📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলাম ও চিকিৎসা বিদ্যার দৃষ্টিতে মেসওয়াকের গুরুত্ব

📄 ইসলাম ও চিকিৎসা বিদ্যার দৃষ্টিতে মেসওয়াকের গুরুত্ব


নববী চিকিৎসায় মিসওয়াকের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। বিভিন্ন হাদীসে মিসওয়াক করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। মিসওয়াক হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি বিশেষ সুন্নাত। তাছাড়া মিসওয়াক সম্পর্কে মেশকাত শরীফে পূর্ণ একটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে মিসওয়াক সম্পর্কে চৌদ্দটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। তন্মধ্যে এখানে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করছি।

হযরত আনাস রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মিসওয়াক করার জন্য তাকীদ দিচ্ছি।'

হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম।'

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন 'যদি উম্মতের কষ্ট ও অসুবিধার কথা চিন্তা না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার আদেশ করতাম।' (বুখারী, মুসলিম)

হযরত ওয়াতেলা বিন আসকা থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, 'মিসওয়াকের ব্যাপারে আমাকে এতো অধিক তাকীদ করা হয়েছে যে, আমার আশংকা হচ্ছিল, এটা আমার উপর ফরজ করা হবে।' (তাবরানী ফিল কাবীর)

হযরত আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, 'যে নামায মিসওয়াক সহকারে আদায় করা হয়, তার ফজীলত, মিসওয়াক বিহীন আদায়কৃত নামাযের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি।' (আহমাদ, বায়হাকী)

যদিও কুরআন মজীদে মিসওয়াক সম্পর্কে আলোচনা নেই, তবুও আলোচ্য হাদীসসমূহ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উত্তম আদর্শ মিসওয়াকের ফজীলত উপলব্ধির জন্য যথেষ্ট। নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

হযরত শাহ বিন হানী বর্ণনা করেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কোন কাজ করতেন?' তিনি উত্তর দিলেন 'মিসওয়াক করতেন।' (রিয়াযুছ ছালেহীন)

হযরত হুযায়ফা রাযি. বর্ণনা করেন, 'নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠার পর মিসওয়াক দ্বারা মুখ পরিষ্কার করতেন।' (বুখারী)

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, 'আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য মিসওয়াক ও অজুর পানির ব্যবস্থা করে রাখতাম। রাত্রে যখন আল্লাহ পাকের ইচ্ছা হতো তিনি ঘুম থেকে উঠতেন। অতঃপর মিসওয়াক সহকারে অজু করে নামায পড়তেন।' (মুসলিম)

মিসওয়াককে নববী চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করার দ্বারা মিসওয়াকের উপকারিতা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। আধুনিক চিকিৎসা গবেষণায় মিসওয়াককে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার সর্বোৎকৃষ্ট হাতিয়ার রূপে স্থির করা হয়েছে। মিসওয়াক করার ফলে দাঁত পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে দাঁতের মাড়িতে বিদ্যমান সংক্রামক জীবাণুগুলো দূর হয়ে যায়। বিশেষত সে সব জীবাণু দাঁতের মাড়িতে ক্ষত সৃষ্টি করে, মিসওয়াক জীবাণু নাশক ক্রিয়া দ্বারা সেগুলোকে ধ্বংস করে।

কেবল ইসলামী সভ্যতায়ই শুধু নয়; বরং ইসলামের ইতিহাসেও মিসওয়াকের একটি উজ্জ্বল অবস্থান রয়েছে। হাকীম আল বেরুনি মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে লিখেছেন, 'বৃক্ষের মিসওয়াক যুগ যুগ ধরে দাঁত পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।'

