📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কুস্তিগীরদের জীবন (Problem of Wrestler)

📄 কুস্তিগীরদের জীবন (Problem of Wrestler)


পেশাদার কুস্তিগীরদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যতদিন পর্যন্ত তারা পেশায় ব্যস্ত থাকে, সুস্থ থাকে। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর ব্যায়াম ছেড়ে দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের জীবন সংক্ষিপ্ত হয়। বিভিন্ন রেকর্ডে দেখা যায়, যে কুস্তিগীর শেষ বয়স পর্যন্ত মেহনত করতে থাকে, সে দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত জীবিত থাকে। ব্যায়াম করলে কুস্তিগীরদের বয়স কমে না; বরং শেষ বয়সের অলসতা তাদের জীবনকে সংক্ষেপ করে। যে সব লোক ফ্ল্যাটে অথবা উপর তলায় থাকে তাদের ওঠা-নামা করাও একটি ব্যায়াম। সিঁড়িতে ওঠা-নামা করা অথবা পাহাড় কিংবা টিলার উপর চলাফেরা করা, সমতল ভূমিতে চলাফেরা করার চেয়ে শরীরকে অনেক বেশি আন্দোলিত করে। এ কারণে উপর তলার বাসিন্দাদের ওঠা-নামা করাকে মুসিবত মনে করা উচিৎ নয়। এটাকে ব্যায়াম মনে করে এ থেকে উপকৃত হওয়া উচিৎ।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ব্যায়ামের উপকারিতা (Importance of Exercise)

📄 ব্যায়ামের উপকারিতা (Importance of Exercise)


ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বোঝানোর জন্যে বিশদ আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। যুবা-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ এবং সুস্থ-অসুস্থ সকলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়াম আছে এবং এই আলাদা আলাদা ব্যায়ামই তাদের শারীরিক অবস্থার জন্য প্রযোজ্য। মস্তিষ্কের কাজে ব্যস্ত লোকদের জন্য ব্যায়াম অত্যাবশ্যক। সকালের উন্মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি করা তাদের ব্রেনকে সজীব, সজাগ এবং পরিচ্ছন্ন করতে যথেষ্ট সহায়ক। (হেলথ এন্ড নিউ জেনারেশন)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নেয়া (Mid-Day Nap)

📄 দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নেয়া (Mid-Day Nap)


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: দুপুরের খাওয়ার পর কিছু সময় বিশ্রাম নাও এবং রাতে খাওয়ার পর পায়চারি কর। আলোচ্য হাদীসটি মানব স্বভাব ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। খানা খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পরিপাকে সহায়তা করার জন্য পাকস্থলিতে জমা হয়। খাবার যথাযথভাবে পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হতে অনেকগুলো স্তর পাড়ি দিতে হয়। আর রক্তের এই পাকস্থলি-মুখিতার কারণে শরীর দুর্বল ও তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হয়। অবশ্য এই দুর্বলতা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকরই প্রমাণিত হয়। কিছু সময় নিদ্রা যাওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাঁধা-ধরা কাজগুলো করার সুযোগ পায় এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি সতেজ প্রাণ-প্রাচুর্য নিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়। দ্বিতীয় উপকারিতা হলো দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করার প্রয়োজন হয়। তাই খাওয়ার পরপরই কিছু সময় বিশ্রাম নিলে শরীর পুনরায় প্রাণবন্ত হয়। ফলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাত্রিকালীন বিশ্রাম (Rest of Night)

📄 রাত্রিকালীন বিশ্রাম (Rest of Night)


রাতের আহারের পর শরীর দীর্ঘ সময় বিশ্রাম গ্রহণের সুযোগ পায়। এই বিশ্রামে শরীরের সব অঙ্গ শিথিল হয়ে যায়। এ সময় শরীরের অঙ্গগুলো কার্যকর রাখতে খুব সামান্য পরিমাণই শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণেই রাত্রি বেলা উপচিতি (Metabolism) তথা শরীরের ক্ষয় পূরণ ও গঠনমূলক বিপাকীয় কার্যক্রম বেশি হয়। রাত্রি বেলায় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো খাদ্য থেকে প্রাপ্ত তাপ শক্তির খুব সামান্য অংশই ব্যবহার করে। ফলে এ সময় শরীরে তাপের চাহিদাও কম থাকে। রাত্রি বেলায় পায়চারি করলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যে হালকা নড়ন-চড়ন হয়, এতে কিছুটা হলে তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে রাতের বিশ্রামের সময় যে সামান্য পরিমাণ তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়, সেই তাপশক্তির সাথে এই সময় ব্যয়িত তাপশক্তি মিলিত হয়ে তাপ শক্তি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাম্য বজায় থাকে। এ ছাড়া পায়চারি করলে খাদ্য পাকস্থলি থেকে অন্ত্রে চলে যায়। ফলে পাকস্থলির বোঝা হালকা হয় এবং শোয়ার সময় কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। আর যদি পাকস্থলি ভর্তি থাকে, তাহলে অজীর্ণ ও শ্বাস কষ্ট হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত রাতের খাবার মাগরিবের পরই খেতেন। তাছাড়া খাওয়ার পর পায়চারি করতেন ও এশার নামাযে রাকাত সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে তা হজম শক্তিকে সহায়তা করে। আজও যে সব সকল পরিবারে মাগরীবের পরপরই খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তারা সুখ-শান্তিতে আছে। মোটকথা, পরিপাকতন্ত্রের যথাযথ কার্যক্রমের উপর শরীরের সুস্থতা নির্ভরশীল। আর পরিপাকতন্ত্র কার্যক্ষম রাখার খুঁটি-নাটি নিয়ম-প্রণালী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন।

একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মামা হযরত সা'দ বিন ওয়াক্কাস রাযি. এর বুক ও বাম বাহুতে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়। এমনকি সেই ব্যথা কাঁধের পেছনের দিক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাথায় বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দেয়। শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। তার রোগের এই লক্ষণগুলোকে বর্তমান মেডিকেল সায়েন্সে কণ্ঠনালীর প্রদাহ (Angina) বলা হয়। সাহাবায়ে কেরাম তাকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আনলে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্ত মুবারক তার উভয় কাঁধের মাঝে রাখলেন। সাথে সাথে তার ব্যথা উপশম হল এবং তিনি স্বস্তি ফিরে পেলেন। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আজোয়া (উৎকৃষ্ট প্রজাতির খেজুর) ও আজোয়া এর বিচি থেকে তৈরি আটা খাওয়ার উপদেশ দিলেন। হযরত সা'দ রাযি. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপদেশ মেনে চলে অল্প দিনেই পূর্ণ আরোগ্য লাভ করলেন। তিনি আমৃত্যু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই ব্যবস্থাপত্র অনুসারে কাজ করেছেন। তিনি কাদেসিয়ার যুদ্ধে বিজয়ের মহা গৌরব লাভ করেন এবং দীর্ঘ হায়াত পেয়ে ইহকাল ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য যে, আজোয়া না পাওয়া গেলে অন্য খেজুর মিললেও ইনশাআল্লাহ এই উপকার হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00