📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হাদীসের উদ্ধৃতি (Reference of Hadith)

📄 হাদীসের উদ্ধৃতি (Reference of Hadith)


হাদীস থেকে আমরা জেনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদা পোষাক সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। এর কারণ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুচি ও পছন্দ মানুষের জন্য আদর্শ। অস্ত্রোপচারের সময় মাথার চুল ও মুখমন্ডল, মুখাবরণী (Mask) দ্বারা ঢেকে নেওয়া হয়। ক্ষতকে মাথার চুল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে নির্গত জীবাণু থেকে রক্ষা করার জন্য এমনটি করা হয়। হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যে ফুঁ দেওয়াকে নিষেধ করেছেন। তাঁর এ মোবারক অভ্যাসকেই অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে মুখাবরণীর আকারে কার্যকর করা হয়েছে। এতে করে নাক ও মুখে অবস্থানকারী জীবাণু ক্ষতে প্রবেশ করে ক্ষতের ক্ষতি করতে পারে না। আমরা নামাযের সময়ও টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখি। ইসলামী সমাজে মসজিদের অপরিসীম গুরুত্বের কথা কারো অজানা নয়। মসজিদের উদ্দেশ্য তো সমাজে খোদাভীতির দ্যুতি সৃষ্টি ও পবিত্রতার স্বাস্থ্য সম্মত মান বজায় রাখা। মসজিদ এমন একটি কেন্দ্র যেখান থেকে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিচ্ছন্ন হয়ে বের হয়।

কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, 'যে মসজিদকে প্রথম দিন থেকেই তাকওয়া বা পবিত্রতার উপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি উপযোগী যে, তোমরা তাতে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান হবে। তাতে এরূপ লোকেরা পবিত্র থাকতে পছন্দ করে এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীই আল্লাহ তাআলার বেশি পছন্দনীয়।' (সূরা তাওবাঃ ১০৮)

সুতরাং আমরা মসজিদের জন্য পরিচ্ছন্ন স্থানকেই বেছে নিই। পশ্চিমা জগত পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের এসব মূলনীতিরই কয়েকটি গ্রহণ করে নিজেদের সমাজ ব্যবস্থায় কার্যকর করেছে। মসজিদে প্রবেশ করতে হলে জুতা মসজিদের বাইরে খুলে ফেলা আবশ্যক যাতে জুতায় আটকে থাকা ময়লা মসজিদের ভিতরে আসতে না পারে। তাছাড়া নামাযেও জুতা খুলে খালি পায়ে দাঁড়ানো হয় যাতে মানুষ আল্লাহর দরবার পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা সহকারে উপস্থিত হতে পারে। এ মূলনীতিটিকেও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। জুতা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। অস্ত্রোপচারের পূর্বে শল্যবিদ দুই হাত এবং বাহু কনুইসহ কয়েক মিনিট ধৌত করে। এর উদ্দেশ্য হল হাত এবং বাহু জীবাণুমুক্ত রাখা। এ সময় হাত থেকে কনুইয়ের দিকে পানি প্রবাহিত করা হয়। অযু নামাযের একটি মৌলিক শর্ত। অযুতে হাত এবং কনুই ধৌত করা ফরয এবং পানি হাত থেকে কনুইয়ের দিকেই গড়িয়ে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হল, কনুইয়ের ময়লা হাতের পাতার দিকে যেন গড়িয়ে না আসে। অযুতে প্রতিটি আমল তিনবার করা হয়। এর দ্বারা স্পষ্টতই বুঝা যায়, এর উদ্দেশ্য হল যতদূর সম্ভব সব ধরনের ময়লা দূর করা। হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মূলনীতি হল হাত ধোয়ার পর কোন কাপড় দিয়ে হাতে লেগে থাকা পানি না শুকানো। হাদীস পাঠে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতি এটাই। এ নীতিরই অনুসরণ করা হয় অস্ত্রোপচারে। অস্ত্রোপচারের পর রোগী দ্রুত সুস্থ হওয়ার পূর্বশর্ত ক্ষতে পচন না ধরা কিংবা পুঁজ না হওয়া। হাদীসের কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ এরশাদ বর্ণনা করা হয়েছে যাতে ক্ষতস্থানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পানি দ্বারা ধোয়া এবং তাতে পরিচ্ছন্ন কাপড়ের পট্টি বাঁধার উল্লেখ রয়েছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অস্ত্রোপচার এবং ইসলামী শিক্ষা (Surgery and Islamic Teachings)

📄 অস্ত্রোপচার এবং ইসলামী শিক্ষা (Surgery and Islamic Teachings)


রোগমুক্তি ও স্বাস্থ্য রক্ষায় যুগে যুগে হেকীম, ডাক্তার ও চিকিৎসক বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তন্মধ্যে অস্ত্রোপচার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। বিগত দুই শতকে মেডিক্যাল সায়েন্সে অস্ত্রোপচার বিদ্যা অনেক উন্নতি সাধন করেছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বর্তমানে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করা হয়। অস্ত্রোপচারের মৌলিক নীতি হল, ক্ষতস্থানকে জীবাণুমুক্ত রাখা এবং রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাতে ক্ষতে পচন ধরার আশংকা না থাকে।

একশ বছর পূর্বেও ইউরোপীয় অস্ত্রোপচার বিশারদদেরও এ বিষয়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল না। ফলে সফল অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও বহু রোগী ক্ষতস্থানের পচন ও প্রদাহের কারণে মৃত্যু বরণ করত। রোগীকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে রাখা ও অস্ত্রোপচারকৃত ক্ষতকে জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা সফল অস্ত্রোপচারের শর্ত। এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার সম্ভাব্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সুতরাং যদি বলা হয়, ইসলাম চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার যে নীতি প্রবর্তন করেছে, তার উপর ভিত্তি করে পশ্চিমা গবেষকগণ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে, তাহলে তা অত্যুক্তি হবে না। আসুন আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখি।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রথম নিয়ম First Principle

📄 প্রথম নিয়ম First Principle


অস্ত্রোপচারকারীর সর্বপ্রথম পালনীয় বিষয় হল, প্রথমে শল্যবিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। ইসলাম মুসলমানদেরকে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জনের উপর খুবই জোর দিয়েছে। অপবিত্র ব্যক্তি নামায আদায় করতে পারে না। তাই মুসলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে নেহায়েত জরুরী মনে করে। গোসল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রধান মাধ্যম। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে বিভিন্ন নির্দেশ পাওয়া যায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দ্বিতীয় নিয়ম Second Principle

📄 দ্বিতীয় নিয়ম Second Principle


শল্যবিদকে পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। ময়লা কাপড় পরিধান করে শুধু অস্ত্রোপচার করাই নিষেধ নয়; অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রবেশ করাও নিষিদ্ধ। পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করাও নামাযের প্রধান প্রধান শর্তসমূহের একটি। অস্ত্রোপচার কক্ষে সাধারণত সাদা কাপড় পরিধান করার উপর জোর দেয়া হয় যাতে কাপড়ে হালকা কোন ময়লা লেগে থাকলেও তা দৃষ্টি এড়িয়ে না যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00