📄 দোয়া-সমাধানের উপায়
আমরা বিপদে পড়ে বিনয়, নম্রতা ও আকুতিসহ দোয়া করতে হাত উঠাই। তখন আমাদের ঈমানী শক্তি ও আবেগ কসমিক ওয়ার্ল্ডে সৃষ্টি করে এক অব্যক্ত তরঙ্গ। এ তরঙ্গ অনুকূল শক্তি সমূহের নিকট পৌঁছে তাকে অস্থির করে তোলে। এতে করে প্রার্থনাকারীর মস্তিষ্ক ও কসমিক ওয়ার্ল্ডের অনুকূল শক্তির মধ্যে একটা অন্তঃসম্পর্ক গড়ে উঠে এবং যে সমস্যা থেকে মুক্তি চেয়ে প্রার্থনা করা হয়েছে, তা সমাধানের ইঙ্গিত আমরা পেয়ে যাই।
উদাহরণত অনেক সময় আমরা অসুস্থ হই। তখন করণীয় কি (?), কিসে রোগ আরোগ্য হবে (?), এ রকম হাজারো দুর্ভাবনা আমাদেরকে পেয়ে বসে। সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা পরামর্শ পেতে অন্যের দ্বারস্থ হই। আমাদের বুদ্ধিই আমাদেরকে উপযুক্ত চিকিৎসক দেখিয়ে প্রতিবিধান জেনে নিয়ে ঔষধ সেবন করা অথবা এরকম অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা অবহিত করে। আমরা এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে রোগ থেকে মুক্তি পাই। আরোগ্য লাভের এ মাধ্যমগুলো আল্লাহ তা'আলাই আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই এ ভেবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিৎ যে, তিনি আমাদেরকে সুস্থতা দান করেছেন। কিন্তু আমরা যদি মন্তব্য করি, অমুক ডাক্তার অথবা অমুক ঔষধ সেবন করে রোগ থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি, তবে এটা শিরক। একে অন্য কিছু বলা ভুল। সুস্থতা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছাধীন। আমাদের এতে ঈমান রাখা উচিৎ এবং রোগ-ব্যাধি ও কষ্টের সময় আল্লাহ তা'আলার প্রতিই মনোনিবেশ করা উচিৎ।
আল্লাহ পাক কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর সম্মুখেই মস্তক অবনত কর, সিজদায় পতিত হও, তাঁর এবাদত কর এবং নেকী অর্জন করাকে নিজেদের বৈশিষ্ট বানিয়ে নাও যাতে তোমরা সাফল্য অর্জন করতে পার।'
অন্য এক স্থানে ইরশাদ করেন, 'আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীল বান্দাকে সব সমস্যায় সফলতা দান করেন। কোন পেরেশানী কিংবা দুঃখ-কষ্ট তাদেরকে বেদনাহত করতে পারে না।' তিনি আরও ইরশাদ করেন, 'যারা নিজেদের ঈমানের মধ্যে গুনাহ প্রবেশ করতে দেয় না, তারা নিরাপত্তা, প্রশান্তি এবং হেদায়েতের নেয়ামত লাভ করে সৌভাগ্যশালী হবে।'
আল্লাহ তা'আলাই প্রতিটি বান্দার দোয়া কবুল করেন। কিন্তু তারপরও দোয়া কবুল হওয়া-না হওয়ার সাথে বান্দার কর্মকাণ্ড (Character) সম্পর্কযুক্ত। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হচ্ছে, 'আল্লাহ তা'আলা ঈমানদারদের দোয়া শুনেন এবং তার জন্য বান্দাকে পুরস্কৃত করেন।' তিনি আরও বলেন, 'আমি সৎকর্মশীল এবং ঈমানদারদের দুঃখ-বেদনা অবশ্যই দূর করে দিব।' অন্যত্র ইরশাদ করেন, 'আমি (নূহ) কওমকে বললাম, আল্লাহ তা'আলার নিকট গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। কারণ, তিনি ক্ষমাশীল। অতঃপর তিনি তোমাদের ফসলের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ধন-সম্পদ দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদেরকে বাগ-বাগিচা ও নহরসমূহের মালিক বানিয়ে দিবেন।'
