📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দোয়া ও চিকিৎসা (Prayer and Care)

📄 দোয়া ও চিকিৎসা (Prayer and Care)


দোয়া হল স্বীয় পালনকর্তার সাথে বান্দার সরাসরি কথোপকথন। অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীরা দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন। গুনাহর অনুভূতি ভয় এবং বিষন্নতার কারণ হতে পারে। এসব রোগীর মস্তিষ্ক থেকে এসব নেতিবাচক অনুভূতি দুর করার ক্ষেত্রে দোয়া চিকিৎসা হিসেবে খুবই গুরুত্ব বহন করে।

ওলীম জীমেযের মন্তব্য হল—'দোয়া বাহ্যিক পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন আনুক বা নাই আনুক, দোয়ার ফলে অবশ্যই অন্তরের পরিবর্তন ঘটে। ধার্মিক ব্যক্তির এ দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, স্বাভাবিক পদ্ধতিতে যে ফলাফলের আশা করা যায় না দোয়ার দ্বারা তা আশা করা যেতে পারে।' (নফসিয়াতে ওয়ারেদাতে রুহানী)

ফ্রেডারিক মায়ার্জ এর মন্তব্য 'আমার কাছে এ ব্যাপারটি সম্পূর্ণ বাস্তব যে, আমাদের আশে-পাশে একটি রুহানী জগত রয়েছে। রুহানী জগতের সাথে প্রাকৃতিক জগতের বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে। প্রাকৃতিক জগত রুহানী জগতের বদৌলতেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের অদৃশ্য শক্তির উৎসও এই রুহানী জগত। যেভাবে শরীর প্রাকৃতিক জগত থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে তেমনিভাবে অন্তরও রুহানী জগত থেকে উপকৃত হয়।'

দোয়ার সময় নফসের এমন অবস্থা হয় যে, তখন অন্তর রুহানী শক্তি অর্জন করে। তবে তার এ কর্মপদ্ধতির পরিপূর্ণ স্বরূপ সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। এটা অবশ্যই ঘটে। তবে আমরা বলতে পারি না কিভাবে ঘটে। আমাদের সম্মুখে ফলাফল প্রকাশ পেলেই আমরা মেনে নেই যে, দোয়ার বদৌলতে আমাদের প্রার্থনার বস্তু পেয়ে গিয়েছি। এভাবে আমরা বিশ্বাসের শক্তি লাভ করি। এর ফলে নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের হিম্মত আমাদের মাঝে সৃষ্টি হয়।

আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আগত হেদায়াতের ফলে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিকোণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। সমস্যার সমাধানের সফল পদ্ধতি তার মস্তিষ্কে অংকিত হয়। মুমিন ব্যক্তি সে অনুসারে কাজ করে স্বীয় উদ্দেশ্য হাছিল করে নেয়। কিন্তু বিজ্ঞান যেরূপ একথা বুঝতে অক্ষম যে, গাভীর স্তনে (Glands) দুধ কিভাবে তৈরি হয়, তেমনিভাবে একথাও বুঝতে অক্ষম যে, দোয়া দ্বারা ধ্যান-ধারণা ও মানসিক অবস্থায় কিরূপে পরিবর্তন ঘটে।

যখন আমরা সব জিনিস নূরে এলাহী দ্বারা দেখি এবং প্রতিটি জিনিষকেই আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছার সাথে যুক্ত করে চিন্তা করি, তখন প্রতিটি জিনিষই আমাদের নিকট বিরাট অর্থবহ মনে হয়। একজন সাধারণ লোক ফুল দেখেই নিজের মধ্যে কবির অনুভূতি টের পেতে পারে না। এমনিভাবে যে কোন সাধারণ মানুষ সব জিনিষের অন্তর্নিহিত অবস্থা অনুভব করতে পারে না। এটা পারেন মুত্তাকী, আল্লাহ ওয়ালা ঈমানদার বান্দা। যদি একই বইয়ের কয়েকজন পাঠক থাকে, তাহলে সেই বই থেকে এক একজন এক ধরনের জ্ঞান লাভ করে। এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন, 'বই নিজেও জানে তাকে কে পাঠ করছে? তাকে কি ধরনের জ্ঞান দিতে হবে?' প্রতিটি মানুষ স্বীয় যোগ্যতা অনুসারে জ্ঞান লাভ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00