📄 মধু (Honey)
মধু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে দেওয়া উচ্চ পুষ্টি গুণসম্পন্ন সুস্বাদু খাদ্য। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে পাকে এরশাদ করেন, 'এই মধু থেকে রং বে-রংয়ের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য রোগ মুক্তি রয়েছে। নিশ্চয় এতে সে সব লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সূরা নামল-৬৯)
বিজ্ঞানীরা মধুর উপর যথেষ্ট অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্য উদঘাটন করেছে তা হল, মধু ক্ষতের জন্য খুবই উপকারী। এর দ্বারা জীবাণু ধ্বংস হয় বিশেষ করে টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু।
অস্ত্রোপচারের পূর্বে রোগীকে ছয় থেকে আট ঘন্টা খালি পেটে রাখা হয়। ফলে সংজ্ঞাহীন করার পূর্বে রোগীর পেট খালি থাকে। কারণ ভরা পেটে সংজ্ঞাহীন করলে পেটস্থিত খাদ্য-কণা বমির সঙ্গে শ্বাস নালীতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে করে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও আসতে পারে। এমনিভাবে অস্ত্রোপচারের পরও রোগীকে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘন্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত খানা খাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। রোগী কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা ক্ষুধার্ত থাকে। রোযা মাধ্যমে মুসমানদেরকে এ প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়। বর্তমান মেডিকেল সায়েন্স প্রমাণ করেছে, রোযার কারণে মানুষের শরীরে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না; বরং রোযার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের এক সহযোগী কর্ম ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও মধু কয়েকটি জীবাণু যেমন- Pseudomonas এবং Streptococci প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাণীর শরীরে গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন দুইবার ফুটানো পরিষ্কার মধু দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করলে, ক্ষত খুব তাড়াতাড়ি পূরণ হয়। ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগেও মধু খুব উপকারী।- (দৈনিক জঙ্গ মেডিকেল রিপোর্ট)
📄 সকালের ভ্রমণ এবং ব্যায়াম Morning walk and Exercise
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানে হাঁটাহাটি করতে ভালবাসতেন। তিনি কখনো কখনো এক একাই বাগানে তাশরীফ নিয়ে যেতেন। (মামুলাত-আদাব)
সাহাবায়ে কেরামেরও একই ধরনের আমল ছিল। হাদীসের কিতাব এবং ইতিহাসের বই পড়লেও এ ধরনের অগণিত ঘটনাবলী পাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরাম কখনো কখনো সবুজ ঘাসে এবং বাগানে পায়চারি করতেন। সাহাবায়ে কেরামের মুজাহিদী যিন্দেগী অনবরত ব্যায়ামেই কাটত। গর্ত খনন, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে আনা, দরিদ্রদের সাহায্য করা, পানির বালতি টানা, মাটির ঘর তৈরি করা, সাংসারিক কাজে বাড়ির মহিলাদের সহযোগিতা করা তাদের দৈনন্দিন কাজ ছিল। এতে মুসলমানরা জীবনে ব্যায়ামের সুফল ভোগ করত। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাঁতার কাটা এবং কুস্তির মাধ্যমে ব্যায়ামে অংশগ্রহণ করেছেন।
📄 গেঁটে বাতে আক্রান্ত রোগীর কাহিনী Story of Patient of Rheumatismic
ষোড়শ শতাব্দীর কথা। আধুনিক চিকিৎসার জনক আদম টমাস সীডন বামের নিকট গেঁটে বাতের এক রোগী আগমন করলেন। ডাক্তার সীডন বাম তার রোগ নির্ণয় করে সম্ভাব্য ঔষধ প্রয়োগ করলেন। কোন ফল হল না। অবশেষে তিনি তাকে লন্ডন থেকে একশ মাইল দূরে এমন একজন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য বললেন যাকে গেঁটে বাতের সবচেয়ে বড় ডাক্তার মনে করা হত। রোগী যখন জানতে পারলেন যে, সে ডাক্তারের কাছে যেতে হলে ঘোড়ায় সওয়ার হওয়া ব্যতীত কোন উপায় নেই, তখন ঘোড়ায় সওয়ার হয়েই সেখানে পৌঁছুলেন। সেখানে পৌঁছে জানতে পারলেন এ নামে সেখানে কোন ডাক্তারই নেই। সুতরাং রোগী নিরাশ হয়ে ফিরে এসে বললেন, 'আপনি আমাকে কোন জঙ্গলে পাঠিয়েছিলেন? সেখানে তো কেউ ডাক্তারের নামও জানে না।' সিডন বাম উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার গেঁটে বাতের অবস্থা কি?'
রোগী বলল, কিসের গেঁটে বাত?
