📄 রাতে বিলম্বে ঘুমানো
আল্লাহ তা'আলা জীবন ধারণের জন্য রীতিনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মানুষের স্বভাবগত কর্মকাণ্ডও এসব নীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখে। দিনকে কাজ করার এবং রাতকে আরাম করার উপযোগী করা হয়েছে। এটিই জীবন-যাপনের সর্বোত্তম মূলনীতি। অধিকাংশ সময় দেখা যায় মানুষ রাতে দেরিতে ঘুমাতে যায়। কিন্তু সকালে আগে উঠার চেষ্টা করে। এ ধরনের লোক সাধারণত অস্বস্তিকর এবং অলস জীবন কাটায়। মাশাআল্লাহ আমরা মুসলমান। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিটি কথা আমাদের জন্য পালনীয়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, 'রাতে দ্রুত শয়ন করা আর প্রত্যুষে তাড়াতাড়ি শয্যা ত্যাগ করা সর্বোত্তম আমল।' বাস্তবতাও তাই।
📄 খাদ্য
আপনি কোন নৈশ ভোজনে গেলেন। খানা আপনার রুচি মাফিক ছিল। সুতরাং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেলেন, পরিণতির কথা বিবেচনা করলেন না। পানি পান করার কথাও মনে পড়েনি। প্লেট ছেড়ে দেওয়ার কল্পনাও আসেনি। এরপর ঘরে আসলেন। এবার শোবার পালা। কিন্তু ঘুম আসল না। তখন কোন ঘুমের ঔষধের শরণাপন্ন হলেন। এতে সামান্য স্বস্তি ফিরে আসল। পরের দিন রাতের খানার ব্যবস্থা নিজ বাড়িতেই হলো। খানা পূর্ব দিনের ন্যায় রুচিসম্মত ছিল না। তাই বেশি খাওয়া হলো না। সামান্য খেয়ে শোবার জন্য চলে গেলেন। এমতাবস্থায় পেট ফরিয়াদ করছে আর আপনি ঘুমানোর চেষ্টা করছেন— এ ধরনের অনিয়ম ভুলেও করবেন না। ক্যাফিনের (চা এবং কফিতে পাওয়া যায়) সীমাতিরিক্ত ব্যবহারও অনিদ্রার কারণ। ভাল ঘুমের জন্য সতর্কতা এবং সংযত চিত্ততার সাথে কাজ করা চাই।
📄 বিবিধ কারণ
শোবার ঘরের অতিরিক্ত আলো, বেশি অন্ধকার, উচ্চ শব্দ, অস্বস্তিকর তাপীয় অবস্থা যেমন— অত্যন্ত ঠাণ্ডা অথবা গরম, এ সব বিষয় বিবিধ কারণে র অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শোবার ঘর শান্তিময় থাকলে সুনিদ্রা উপভোগ করা সহজ হয়।
📄 সুনিদ্রা অর্জন কিভাবে সম্ভব
অনিদ্রা নামের এ সমস্যা শুধু এই আধুনিক যুগের সমস্যা নয়। বহু শতাব্দী ধরেই মানুষ এর শিকার। ডাক্তার, হেকিম, কবিরাজ সুনিদ্রা উপভোগের জন্য যে সব নিয়ম প্রবর্তন করেছেন আমরা তা উল্লেখ করছি। নিঃসন্দেহে এর মধ্য থেকে দু একটি আপনারও কাজে আসতে পারে।
১. রাতের বেলায় দুষ্পাচ্য খানা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চর্বিযুক্ত খাবার যত সম্ভব কম খাবেন। এতে আপনার পরিপাক ও স্নায়ুতন্ত্রকে কম কাজ করতে হবে এবং আপনার মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অবসর পাবে।
২. একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো অভ্যাসে পরিণত করুন এবং সে অনুযায়ী আমল করুন। একবার অভ্যাসে পরিণত হওয়ার পর আর অন্য সময় ঘুমাবেন না। কেননা তাতে আপনার নিদ্রা নষ্ট হবে এবং অভ্যাসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে।
৩. সন্ধ্যা বেলায় হালকা ব্যায়াম অথবা রাতের খানার পর সামান্য ভ্রমণ করাকে দৈনন্দিন কর্মতালিকায় স্থান দিন। এতে আপনি কর্মক্ষম এবং সতেজ থাকবেন।
৪. নেশা জাতীয় দ্রব্য এবং ঔষধাদি মোটেই ব্যবহার করবেন না। যদি আগের অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করা সম্ভব না হয়, তবে কমপক্ষে সন্ধ্যার পর থেকে এ সব হতে সম্পূর্ণ দূরে থাকবেন।
৫. যদি সম্ভব হয়, ঘুমানোর আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। ঢিলে ঢালা পাতলা সুতি কাপড় পরে শয়ন করুন।
৬. ঘুমানোর জন্যে রোদ, আলো, শোরগোল ইত্যাদির প্রতি লক্ষ রেখে শান্ত ও নিরিবিলি ঘর বেছে নিন।
৭. নিদ্রা না আসা পর্যন্ত বিছানায় শুয়ে চিত্তাকর্ষক কিন্তু উত্তেজক নয় এমন বই পড়ুন করুন।