📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাত্রিকালীন বিশ্রাম (Rest of Night)

📄 রাত্রিকালীন বিশ্রাম (Rest of Night)


রাতের আহারের পর শরীর দীর্ঘ সময় বিশ্রাম গ্রহণের সুযোগ পায়। এই বিশ্রামে শরীরের সব অঙ্গ শিথিল হয়ে যায়। এ সময় শরীরের অঙ্গগুলো কার্যকর রাখতে খুব সামান্য পরিমাণই শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণেই রাত্রি বেলা উপচিতি (Metabolism) তথা শরীরের ক্ষয় পূরণ ও গঠনমূলক বিপাকীয় কার্যক্রম বেশি হয়। রাত্রি বেলায় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো খাদ্য থেকে প্রাপ্ত তাপ শক্তির খুব সামান্য অংশই ব্যবহার করে। ফলে এ সময় শরীরে তাপের চাহিদাও কম থাকে। রাত্রি বেলায় পায়চারি করলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যে হালকা নড়ন-চড়ন হয়, এতে কিছুটা হলে তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে রাতের বিশ্রামের সময় যে সামান্য পরিমাণ তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়, সেই তাপশক্তির সাথে এই সময় ব্যয়িত তাপশক্তি মিলিত হয়ে তাপ শক্তি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাম্য বজায় থাকে। এ ছাড়া পায়চারি করলে খাদ্য পাকস্থলি থেকে অন্ত্রে চলে যায়। ফলে পাকস্থলির বোঝা হালকা হয় এবং শোয়ার সময় কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। আর যদি পাকস্থলি ভর্তি থাকে, তাহলে অজীর্ণ ও শ্বাস কষ্ট হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত রাতের খাবার মাগরিবের পরই খেতেন। তাছাড়া খাওয়ার পর পায়চারি করতেন ও এশার নামাযে রাকাত সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে তা হজম শক্তিকে সহায়তা করে। আজও যে সব সকল পরিবারে মাগরীবের পরপরই খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তারা সুখ-শান্তিতে আছে। মোটকথা, পরিপাকতন্ত্রের যথাযথ কার্যক্রমের উপর শরীরের সুস্থতা নির্ভরশীল। আর পরিপাকতন্ত্র কার্যক্ষম রাখার খুঁটি-নাটি নিয়ম-প্রণালী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন।

একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মামা হযরত সা'দ বিন ওয়াক্কাস রাযি. এর বুক ও বাম বাহুতে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়। এমনকি সেই ব্যথা কাঁধের পেছনের দিক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাথায় বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দেয়। শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। তার রোগের এই লক্ষণগুলোকে বর্তমান মেডিকেল সায়েন্সে কণ্ঠনালীর প্রদাহ (Angina) বলা হয়। সাহাবায়ে কেরাম তাকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনলে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্ত মুবারক তার উভয় কাঁধের মাঝে রাখলেন। সাথে সাথে তার ব্যথা উপশম হল এবং তিনি স্বস্তি ফিরে পেলেন। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আজোয়া (উৎকৃষ্ট প্রজাতির খেজুর) ও আজোয়া এর বিচি থেকে তৈরি আটা খাওয়ার উপদেশ দিলেন। হযরত সা'দ রাযি. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপদেশ মেনে চলে অল্প দিনেই পূর্ণ আরোগ্য লাভ করলেন। তিনি আমৃত্যু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই ব্যবস্থাপত্র অনুসারে কাজ করেছেন। তিনি কাদেসিয়ার যুদ্ধে বিজয়ের মহা গৌরব লাভ করেন এবং দীর্ঘ হায়াত পেয়ে ইহকাল ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য যে, আজোয়া না পাওয়া গেলে অন্য খেজুর মিললেও ইনশাআল্লাহ এই উপকার হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00