📄 প্রাতঃভ্রমণের উপকারিতা (Advantages of Morning Walk)
বায়ু সেবন এবং পায়চারি করলে আপনার কি লাভ হয়: রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন পৌঁছে, শক্তি সাহস বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় উপকারিতা হল ঘোরাফেরার দ্বারা শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি হরমোন নিঃসৃত করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অলস অবস্থায় কিডনির উপরস্থ গ্রন্থিগুলো কমবেশি অলস থাকে। কিন্তু দশ মিনিটের নড়াচড়া অথবা ব্যায়ামে এ গ্রন্থি কার্টিজোন নিঃসরণ শুরু করে। যারা সারাদিন বসে থাকে, অথবা কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে গাড়ি দিয়ে যায়, তাদের গ্রন্থি কোনরূপ কার্টিজোন সৃষ্টি করে না। ফলে শরীরের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। এর চিকিৎসায় চিকিৎসক কার্টিজোন প্রয়োগ করে। কিন্তু কৃত্রিম কার্টিজোন শরীরে উৎপাদিত কার্টিজোনের সমমানের হতে পারে না। এর আরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- শরীরের কঙ্কালতন্ত্র নরম হয়ে যায়। এতে করে সামান্য হোঁচট খেয়ে পড়লেই হাড় ভেঙে যায়। এছাড়াও কেউ কেউ স্নায়ুতন্ত্রের রোগেও আক্রান্ত হতে পারে। সুতরাং আপনি নিজেই আপনার গ্রন্থির পেশীগুলোর কাজ করার এবং কার্টিজোন সৃষ্টি করার সুযোগ দিবেন— এটাই কি উত্তম নয়?
অনুরূপভাবে অন্যান্য পেশী অবস্থাও অনুরূপ। সেগুলোকে সচল এবং কর্মব্যস্ত করার জন্য নাড়াচড়া দেওয়া প্রয়োজন। এতে শরীরের সব পেশী সচল থাকবে। কারো কারো পায়ের মাংস গ্রন্থিতে সমস্যা হয়। তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ রোগের কারণ অনেক। তবে প্রধান কারণ হল ব্যায়াম না করা। ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হাঁটলে অতিরিক্ত রক্তচাপ হ্রাস পায়। শিরা-উপশিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চালিত করতে হয় না। জন্স হপকিনস ইউনিভার্সিটির ডাক্তার রেমন্ড এল. এ জাতীয় হাজার হাজার লোকের শিরার সঞ্চালন রেকর্ড করে রেখেছিলেন। তাঁর সংরক্ষিত রেকর্ড থেকে বুঝা যায়, যার শিরার গতি যত দ্রুত, ততই সংক্ষিপ্ত তার জীবন। এটি একেবারে দুই আর দুই সমান চার— এরকম সুস্পষ্ট বিষয়। যদি ঘড়ি দ্রুত চলে, তবে তার চাবি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। হার্ট একটি পাম্প এবং রক্ত সঞ্চালনতন্ত্র সচল থাকার অর্থ হল এ পাম্প পরিপূর্ণরূপে কাজ করছে। পাম্পকে যে নির্দিষ্ট গতিতে চলার জন্য তৈরি করা হয়েছে, পাম্প যদি তার চেয়ে দ্রুত চলতে থাকে, তাহলে তার ফলাফল কি দাঁড়াবে? মৃতদের শুমারি করলেই তা টের পাওয়া যায়।
ব্যায়াম করার সময় বায়ু সেবন এবং পায়চারি করার আরেকটি উপকারিতা হল এতে রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় না; বরং হ্রাস পায়। রক্তবাহী নালীসমূহকে স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটা একটি উত্তম ঔষধ। হাঁটার দ্বারা শরীরে সব বুননে এক ধরনের রস নিঃসৃত হয়। মাংস পেশীতে শক্তি সঞ্চারিত হয়। শরীরের জোড়াগুলোর কাঠিন্য হ্রাস পায়। হাঁটাহাঁটি দ্বারা শরীরের মাঝে বিশেষ ধরনের চাঞ্চল্য অনুভূত হয়। আলস্য এ চাঞ্চল্যকে হ্রাস পেয়ে থাকে।
📄 ব্যায়ামের সুফল Purpose of Exercise
ব্যায়ামের একটি কাজ হল ঘর্ম নিঃসরণ করা। বহু রকমের বিষাক্ত পদার্থ কেমিক্যাল যুক্ত খাদ্য এবং দূষিত পরিবেশ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ঘাম বেশি নিঃসৃত হলে এ সব বিষাক্ত পদার্থও শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। যদি আপনার ঘাম এ সব বিষাক্ত পদার্থকে বের না করে এবং আপনি যদি বিকল্প পদ্ধতিতেও এ সব বিষাক্ত পদার্থ বের করার ব্যবস্থা না নেন, তাহলে শরীরের অভ্যন্তরে বিষ জমা হতে থাকবে। আপনার শরীরই রোগের উৎপত্তি স্থলে পরিণত হবে।
📄 ৭৫ বছর বয়সী লোকের কাহিনী Story of Seventy Five Years Old Man
কোন কোন পেশায় হাতের কাজ বেশি করতে হয়। অধিক শক্তি খাটাতে হয়। ৭৫ বছর বয়স্ক এক লোকের ঘটনা। সে অফিসের দরজা জানালায় কাঁচ পরিষ্কার করত। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তার হার্টের অবস্থা কেমন? তখন সে পাল্টা প্রশ্ন করল, হার্ট কি জিনিষ? তার নিকট এ প্রশ্নটি ছিল অনর্থক। কারণ তার হার্টে কোন সমস্যা ছিল না। সে ৩০-৪০ বৎসর নিজের হাতকে খুব আনন্দের সাথে গ্লাস পরিষ্কারের কাজে লাগিয়েছে। সে সম্ভবত জানত নাড়াচাড়া করলে হার্টের গঠন এবং ফুসফুসের উপর কল্যাণকর প্রভাব পড়ে। এ কর্মব্যস্ততার কারণে তাকে পূর্ণ শ্বাস গ্রহণ করতে হয়েছে এবং শরীরের সকল অংশে অক্সিজেন পৌঁছেছে। এটা দীর্ঘ আয়ু লাভের একটি আশ্চর্যজনক কারণ হতে পারে। কাঠ-মিস্ত্রির অধিকাংশ কাজই হাতের দ্বারা করতে হয়। তারা পেরেক মারতে এবং করাত চালাতে হাতই ব্যবহার করে কিন্তু তা ততোটা আনন্দের সাথে করে না। হাতকে ততদূর প্রসারিত করে না, যতদূর গ্লাস পরিষ্কারকারীরা প্রসারিত করে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, দীর্ঘ আয়ুর জন্য ব্যায়াম ও শরীর চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
📄 রেলওয়ে চাকুরীরজীবির ঘটনা (Story of Railway servent)
এক ব্যক্তি রেলওয়েতে চাকুরিরত ছিল। চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার দায়িত্ব ছিল ট্রেনের পাতে কোন ত্রুটি আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখা। সে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে এ ভেবে প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলল যে সে এখন থেকে পরিপূর্ণ আরাম করবে। তাই সে সারাদিন হাতের উপর হাত দিয়ে বসে থাকত। তার স্বাস্থ্য ছিল ভাল। কিন্তু এক বৎসর নিষ্কর্ম বসে থাকায় সে অলস হয়ে গেল। আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হতে লাগল। তার হার্টের রোগ দেখা দিল। আরাম-প্রিয় জীবন আর কর্মব্যস্ত হতে চাইল না। নিষ্কর্ম বসে থাকাই তার জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল।