্জক পদার্থ


মিসওয়াকের বাকল বা ছালে বিদ্যমান রঞ্জক পদার্থ দাঁতের বাইরের শক্ত স্তর অর্থাৎ এনামেলকে রক্ষা করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মিসওয়াক সম্পর্কে আধুনিক গবেষনা

📄 মিসওয়াক সম্পর্কে আধুনিক গবেষনা


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র শিক্ষার বরকতে পৃথিবীর যেকোন অঞ্চলে মুসলমান দাঁত পরিষ্কার রাখার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান। মূলত ব্রাশ দ্বারা ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করার পরেও দাঁত ময়লা (Plaque) থেকে যায়। যদি ২৪ ঘন্টায় একবারও দাঁত পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে ময়লার পরিমাণ এত বৃদ্ধি পায় যে, দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণ শুরু হয়। পক্ষান্তরে দিনে কয়েক বার মিসওয়াক করার ফলে দাঁত পরিষ্কার থাকে।

অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা নিয়মিত মিসওয়াক করে তাদের দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে। ১৯৮৫ খৃ. দেশে দাঁত পরিষ্কারে ব্যবহৃত গাছের ডালের উপর নতুন করে ডাক্তারি গবেষণা হয়েছে। উক্ত গবেষণায় দেখা যায়, পিলু গাছের শক্তিবর্ধক গুণ রয়েছে। মিসওয়াক করার কাজে ব্যবহৃত উদ্ভিদের ডালের জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা জীববিজ্ঞানের দিক থেকে পরীক্ষা করা হয়। নিম্নে সেই উদ্ভিদগুলোর নাম দেওয়া হল:

১) Melia azadirachta Linn (নিম গাছ)
২) Acacia arabica willd (বাবলা গাছ)
৩) Acacia modesta wall
৪) Salvadora persica Linn (পিলু)
৫) Pongamia glabra Vent

উক্ত গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং আমেরিকার উষ্ণ ও দক্ষিণ অঞ্চলে পিলু বৃক্ষের ডাল ও শিকড় দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়। শহরের অধিবাসীদের অধিকাংশই দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্রাশ ব্যবহার করে। কিন্তু গ্রামের অধিবাসীগণ সাধারণত গাছের ডাল ও শিকড় ব্যবহার করে। তাই তাদেরকে খুব কম দন্ত রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

এ সব বাস্তব বিষয়াবলীর ব্যাখ্যায় ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করা হয়। এতে পিলু বৃক্ষের উপকারিতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। বিভিন্ন ব্যক্তির দাঁত, মাড়ি ও মুখের লালা থেকে কিছু জীবাণু পৃথক করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায় মুখ ও দন্তরোগ সৃষ্টিতে কতিপয় জীবাণুর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

এসব জীবাণু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু উদ্ভিদের ভূমিকা নিয়েও গবেষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, পিলু ছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদে Sarcina Lutea ও Bacillus Pumilis নামীয় ব্যাকটেরিয়া বিরোধী কোন প্রতিক্রিয়া নেই। পক্ষান্তরে পিলুর মিসওয়াক ব্যবহারকারীদের মুখের লালায় ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক ক্রিয়া দেখা যায়। অধিকন্তু অন্যান্য উদ্ভিদ অপেক্ষা পিলুতে জীবাণুরোধী (Anti-Microbial), জীবাণুনাশক (Germicidal) এবং ছত্রাকনাশক (Fungicidal) গুণাগুণ বেশি পাওয়া যায়।

অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, পিলুতে বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও মাড়িকে দৃঢ় ও পরিষ্কারকরণ এবং ঘষা-মাজার (Abrasive) গুণাগুণ বিদ্যমান রয়েছে। শুধু মিসওয়াকই নয়; বরং মিসওয়াক ব্যবহারকালে ঘর্ষণজনিত কারণে মিসওয়াকের যে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা (Dust) দাঁত বা মুখে সাথে লেগে যায় সেগুলোও মুখ, দাঁত ও মাড়ির পরিচ্ছন্নতার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। মূলত এটা আল্লাহ পাকের দান ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী তালীমের বরকত। পিলু বৃক্ষের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন সারা পৃথিবীতে এই বৃক্ষের মিসওয়াকের অধিক প্রচলন করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00