📄 কল্পনা এবং ঔষধাদি
কল্পনা এবং ঔষধাদি সুনিদ্রার দুশমন। এটি আপনার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। কারণ এখানে ঐ সব ঔষধের কথাই বলা হচ্ছে যেগুলো সাধারণত সুনিদ্রার জন্য ব্যবহার করা হয়। নিদ্রার ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই যারা এ ঔষধগুলো ব্যবহার করে না। এ বিষয়ে নিম্নোক্ত একজন প্রসিদ্ধ চিকিৎসকের গবেষণা তুলে ধরা হলো:
📄 ডাক্তার স্মিথের বিশ্লেষণ
ডাক্তার স্মিথ মার্টন আমেরিকান মনস্তত্ব দপ্তরের পরিচালক। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিদ্রার জন্য বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহার করতে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার নিদ্রার পথে কেবল বাধা সৃষ্টি করতে থাকবেন।'
ডাক্তার স্মিথের এ কথাটি ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ এবং বাস্তব অবস্থাও তাই। এ অভিমত থেকে নানারূপ কল্পনা এবং ঔষধাদির ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়। বলতে গেলে অধিকাংশ ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের মত হলো, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনো ঔষধ ব্যবহার না করা। নানা রূপ কল্পনা এবং ঔষধাদির খারাপ প্রতিক্রিয়া বুঝার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, এগুলো এক দিকে আপনার স্নায়ুকে খুব দ্রুত প্রভাবিত করে, অন্য দিকে আপনার ঘুমের প্রয়োজনীয়তাকে বাড়িয়ে দেয়। অথচ এ দ্বিতীয় কাজটি বর্তমান ব্যস্ততা এবং প্রতিযোগিতার যুগে সম্ভব নয়। এখন বলুন, আপনি আরাম করবেন, না বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করবেন?
📄 মাদক দ্রব্যের ব্যবহার
মাদক দ্রব্যের ব্যবহার এতই দ্রুতগতিতে বাড়ছে যে, এর বৃদ্ধির গতি পেছনের কয়েক দশকের সীমাকে অতিক্রম করে গেছে। মাদক দ্রব্যের সংজ্ঞায় ধূমপান থেকে শুরু করে মদ, কোকেন, ভাং, মেন্ডস, হিরোইন সহ সব ধরনের নেশা উদ্রেককারী দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত। ধূমপান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা হলো এটি মাদক দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটা একটি ভুল ধারণা। মানুষের এ ভুল ধারণার ফলেই আজকে অন্য কোন মাদক দ্রব্য ধূমপানের মত এত বেশি ব্যবহৃত হয় না। বাস্তব কথা হলো ধূমপান একটি ক্ষতিকর নেশা। এটা মিছরির ছুরির ন্যায় কাজ করে।
ধূমপান কয়েকটি ক্ষতিকর উপাদানের সমষ্টি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিকোটিন। এ নিকোটিন সম্পর্কে আপনারা হয়তো সবাই অবগত। বিশেষজ্ঞরা নিকোটিনকে অল্প শব্দে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে একে 'বিষ' বলে মত প্রকাশ করেছেন। ধূমপান স্নায়ুতন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং আস্তে আস্তে অনিদ্রা দেখা দেয়। অনেক সময় এরকম হয় যে, প্রবল নেশা অত্যন্ত আনন্দের ঘুমকেও নষ্ট করে দেয়। এটি শুধু সিগারেটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়; বরং দুনিয়ার সব ধরনের নেশাই চিন্তাশক্তি নির্ভর কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলে এবং মস্তিষ্ককে নেতিবাচক পথে দিক-নির্দেশনা দেয়।
📄 রাতে বিলম্বে ঘুমানো
আল্লাহ তা'আলা জীবন ধারণের জন্য রীতিনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মানুষের স্বভাবগত কর্মকাণ্ডও এসব নীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখে। দিনকে কাজ করার এবং রাতকে আরাম করার উপযোগী করা হয়েছে। এটিই জীবন-যাপনের সর্বোত্তম মূলনীতি। অধিকাংশ সময় দেখা যায় মানুষ রাতে দেরিতে ঘুমাতে যায়। কিন্তু সকালে আগে উঠার চেষ্টা করে। এ ধরনের লোক সাধারণত অস্বস্তিকর এবং অলস জীবন কাটায়। মাশাআল্লাহ আমরা মুসলমান। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিটি কথা আমাদের জন্য পালনীয়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, 'রাতে দ্রুত শয়ন করা আর প্রত্যুষে তাড়াতাড়ি শয্যা ত্যাগ করা সর্বোত্তম আমল।' বাস্তবতাও তাই।