📄 নিয়তের প্রভাব
হযরত যায়েদ ইবনে মাইসারা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত আছে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, 'আমি যে কোন জ্ঞানী ব্যক্তির দোয়াই কবুল করি না; বরং তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও চিন্তা-চেতনা লক্ষ্য করি। যদি তার উদ্দেশ্য হয় আমার সন্তুষ্টি অর্জন, তাহলে তার নীরবতাকে তত্ত্বানুসন্ধান এবং কথাকে আমার স্মরণ বানিয়ে দেই।'
📄 নেককার লোকদের কতিপয় বাণী Few Statements of Good People
আওন ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, সৎকর্মশীলগণ পরস্পরকে তিনটি লিখিত বাক্য উপহার দেন। ১. যে ব্যক্তি আখেরাতের জন্য আমল করবে, আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়ায় তার তত্ত্বাবধান করেন। ২. যে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধি অর্জন করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার বাহ্য অবস্থাকে সুন্দর করে দেন। ৩. যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তার মধ্যেকার সম্পর্ক যথাযথভাবে স্থাপন করে, আল্লাহ্ তা'আলাও মানুষ ও তার মধ্যেকার সম্পর্ক ঠিক করে দিবেন।
হযরত সাহাল ইবনে সাদ সায়েদী রাযি. কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন 'মুমিনের নিয়ত মুমিনের আমল থেকেও উত্তম। মুনাফিকের কর্ম মুনাফিকের নিয়ত অপেক্ষা উত্তম। আর নিয়তের সাথেই আমলের সম্পর্ক।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ রাযি কর্তৃক বর্ণিত, নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের বাহ্য অবস্থা দেখেন না, তোমাদের ধন-সম্পদও দেখেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মসমূহ দেখেন।'
এক হাদীসে বর্ণিত আছে, নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা জেনে রাখ, দ্বীন হলো নসীহতেরই নাম।' সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, 'কার জন্য?' উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং সমস্ত মুমিনের জন্য।"
হযরত ফকীহা রাযি. বলেন, 'নিজে আল্লাহর উপর ঈমান রাখবে। মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করবে এবং এই আশা অন্তরে পোষণ করবে যে সব মানুষ দ্বীনদার হোক।'
📄 অশুদ্ধ নিয়ত, রেস্টুরেন্ট এবং ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞ
প্যারাসাইকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. ল্যাড বেটার বলেন, 'হোটেলের খানা কখনো স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে না। কারণ মালিকের নিয়ত হলো গ্রাহকের পকেট থেকে অধিক পরিমাণ টাকা উপার্জন করা। আমার গবেষণা মতে, হোটেলের খাবার কখনো বরকতময় ও স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে না।- (তাসউয়ারাতে ইসলাম)
📄 রাশিয়ানদের এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা (A valuable Russian Research)
ভারতে ডাক্তার বা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে 'হাতযশ' নামে একটা বিশেষ বাগধারা প্রচলিত। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মানবদেহে গবেষণা চালিয়ে ভারতীয় এই বাগধারার রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছেন। কয়েক বছরের গবেষণায় তারা এই বাগধারা প্রচলনের কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তার মূলকথা হলো -
যে সব চিকিৎসকের নিয়ত 'রোগীর রোগ মুক্তি', তাদের দেহ-নিঃসৃত এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি (Invisible Rays) রোগীর দেহে প্রবেশ করে। এই রশ্মির ইতিবাচক কার্যকারিতায় রোগীর আরোগ্য লাভ ত্বরান্বিত হয়। পক্ষান্তরে চিকিৎসকদের মধ্যে যাদের নিয়ত 'অর্থ উপার্জন' বা 'সুখ্যাতি লাভ', তাদের দেহ নিঃসৃত অদৃশ্য রশ্মিগুলো নেতিবাচক গুণ সম্পন্ন। অদৃশ্য রশ্মির এই কু-প্রভাবে রোগমুক্তির তো ঘটেই না; বরং আরেকটি ব্যাধি সৃষ্টি করে।-(হামদর্দ বার্তা অবলম্বনে)