📄 অস্ত্রোপচার এবং ইসলামী শিক্ষা (Surgery and Islamic Teachings)
রোগমুক্তি ও স্বাস্থ্য রক্ষায় যুগে যুগে হেকীম, ডাক্তার ও চিকিৎসক বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তন্মধ্যে অস্ত্রোপচার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। বিগত দুই শতকে মেডিক্যাল সায়েন্সে অস্ত্রোপচার বিদ্যা অনেক উন্নতি সাধন করেছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বর্তমানে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করা হয়। অস্ত্রোপচারের মৌলিক নীতি হল, ক্ষতস্থানকে জীবাণুমুক্ত রাখা এবং রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাতে ক্ষতে পচন ধরার আশংকা না থাকে।
একশ বছর পূর্বেও ইউরোপীয় অস্ত্রোপচার বিশারদদেরও এ বিষয়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল না। ফলে সফল অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও বহু রোগী ক্ষতস্থানের পচন ও প্রদাহের কারণে মৃত্যু বরণ করত। রোগীকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে রাখা ও অস্ত্রোপচারকৃত ক্ষতকে জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা সফল অস্ত্রোপচারের শর্ত। এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার সম্ভাব্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সুতরাং যদি বলা হয়, ইসলাম চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার যে নীতি প্রবর্তন করেছে, তার উপর ভিত্তি করে পশ্চিমা গবেষকগণ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে, তাহলে তা অত্যুক্তি হবে না। আসুন আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখি।
📄 প্রথম নিয়ম First Principle
অস্ত্রোপচারকারীর সর্বপ্রথম পালনীয় বিষয় হল, প্রথমে শল্যবিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। ইসলাম মুসলমানদেরকে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জনের উপর খুবই জোর দিয়েছে। অপবিত্র ব্যক্তি নামায আদায় করতে পারে না। তাই মুসলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে নেহায়েত জরুরী মনে করে। গোসল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রধান মাধ্যম। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে বিভিন্ন নির্দেশ পাওয়া যায়।
📄 দ্বিতীয় নিয়ম Second Principle
শল্যবিদকে পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। ময়লা কাপড় পরিধান করে শুধু অস্ত্রোপচার করাই নিষেধ নয়; অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রবেশ করাও নিষিদ্ধ। পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করাও নামাযের প্রধান প্রধান শর্তসমূহের একটি। অস্ত্রোপচার কক্ষে সাধারণত সাদা কাপড় পরিধান করার উপর জোর দেয়া হয় যাতে কাপড়ে হালকা কোন ময়লা লেগে থাকলেও তা দৃষ্টি এড়িয়ে না যায়।
📄 মধু (Honey)
মধু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে দেওয়া উচ্চ পুষ্টি গুণসম্পন্ন সুস্বাদু খাদ্য। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে পাকে এরশাদ করেন, 'এই মধু থেকে রং বে-রংয়ের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য রোগ মুক্তি রয়েছে। নিশ্চয় এতে সে সব লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সূরা নামল-৬৯)
বিজ্ঞানীরা মধুর উপর যথেষ্ট অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্য উদঘাটন করেছে তা হল, মধু ক্ষতের জন্য খুবই উপকারী। এর দ্বারা জীবাণু ধ্বংস হয় বিশেষ করে টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু।
অস্ত্রোপচারের পূর্বে রোগীকে ছয় থেকে আট ঘন্টা খালি পেটে রাখা হয়। ফলে সংজ্ঞাহীন করার পূর্বে রোগীর পেট খালি থাকে। কারণ ভরা পেটে সংজ্ঞাহীন করলে পেটস্থিত খাদ্য-কণা বমির সঙ্গে শ্বাস নালীতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে করে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও আসতে পারে। এমনিভাবে অস্ত্রোপচারের পরও রোগীকে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘন্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত খানা খাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। রোগী কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা ক্ষুধার্ত থাকে। রোযা মাধ্যমে মুসমানদেরকে এ প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়। বর্তমান মেডিকেল সায়েন্স প্রমাণ করেছে, রোযার কারণে মানুষের শরীরে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না; বরং রোযার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের এক সহযোগী কর্ম ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও মধু কয়েকটি জীবাণু যেমন- Pseudomonas এবং Streptococci প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাণীর শরীরে গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন দুইবার ফুটানো পরিষ্কার মধু দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করলে, ক্ষত খুব তাড়াতাড়ি পূরণ হয়। ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগেও মধু খুব উপকারী।- (দৈনিক জঙ্গ মেডিকেল রিপোর্ট)