ইরাক নামের মিসওয়াক সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, দাঁত পরিষ্কারের জন্য যে সব বৃক্ষের মিসওয়াক ব্যবহৃত হয়, তন্মধ্যে ইরাক বৃক্ষের মিসওয়াক সব চেয়ে উৎকৃষ্ট। তিনি তার বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণিত করার জন্য আবু হানীফা দাগুরী, ইবনে রেজওয়ান, ইবনে জালজাল প্রমুখের সূত্র উল্লেখ করেছেন। উপমহাদেশের খ্যাতনামা হাকীম এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্যতম দিকপাল হাকীম মোঃ আজম খান তাঁর কিতাবে মিসওয়াকের পক্ষে বিস্তর যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। হাকীম মুমিন খান, ইবনে সিনা, আনতাকী, বাগদাদী প্রমুখ চিকিৎসা বিশারদদের সূত্রও উল্লেখ করেছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পিলু গাছের মিসওয়াক

📄 পিলু গাছের মিসওয়াক


মুখ ও দাঁতের সুরক্ষার জন্য সর্বপ্রথম পিলু বৃক্ষের শিকড় ব্যবহার করার রীতি আরব দেশে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রত্যেক যুগে এই বৃক্ষের উপর অনুসন্ধান ও গবেষণা অব্যাহত ছিল। পাক-ভারত উপমহাদেশের বিজ্ঞানীদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই পিলু বৃক্ষ। বর্তমানে আমেরিকা ও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে এই বৃক্ষ নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা অব্যাহত রয়েছে। কারণ তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে, মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায় পিলু বৃক্ষের চেয়ে অধিক কার্যকরী কিছু নেই। ফলে বর্তমান বিশ্ব এই নববী চিকিৎসাটির প্রতি অসীম গুরুত্ব আরোপ করছে।

পিলু বৃক্ষের রাসায়নিক উপাদানগুলো গাছের শাখা/প্রশাখায় বিদ্যমান থাকে এবং এক জায়গায় একত্রিত অবস্থায় এ উপাদানগুলো একটি অপরটিকে সাহায্য করে। কিন্তু যদি এই বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত উপাদানগুলো আমরা পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে প্রত্যেকটি উপাদানই দাঁতের রোগের জন্য উপকারী প্রমাণিত হবে। এ সব উপাদান গাছের ছালে পাওয়া যায়। নিম্নে এগুলো প্রদান করা হলো:

১. ট্রাই মিথাইল অ্যামিন।
২. সালভাডোরাইন (SALVADORINE) নামক অ্যালকোয়েড।
৩. ক্লোরাইড
৪. ফ্লোরাইড (FLUORIDE)
৫. সিলিকা (SILICA)
৬. গন্ধক (SULPHER)
৭. খাদ্যপ্রাণ সি (VITAMIN-C)
৮. ট্যানিনস (TANINS) ও স্যাপোনিনস (SAPONINS)
৯. ফ্লেভোনয়েড (FLAVONOIDS) ও স্টেরল (STEROLS) স্বল্প মাত্রায়।
১০. রঞ্জক পদার্থ (স্বল্প মাত্রায়)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ট্রাই মিথাইল অ্যামিন (Tri Methyl Amin T.M.A)

📄 ট্রাই মিথাইল অ্যামিন (Tri Methyl Amin T.M.A)


এটা পিলু বৃক্ষের প্রধান উপাদান। এর রাসায়নিক সংকেত (Formula) হলো (CH3)3N। এটা বর্ণহীন তরল এবং আঁষটে গন্ধযুক্ত। এর স্ফুটনাংক ৪°C এবং পানি, ইথার ও অ্যালকোহলে দ্রবণীয়। এটা তরলের গাঢ় উপরিভাগকে হালকা করে এবং বারি কণাগুলোকে সঞ্চারণশীল করে। T.M.A উত্তেজক পদার্থের উপরিভাগকে পরিবর্তিত করে। এই প্রক্রিয়াকে Forth Floation বলে। এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মুখের মধ্যে বিশেষত দাঁতে রয়ে যাওয়া খাদ্যকণাকে একত্রিত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে। মিসওয়াকের অন্যান্য অংশ আরও অধিক ক্রিয়াশীল জীবাণু প্রতিরোধ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সালভাডোরাইন (Salvadorine)

📄 সালভাডোরাইন (Salvadorine)


প্রাকৃতিকভাবে এই উপাদান পিলু বৃক্ষের শুষ্ক ছালে পাওয়া যায়। এই অংশটি নিয়ে প্রচুর গবেষণা চলছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00