ঘোড়ার পিঠে দু'শ মাইলের সফর রোগীকে শারীরিকভাবে এত বেশি নাড়া দিয়েছে যে, নড়াচড়ার ফলে যে ঘাম শরীর থেকে বের হয়েছে, যে অক্সিজেন বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌঁছেছে, যে হরমোন নিঃসৃত হয়েছে, তাতে রোগের চিহ্নও বাকী থাকে নি। এক বিজ্ঞানীকে কেউ জিজ্ঞেস করলেন, 'গেঁটে বাতের ঔষধ কি?' বিজ্ঞানী বললেন, 'যে পরিমাণ আয় করবে, সে পরিমাণ ব্যয় করবে অর্থাৎ বেশি বেশি মেহনত কর।'
📄 প্রাতঃভ্রমণের উপকারিতা (Advantages of Morning Walk)
বায়ু সেবন এবং পায়চারি করলে আপনার কি লাভ হয়: রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন পৌঁছে, শক্তি সাহস বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় উপকারিতা হল ঘোরাফেরার দ্বারা শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি হরমোন নিঃসৃত করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অলস অবস্থায় কিডনির উপরস্থ গ্রন্থিগুলো কমবেশি অলস থাকে। কিন্তু দশ মিনিটের নড়াচড়া অথবা ব্যায়ামে এ গ্রন্থি কার্টিজোন নিঃসরণ শুরু করে। যারা সারাদিন বসে থাকে, অথবা কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে গাড়ি দিয়ে যায়, তাদের গ্রন্থি কোনরূপ কার্টিজোন সৃষ্টি করে না। ফলে শরীরের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। এর চিকিৎসায় চিকিৎসক কার্টিজোন প্রয়োগ করে। কিন্তু কৃত্রিম কার্টিজোন শরীরে উৎপাদিত কার্টিজোনের সমমানের হতে পারে না। এর আরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- শরীরের কঙ্কালতন্ত্র নরম হয়ে যায়। এতে করে সামান্য হোঁচট খেয়ে পড়লেই হাড় ভেঙে যায়। এছাড়াও কেউ কেউ স্নায়ুতন্ত্রের রোগেও আক্রান্ত হতে পারে। সুতরাং আপনি নিজেই আপনার গ্রন্থির পেশীগুলোর কাজ করার এবং কার্টিজোন সৃষ্টি করার সুযোগ দিবেন— এটাই কি উত্তম নয়?
অনুরূপভাবে অন্যান্য পেশী অবস্থাও অনুরূপ। সেগুলোকে সচল এবং কর্মব্যস্ত করার জন্য নাড়াচড়া দেওয়া প্রয়োজন। এতে শরীরের সব পেশী সচল থাকবে। কারো কারো পায়ের মাংস গ্রন্থিতে সমস্যা হয়। তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ রোগের কারণ অনেক। তবে প্রধান কারণ হল ব্যায়াম না করা। ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হাঁটলে অতিরিক্ত রক্তচাপ হ্রাস পায়। শিরা-উপশিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চালিত করতে হয় না। জন্স হপকিনস ইউনিভার্সিটির ডাক্তার রেমন্ড এল. এ জাতীয় হাজার হাজার লোকের শিরার সঞ্চালন রেকর্ড করে রেখেছিলেন। তাঁর সংরক্ষিত রেকর্ড থেকে বুঝা যায়, যার শিরার গতি যত দ্রুত, ততই সংক্ষিপ্ত তার জীবন। এটি একেবারে দুই আর দুই সমান চার— এরকম সুস্পষ্ট বিষয়। যদি ঘড়ি দ্রুত চলে, তবে তার চাবি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। হার্ট একটি পাম্প এবং রক্ত সঞ্চালনতন্ত্র সচল থাকার অর্থ হল এ পাম্প পরিপূর্ণরূপে কাজ করছে। পাম্পকে যে নির্দিষ্ট গতিতে চলার জন্য তৈরি করা হয়েছে, পাম্প যদি তার চেয়ে দ্রুত চলতে থাকে, তাহলে তার ফলাফল কি দাঁড়াবে? মৃতদের শুমারি করলেই তা টের পাওয়া যায়।
ব্যায়াম করার সময় বায়ু সেবন এবং পায়চারি করার আরেকটি উপকারিতা হল এতে রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় না; বরং হ্রাস পায়। রক্তবাহী নালীসমূহকে স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটা একটি উত্তম ঔষধ। হাঁটার দ্বারা শরীরে সব বুননে এক ধরনের রস নিঃসৃত হয়। মাংস পেশীতে শক্তি সঞ্চারিত হয়। শরীরের জোড়াগুলোর কাঠিন্য হ্রাস পায়। হাঁটাহাঁটি দ্বারা শরীরের মাঝে বিশেষ ধরনের চাঞ্চল্য অনুভূত হয়। আলস্য এ চাঞ্চল্যকে হ্রাস পেয়ে থাকে।