📄 পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দ (Words of Imitation)
যদি কোন লোক আল্লাহর দরবারে দোয়া প্রার্থনা করে, তাহলে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার রহমত উথলে উঠবে এবং বান্দার আশা পূর্ণ হবে। ইমিটেশনের উক্তি হল 'হে খোদা! উত্তম কি, তুমিই জান। যা তোমার মর্জি, তাই কর। যা চাও, দাও। যখন চাও, দাও। আমার জন্য তোমার যা মর্জি, তাই কর। তুমি তাই কর, যা তোমার বড়ত্ব ও মর্যাদার উপযোগী। তোমার যেখানে মনে চায়, সেখানেই আমাকে রাখ এবং আমার সব বিষয়ে তোমার ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাও। যেখানে তোমার নৈকট্য রয়েছে, সেখানে কিভাবে অমঙ্গল থাকবে? তোমাকে পাবার আশায় আমি যদি রিক্ত হই, এটা তোমাকে হারিয়ে সম্পদশালী হওয়ার চেয়ে অনেক উত্তম। তোমাকে ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার চেয়ে আমি তোমার সঙ্গে দুনিয়াতে থাকাকেই প্রাধান্য দিব। তুমি যেখানে অবস্থান কর, সেটাই প্রকৃত জান্নাত। আর যেখানে তুমি নেই, তাই জাহান্নাম ও মৃত্যু।'
📄 এক জার্মান মহিলার অনুভূতি (Feeling of a German Woman)
এক জার্মান মহিলা আত্ম-জীবনীতে লিখেন, 'আমি একাকী সমুদ্র-তীরে বসেছিলাম। এমন সময় আত্মাকে উদার এবং জীবনকে মহৎকারী চিন্তাগুলোর ফাল্গুধারা হৃদয়ে ঢেউ খেলতে লাগল। আমি আবেগে তন্ময় হয়ে অসীম সমুদ্র সামনে রেখে নতজানু হয়ে বসে পড়লাম। আমার আত্মা দোয়ায় মগ্ন হল। জীবনে এই প্রথমবার দোয়ার প্রকৃতি আমার সম্মুখে প্রকাশ পেল। আমি অনুভব করলাম একাকিত্ব থেকে এক চিরঞ্জীবের অনুভূতির দিকে প্রত্যাবর্তনের নামই দোয়া।'
📄 লীড বেটারের মত (Ideas of Lead Beter)
সাধারণত দোয়া বলতে সে সব শব্দকেই বুঝায়, কোন ব্যক্তি যে শব্দগুলোর সাহায্যে সামাজিক, আর্থিক, শারীরিক এবং আত্মিক সমস্যা সমাধানের জন্য সাহায্য কামনা করে আল্লাহ তা'আলার দরবারে উচ্চারণ করে। লীড ব্যাটার Invisible Helpers, P4 লিখেনঃ দোয়া কি? দোয়া হল কসমিক ওয়ার্ল্ডে শক্তির সব আধারের মুখ উন্মুক্ত করে দেয়া। এটি একটি শক্তিশালী মানসিক ও আবেগিক প্রয়াস। কার্যকারণ নিয়মের অধীনে এ পৃথিবীতে প্রতিটি প্রচেষ্টার কোন না কোন প্রতিদান আছেই। এখানে কর্মের সাথে তার ফলাফল এমনভাবে বাঁধা রয়েছে যে কর্ম থেকে কর্মফলকে পৃথক করা সম্ভব নয়।
এক ইউরোপীয় সূফী এ কথাই বলেছেন নিম্নের ভাষায়, 'বিনয়াবনত প্রতিটি প্রার্থনার জবাব তাৎক্ষণিকভাবেই আসে। যদি এমন না হয়, তাহলে মানুষ পৃথিবীকে মৃত মনে করত। দোয়া চাওয়া এবং কবুল হওয়া উভয়টি একই গলির দুটি শাখার মত। কবুল হওয়াটা দোয়ার অপর পিঠ যেরূপ ফলাফল কারণের অপর পিঠ। (The Master and the Path P.23)