📄 সুনিদ্রা অর্জন কিভাবে সম্ভব
অনিদ্রা নামের এ সমস্যা শুধু এই আধুনিক যুগের সমস্যা নয়। বহু শতাব্দী ধরেই মানুষ এর শিকার। ডাক্তার, হেকিম, কবিরাজ সুনিদ্রা উপভোগের জন্য যে সব নিয়ম প্রবর্তন করেছেন আমরা তা উল্লেখ করছি। নিঃসন্দেহে এর মধ্য থেকে দু একটি আপনারও কাজে আসতে পারে।
১. রাতের বেলায় দুষ্পাচ্য খানা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চর্বিযুক্ত খাবার যত সম্ভব কম খাবেন। এতে আপনার পরিপাক ও স্নায়ুতন্ত্রকে কম কাজ করতে হবে এবং আপনার মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অবসর পাবে।
২. একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো অভ্যাসে পরিণত করুন এবং সে অনুযায়ী আমল করুন। একবার অভ্যাসে পরিণত হওয়ার পর আর অন্য সময় ঘুমাবেন না। কেননা তাতে আপনার নিদ্রা নষ্ট হবে এবং অভ্যাসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে।
৩. সন্ধ্যা বেলায় হালকা ব্যায়াম অথবা রাতের খানার পর সামান্য ভ্রমণ করাকে দৈনন্দিন কর্মতালিকায় স্থান দিন। এতে আপনি কর্মক্ষম এবং সতেজ থাকবেন।
৪. নেশা জাতীয় দ্রব্য এবং ঔষধাদি মোটেই ব্যবহার করবেন না। যদি আগের অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করা সম্ভব না হয়, তবে কমপক্ষে সন্ধ্যার পর থেকে এ সব হতে সম্পূর্ণ দূরে থাকবেন।
৫. যদি সম্ভব হয়, ঘুমানোর আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। ঢিলে ঢালা পাতলা সুতি কাপড় পরে শয়ন করুন।
৬. ঘুমানোর জন্যে রোদ, আলো, শোরগোল ইত্যাদির প্রতি লক্ষ রেখে শান্ত ও নিরিবিলি ঘর বেছে নিন।
৭. নিদ্রা না আসা পর্যন্ত বিছানায় শুয়ে চিত্তাকর্ষক কিন্তু উত্তেজক নয় এমন বই পড়ুন করুন।
📄 গবেষণায় মূল কথা
ইসলামী শিক্ষা এবং ইউরোপীয় গবেষকের উল্লেখিত মতামত তুলনা করলে এ কথাটি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, ইউরোপীয় গবেষক গবেষণার পরে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তার সাথে ইসলামী শিক্ষার মিল রয়েছে। ইসলামী শরীয়তে নেশা হারাম। গবেষকগণও নেশা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। রাতের বেলায় তাড়াতাড়ি শয়ন করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। ইউরোপীয় গবেষক তার উপর জোর দিয়েছেন। কম খাওয়া রাসূলের সুন্নাত। ইউরোপীয় গবেষকও বেশি খেতে নিষেধ করেছেন। আর ঘুম থেকে উঠা, নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভ্রমণের জন্য কখনো কখনো বাগানে যাওয়াকেও সেই গবেষক সুস্থতার মহৌষধ বলে উল্লেখ করেছেন।
📄 শোয়ার প্রস্তুতি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভুক্ত পেটে শয়ন করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, অভুক্ত পেটে শয়নকারী তাড়াতাড়ি বার্ধক্যে পৌঁছে। বর্তমানে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা ষোল আনায় সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ডাক্তাররা পাকস্থলীর আলসার রোগীদেরকে শোয়ার পূর্বে এক গ্লাস দুধ, পানি ইত্যাদি পান করার উপদেশ দেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, 'শোয়ার পূর্বে হাত ধুয়ে নিবে। তাহলে তৈলাক্ত কিছু হাতে লেগে থাকার কারণে কীট-পতঙ্গ শরীরে দংশন করতে পারবে না।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, শোয়ার পূর্বে অজু করবে। বস্তুত রাতে শোয়ার পূর্বে মুখমন্ডল ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করা অতি প্রয়োজনীয়। অন্যথায় দিনে কাজ কর্মের সময় শরীরে লাগা ধুলা-বালি ও বিভিন্ন জীবাণু শরীরের লোম কূপে একত্রিত হয়ে ত্বক নষ্ট করে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুরূপভাবে শোয়ার পূর্বে মিসওয়াক করার কথা হাদীস শরীফে এসেছে। ডাক্তারি দৃষ্টিকোণ থেকেও শোয়ার পূর্বে মিসওয়াক করার বিষয়টিও বিরাট গুরুত্ববহ। কেননা মুখ অপরিষ্কার থাকলে মুখের ভিতর জীবাণু বৃদ্ধি পেয়ে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। নামাজের সময় সম্বন্ধে যদি গবেষণা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে, মানুষের কাজ ও আরামের প্রতি লক্ষ্য রেখে এ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফজর ও যোহরের নামাযের মাঝে এতটুকু সময়ের ব্যবধান রাখা হয়েছে যাতে মানুষ প্রত্যহিক কাজ কর্ম অনায়াসে সম্পন্ন করতে পারে। তদ্রূপ এশা ও ফজর নামাযের মাঝে এতটুকু সময় বিরতি রাখা হয়েছে যেন নিদ্রা ও আরামও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে। অযুতে মাথা ও গর্দান মাসাহ করার বিধানও রয়েছে। এতে করে সেখানে বিদ্যমান জীবাণু দূর হয়। মাথা ও গর্দানকে সজীব অনুভূত হয়। ফলে ইবাদতে একাগ্রতা সৃষ্টি হয়।
📄 শোয়া সম্পর্কে কয়েকটি উপদেশ
কুরআন সুন্নাহ থেকে শয়ন করার ব্যাপারে নিম্নোক্ত উপদেশ পাওয়া যায়:
১. ঘুমের জন্য রাতকে নির্দিষ্ট করা। তবে দুপুরে কিছু সময় বিশ্রাম করাতে কোন অসুবিধা নেই।
২. রাতে তাড়াতাড়ি শয়ন করা ও সকালে তাড়াতাড়ি উঠার অভ্যাস গড়ে তোলা।
৩. বিছানা এতো অধিক নরম না হওয়া যে বিছানা থেকে উঠতে মন চায়না। আবার এতো অধিক শক্ত না হওয়া যে ঘুমই আসে না।
৪. অভুক্ত পেটে না ঘুমানো।
৫. শয়ন করার আগে মিসওয়াক কিংবা ব্রাশ করা।
৬. শোয়ার পূর্বে হাত ও মুখমন্ডল ধুয়ে নেওয়া।
৭. নেশা সৃষ্টিকারী অথবা নিদ্রা আনয়নকারী ঔষধ সেবন করা থেকে বিরত থাকা।