📄 চতুর্থ শর্ত :
কখনো মিথ্যা না বলা। কারণ মিথ্যাবাদী মুনাফিক। রিয়াকারী (লোক দেখানো কাজ করে) মুনাফিক। রিয়াকারী মুশরিক আর মুশরিকের দোয়া কবুল হয় না (কিন্তু যদি আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করেন)। আল্লাহ তা'আলার নিকট দোয়া প্রার্থনা করার সময় এরূপ উক্তি করবে না যে, হে আল্লাহ অমুক জিনিষ যেন আমি পাই আর অমুক ব্যক্তি না পায়। দোয়ায় খেয়ানত করা উচিৎ নয়। অর্থাৎ শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে না। সমস্ত মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বের জন্য দোয়া করা উচিৎ।
📄 দোয়া কবুল হওয়ার স্থানসমূহ (Places of Acceptance)
সাধারণত সব স্থানেই দোয়া কবুল হয়। কিন্তু কয়েকটি জায়গা এমন রয়েছে যেখানে দোয়া খুব তাড়াতাড়ি কবুল হয়:
📄 মৌলিক বিষয়সমূহে বিশ্বাসের গুরুত্ব
(Importance of Fundamental Articles of Faith) আমাদের দেশের একজন প্রসিদ্ধ কবি মুনীর নায়াজীর মন্তব্য, 'আমি সুন্দরবনে গিয়েছিলাম। সেখানকার গাছ-গাছালির সাথে কথা বলে নিজের ভিতর এক আশ্চর্যজনক সুন্দর অনুভূতি অনুভব করেছি। আমার অন্য সাথীবর্গ এ অনুভূতি অনুভব করতে পারে নি।' সুতরাং বুঝা গেল, একই পরিবেশে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকমের অনুভূতি লাভ করতে পারে। মানুষের বিশ্বাস অনুপাতে মনের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। বিশ্বাস মানুষের জ্ঞান, অনুভূতি এবং চিন্তাকে সেভাবেই প্রভাবিত করে, যেভাবে মানুষের আবেগ ও বিভিন্ন আত্মিক অবস্থার সৃষ্টি করে। দোয়া বিশ্বাস অনুযায়ী বাহ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে পরিবর্তনের কারণ হয়। যে বিশ্বাস পোষণ করে দোয়া করলে সেই দোয়া বাহ্যিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে নিজের চাহিদানুযায়ী পরিবর্তন করে নেয়, সে বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলাকে একক, লা-শরীক, অমুখাপেক্ষী এবং মুসাব্বিবুল আসবাব মেনে নিতে হবে। এ বিশ্বাসের বাস্তবতা প্রকাশ করার জন্য জরুরি হল তাকওয়া অবলম্বন করা, পরহেযগার হওয়া। কারণ রুহানী জীবন শুধু চিন্তা-ভাবনা পর্যন্ত সীমিত নয়। এটি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা। রুহানী জীবনের উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তা'আলার মর্জি মাফিক জীবন যাপন করা এবং তদনুযায়ী মানবীয় সাফল্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। এটা শুধু চিন্তার পদ্ধতিই নয়। আমল করারও পদ্ধতি। যখন কোন মানুষের পর-জীবনের মঙ্গল ছাড়া অন্য কিছুর আকাঙ্ক্ষা থাকে না, এবং যা কিছু চায় আল্লাহর জন্যই চায়, তখন সে সর্বোচ্চ প্রশান্তি, আনন্দ ও নিরাপত্তা লাভ করে।
📄 আল্লাহ তা‘আলার এরশাদ (Command of Allah, Almighty)
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— (আমি ব্যতীত) সে কে (?), যে অস্থির চিত্তের আহ্বানে সাড়া দিবে? (সূরাতুন নমল)
আল্লাহ তা'আলা দয়ালু এবং রহমকারী। তিনি বান্দাদেরকে আরও বলেছেন, রহমত থেকে নিরাশ হওয়া গুনাহ বা অপরাধ। আল্লাহ তা'আলার সত্তার প্রকাশই তাঁর গুণাবলী এবং রহমতের উৎস। যদি আমরা তাঁর রহমতের শুকরিয়া আদায় না করি, তাহলে এর অর্থ হল তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। যদিও মানুষ মুখে মুখে তাওহীদ স্বীকার করে কিন্তু কর্মে তা প্রকাশ পায় না। তারপরও এটা আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকারোক্তির একটি অংশ। আমাদের উচিৎ হলো আমরা আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনার বিষয়টিকে মুখে ও অন্তরে স্বীকার করব, এবং আমল দ্বারা এ স্বীকারোক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাব। আমরা যদি তাঁকে দয়ালু বলে স্বীকার করি, তাহলে মানতেই হবে যে, তিনি সবসময়, সর্বাবস্থাতেই একনিষ্ঠ মনের তওবা এবং ব্যাকুল চিত্তে প্রার্থিত দোয়া কবুল করেন।
তবে স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলা বান্দার কল্যাণকে সামনে রেখেই কখনো কখনো কিছু সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কবুলকৃত দোয়ার ফলাফল প্রকাশ করেন। আবার তিনি কখনো কখনো দোয়ার প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখেন। যে সব সমস্যা দূর করার জন্য আমরা প্রার্থনা করি, সেগুলোর সমাধান না হওয়ার অর্থ এ নয় যে, আমাদের দোয়া কবুল হয়নি। কখনো কখনো আল্লাহ তা'আলাই বান্দাকে পরীক্ষা করেন যে তাঁর বান্দা কিরূপ ধৈর্য ধারণকারী এবং শোকরগুজার, তার ঈমান ও তাকওয়া কি পরিমাণ অটল।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'সমুদ্রে চলমান পর্বতসম জাহাজসমূহ আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন। যদি আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছে করেন, তবে বাতাসের প্রবাহ বন্ধ করে জাহাজকে সাগর বুকে স্থির করে দিতে পারেন। এতে ধৈর্যশীল এবং শোকরগুজার বান্দাদের জন্য যথেষ্ট শিক্ষা রয়েছে। কিংবা তিনি মুসাফিরদেরকে তাদের বদ আমলের কারণে ডুবিয়ে দেন। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা অধিকাংশ লোকদের ক্ষমা করে দেন।' (সূরাতুশ শূরা)