📄 রেলওয়ে চাকুরীরজীবির ঘটনা (Story of Railway servent)
এক ব্যক্তি রেলওয়েতে চাকুরিরত ছিল। চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার দায়িত্ব ছিল ট্রেনের পাতে কোন ত্রুটি আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখা। সে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে এ ভেবে প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলল যে সে এখন থেকে পরিপূর্ণ আরাম করবে। তাই সে সারাদিন হাতের উপর হাত দিয়ে বসে থাকত। তার স্বাস্থ্য ছিল ভাল। কিন্তু এক বৎসর নিষ্কর্ম বসে থাকায় সে অলস হয়ে গেল। আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হতে লাগল। তার হার্টের রোগ দেখা দিল। আরাম-প্রিয় জীবন আর কর্মব্যস্ত হতে চাইল না। নিষ্কর্ম বসে থাকাই তার জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল।
📄 কুস্তিগীরদের জীবন (Problem of Wrestler)
পেশাদার কুস্তিগীরদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যতদিন পর্যন্ত তারা পেশায় ব্যস্ত থাকে, সুস্থ থাকে। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর ব্যায়াম ছেড়ে দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের জীবন সংক্ষিপ্ত হয়। বিভিন্ন রেকর্ডে দেখা যায়, যে কুস্তিগীর শেষ বয়স পর্যন্ত মেহনত করতে থাকে, সে দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত জীবিত থাকে। ব্যায়াম করলে কুস্তিগীরদের বয়স কমে না; বরং শেষ বয়সের অলসতা তাদের জীবনকে সংক্ষেপ করে। যে সব লোক ফ্ল্যাটে অথবা উপর তলায় থাকে তাদের ওঠা-নামা করাও একটি ব্যায়াম। সিঁড়িতে ওঠা-নামা করা অথবা পাহাড় কিংবা টিলার উপর চলাফেরা করা, সমতল ভূমিতে চলাফেরা করার চেয়ে শরীরকে অনেক বেশি আন্দোলিত করে। এ কারণে উপর তলার বাসিন্দাদের ওঠা-নামা করাকে মুসিবত মনে করা উচিৎ নয়। এটাকে ব্যায়াম মনে করে এ থেকে উপকৃত হওয়া উচিৎ।
📄 ব্যায়ামের উপকারিতা (Importance of Exercise)
ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বোঝানোর জন্যে বিশদ আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। যুবা-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ এবং সুস্থ-অসুস্থ সকলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যায়াম আছে এবং এই আলাদা আলাদা ব্যায়ামই তাদের শারীরিক অবস্থার জন্য প্রযোজ্য। মস্তিষ্কের কাজে ব্যস্ত লোকদের জন্য ব্যায়াম অত্যাবশ্যক। সকালের উন্মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি করা তাদের ব্রেনকে সজীব, সজাগ এবং পরিচ্ছন্ন করতে যথেষ্ট সহায়ক। (হেলথ এন্ড নিউ জেনারেশন)
📄 দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নেয়া (Mid-Day Nap)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: দুপুরের খাওয়ার পর কিছু সময় বিশ্রাম নাও এবং রাতে খাওয়ার পর পায়চারি কর। আলোচ্য হাদীসটি মানব স্বভাব ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। খানা খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পরিপাকে সহায়তা করার জন্য পাকস্থলিতে জমা হয়। খাবার যথাযথভাবে পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হতে অনেকগুলো স্তর পাড়ি দিতে হয়। আর রক্তের এই পাকস্থলি-মুখিতার কারণে শরীর দুর্বল ও তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হয়। অবশ্য এই দুর্বলতা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকরই প্রমাণিত হয়। কিছু সময় নিদ্রা যাওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাঁধা-ধরা কাজগুলো করার সুযোগ পায় এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি সতেজ প্রাণ-প্রাচুর্য নিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়। দ্বিতীয় উপকারিতা হলো দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করার প্রয়োজন হয়। তাই খাওয়ার পরপরই কিছু সময় বিশ্রাম নিলে শরীর পুনরায় প্রাণবন্ত হয়। ফলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।