📄 মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দোয়া (Psycological Aspects of prayer)
দোয়া মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষত নিরাশা (Depression), হতাশা ইত্যাদি মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় বেশ ফলদায়ক। দোয়া কিভাবে মনোরোগে চিকিৎসার ভূমিকা পালন করে, আসুন সে দিকগুলো বিশ্লেষণ করি।
📄 কষ্টদায়ক আবেগের প্রকাশ (Catharsis)
বান্দা আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাত উঠিয়ে দোয়া করার সময় আল্লাহ তা'আলাকে খালেক এবং মালিক স্বীকার করে। তার অহংকার বিনয়ে পরিণত হয়। সে আল্লাহর দরবারে বিনয়াবনত হয়ে আরয করে 'হে খোদা! আমি বড় গুনাহগার।' এ শব্দাবলী উচ্চারণের সাথে সাথেই তার অন্তরে বিদ্যমান সব গুনাহের অনুভূতি মনের পর্দায় ভেসে উঠে। যেহেতু আল্লাহ তা'আলা গোনাহের প্রতিফল দিতে তাকে ধর-পাকড় করতে পারেন এই ভয় তার মন-মস্তিষ্কের চেপে বসে, তাই এই অনুভূতি তার কাছে কষ্টদায়ক মনে হয় এবং কখনো কখনো চক্ষু থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হয়।
বান্দা যখন দোয়া করার জন্যে দুহাত উত্তোলন করে, সে সময় ব্যতীত অন্য সময় কৃত গোনাহ স্মরণ করার কষ্ট নিজের অনুভূতিতে জাগ্রত হোক এমনটি সে চায় না। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানানোর সময় বহমান অশ্রু এবং হৃদয় থেকে নির্গত ফরিয়াদ তার দুঃখ ব্যথাকে কমিয়ে দেয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে Catharsis বলে। এটা ফ্রয়েডীয় মনোবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী মানসিক সমস্যা সমাধানে ঔষধতুল্য।
📄 চরিত্রের পরিবর্তন (Change of character)
দোয়া করার সময় মানুষ নিজের ভুল এবং অপরাধ স্বীকার করে, 'একবার হয়ে যাওয়া ভুল' ভবিষ্যতে দ্বিতীয় বার না করার অঙ্গীকার করে। ফলে তার আচরণে (Behaviour) ইতিবাচক এবং স্থায়ী পরিবর্তন সূচিত হয়।
📄 আশা (Hope)
মানুষ আল্লাহর দরবারে দোয়া প্রার্থনা এ জন্যই করে যে, তার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তার সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম এবং তিনি তার সমস্যা সমাধান করবেনও। এতে দোয়াকারী সামনে আগত সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে এই আশা পোষণ করে এবং কষ্ট ও নিরাশাকে জয় করে।