📄 চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং মনোরোগ বিদ্যার উৎকর্ষ
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং মনোরোগ বিদ্যা উভয়টিই এমন উন্নতি লাভ করেছে যে, হাতে গোনা কয়েকটি রোগ ব্যতীত সব রোগই চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। অনিদ্রা চিকিৎসাতীত রোগ নয়। এর সম্পর্ক রয়েছে মানসিক প্রশান্তি এবং স্থিরতার সাথে। তাই এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ধৈর্যের কাজ। অনিদ্রার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিটি রোগীর প্রতি পৃথক দৃষ্টি রাখতে হয়। মস্তিষ্ক পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া অগণিত সম্ভাব্য কারণ হতে বিশেষ একটিকে চিহ্নিত করার জন্য প্রত্যেকটি কারণকে আলাদা আলাদা পরীক্ষা করে দেখা হয়।
📄 অনিদ্রার স্তর
বিশেষজ্ঞরা অনিদ্রার শ্রেণীবিন্যাসও করেছেন। অনিদ্রা একেবারে সাধারণ ধরনের হতে পারে। আবার জটিল ধরনেরও হতে পারে। যদি আপনার বাসস্থান রেলওয়ে স্টেশনের ধারে কাছে কোথাও হয়, তবে আপনার অনিদ্রা একেবারে সাধারণ ধরনের। অনুরূপ কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুর সাথে ঝগড়ার কারণে অথবা আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনাকে কঠোর ভাষায় কিছু বলেছেন হেতু রাত ভর জাগ্রত থাকা মূলত অনিদ্রা নয়; বরং অস্থিরতা।
তবে কেউ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে অনিদ্রায় ভুগে তবে এটাকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। আপনার এ অনিদ্রার কারণ হলো হয়তো আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ নন। আপনি কোন রোগে আক্রান্ত অথবা আপনার স্ত্রী/স্বামীর সাথে ঝগড়া লেগেই থাকে। কিংবা আপনি বেকারত্বে ভুগছেন ইত্যাদি। অন্য আরেকটি কারণ (যা অধিকাংশ ছাত্রদের মধ্যে পাওয়া যায়) হলো পরীক্ষার ভয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিদ্রার এ কারণটি এমন বিপজ্জনক নয় যে, এ নিয়ে বেশি চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বাস্তব কথা হলো, এমন অনিদ্রা যা আপনাকে মাসের পর মাস অথবা বছরের পর বছর শান্তির ঘুম থেকে বঞ্চিত রাখে, মূলত সেটিই অনিদ্রার চরম অবস্থা। আর এ অনিদ্রাই এমন সূক্ষ্ম বিষয় যা ডাক্তার, মনস্তত্ত্ববিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে।
📄 আপনার কতটুকু নিদ্রার প্রয়োজন : বিশেষজ্ঞদের গবেষণা
অনেক বৎসরের পরীক্ষা ও সব বয়সের মানুষের উপর গবেষণার পর বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন যে, আমাদের সুনিদ্রা ও পর্যাপ্ত তথা মধ্যম পরিমাণ নিদ্রার প্রয়োজন। নিম্নবর্ণিত তালিকায় বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এ তালিকা থেকে নিজের বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় নির্বাচন করা এবং তার উপর আমল করার পুরোপুরি চেষ্টা করা।
আপনার বয়স — নিদ্রার প্রয়োজন
দশ বছরের কম — ৯ ঘন্টা থেকে ১২ ঘন্টা।
দশ থেকে বিশ বছরের মধ্যে — ৭ ঘন্টা থেকে ৮ ঘন্টা।
বিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যে — ৬ ঘন্টা থেকে ৭ ঘন্টা।
ত্রিশ বছরের বেশি — ৬ ঘন্টা থেকে ৫.৬ ঘন্টা।
📄 ঘুম না আসার প্রধান কারণসমূহ
আমি পূর্বে লিখেছি যে, বিশেষজ্ঞদের মতে ঘুম না আসার কারণ বহু। সাথে সাথে তারা একথাও বলেন যে, প্রত্যেক জিনিসের যেমন কান না কোন মূল থাকে এবং এই মূলই অসংখ্য শাখা প্রশাখার উৎস, তেমনই ঘুম না আসারও বহুসংখ্যক কারণের মাঝে একটি মূল কারণ রয়েছে এবং অন্যান্য কারণগুলো এই মূল কারণেরই বিভিন্ন শাখা। বিশেষজ্ঞরা নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলোকে ঘুম না আসার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন: