📄 ঘুম না আসার প্রধান কারণসমূহ
আমি পূর্বে লিখেছি যে, বিশেষজ্ঞদের মতে ঘুম না আসার কারণ বহু। সাথে সাথে তারা একথাও বলেন যে, প্রত্যেক জিনিসের যেমন কান না কোন মূল থাকে এবং এই মূলই অসংখ্য শাখা প্রশাখার উৎস, তেমনই ঘুম না আসারও বহুসংখ্যক কারণের মাঝে একটি মূল কারণ রয়েছে এবং অন্যান্য কারণগুলো এই মূল কারণেরই বিভিন্ন শাখা। বিশেষজ্ঞরা নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলোকে ঘুম না আসার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:
📄 শারীরিক অবসাদ
শারীরিকভাবে ক্লান্ত ব্যক্তি কেবল সুনিদ্রা নয়; বরং ন্যূনতম ঘুম থেকেও বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। কেননা ঘুমানো এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া মনের প্রভাবাধীন। যখন শরীর খুব ক্লান্ত থাকে তখন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক সে বার্তা পেয়ে যায় এবং এর প্রতিক্রিয়া নিদ্রাহীনতার আকারে প্রকাশ পায়। শরীরের কোন অংশে ব্যথা লাগলে পুরো মনোযোগ সে দিকে নিবন্ধ হয়। ফলে নিদ্রা আসতে চায় না। বিশেষত শ্বাস কষ্ট এবং পায়ের ব্যথা সুনিদ্রার জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে।
📄 কল্পনা এবং ঔষধাদি
কল্পনা এবং ঔষধাদি সুনিদ্রার দুশমন। এটি আপনার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। কারণ এখানে ঐ সব ঔষধের কথাই বলা হচ্ছে যেগুলো সাধারণত সুনিদ্রার জন্য ব্যবহার করা হয়। নিদ্রার ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই যারা এ ঔষধগুলো ব্যবহার করে না। এ বিষয়ে নিম্নোক্ত একজন প্রসিদ্ধ চিকিৎসকের গবেষণা তুলে ধরা হলো:
📄 ডাক্তার স্মিথের বিশ্লেষণ
ডাক্তার স্মিথ মার্টন আমেরিকান মনস্তত্ব দপ্তরের পরিচালক। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিদ্রার জন্য বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহার করতে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার নিদ্রার পথে কেবল বাধা সৃষ্টি করতে থাকবেন।'
ডাক্তার স্মিথের এ কথাটি ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ এবং বাস্তব অবস্থাও তাই। এ অভিমত থেকে নানারূপ কল্পনা এবং ঔষধাদির ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়। বলতে গেলে অধিকাংশ ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের মত হলো, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনো ঔষধ ব্যবহার না করা। নানা রূপ কল্পনা এবং ঔষধাদির খারাপ প্রতিক্রিয়া বুঝার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, এগুলো এক দিকে আপনার স্নায়ুকে খুব দ্রুত প্রভাবিত করে, অন্য দিকে আপনার ঘুমের প্রয়োজনীয়তাকে বাড়িয়ে দেয়। অথচ এ দ্বিতীয় কাজটি বর্তমান ব্যস্ততা এবং প্রতিযোগিতার যুগে সম্ভব নয়। এখন বলুন, আপনি আরাম করবেন, না বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করবেন?