📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মানব দেহের প্রতি সুন্নাহর অবদান

📄 মানব দেহের প্রতি সুন্নাহর অবদান


সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। তিনি মানব জীবনের প্রতিটি শাখা ও স্তরে মানবতার শিক্ষা-দীক্ষা ও পথ প্রদর্শনের উপায়-উপকরণ বাতলে দিয়েছেন যেন কিয়ামত পর্যন্ত আগত প্রজন্ম তা মেনে চলে উপকৃত হতে পারে। মানুষের আত্মিক সুস্থতার সাথে সাথে দৈহিক সুস্থতাও অতীব প্রয়োজন। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিকটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দান করেছেন। তিনি পেশাগত ডাক্তার ছিলেন না। এতদসত্ত্বেও তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের এমন কিছু সোনালী মূলনীতি রেখে গেছেন, যেগুলো অনুসরণ করে প্রতিটি মানুষ আমৃত্যু উপকৃত হতে পারে। মানুষ সাধারণত রোগ-ব্যাধিকে বিপদ মনে করে। রোগে আক্রান্ত হলে অস্থির ও পেরেশান হয়ে স্বাভাবিক আচরণের পরিপন্থী কাজ করে বসে। মূলত রোগ-ব্যাধি বিপদ নয়, গোনাহের ক্ষতিপূরণ। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, 'আল্লাহ তা'আলা মুমিন বান্দার এক রাত্রের জ্বরের ওসীলায় তার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন।'

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, 'একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে জ্বর নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এক ব্যক্তি জ্বরের সমালোচনা করলে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'জ্বরের সমালোচনা করো না। কারণ তা গোনাহকে এভাবে দূর করে যেমন আগুন লোহা থেকে মরিচা দূর করে।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, কোন মুমিন নর-নারী অসুস্থ হলে তার বিগত গোনাহসমূহ অসুস্থতার ওসীলায় মাফ করা হয়।'

বস্তুত অসুখ আল্লাহ পাকের এক প্রকার নেয়ামত। অসুখের ফলে ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর হয় এবং গোনাহ মাফ হয়। অসুস্থতার ফলে মানুষের মাঝে আকুতি মিনতি, আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের চিন্তা সৃষ্টি হয়। ধৈর্যধারণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রেরণা জন্মে। অন্যের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের অনুভূতি জাগ্রত হয়। অসুস্থ ব্যক্তি মুমিন হলে ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর করার অনুপ্রেরণা লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 কষ্টে ধৈর্য্য ধারণ করা

📄 কষ্টে ধৈর্য্য ধারণ করা


ইসলামের দর্শন হলো বিপদ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আগত। 'মানুষের গায়ে কোন কাঁটার আঁচড় লাগলে যে কষ্ট হয়, তার বিনিময়ে গোনাহ মাফ করা হয়' এ বিশ্বাস থাকলে অসুস্থতার সময় অস্থির না হয়ে ধৈর্যধারণ করা অতি সহজ হয়। আর ধৈর্য্যের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে হযরত আতা বিন রাবাহ রাযি বলেন, 'একবার হযরত আব্দুল্লাহ রাযি. আমাকে বললেন, তুমি কি জান্নাতী রমণী দেখতে চাও?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ অবশ্যই।' এরপর তিনি কালো এক মহিলার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, 'ঐ মহিলাকে দেখ, মহিলাটি একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাজির হয়ে বলেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ। আমি মৃগী রোগী। রোগের প্রকোপ বেশি হলে মাঝে মধ্যে আমার সতর ঠিক থাকে না। দয়া করে আমার জন্য রোগ মুক্তির দোয়া করুন।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'তুমি ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলে জান্নাত পাবে। আর যদি ধৈর্য্য ধরতে অপারগ হও তাহলে তোমার আরোগ্যের জন্য দোয়া করবো। বল, কোনটি গ্রহণ করবে?' মহিলা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি সবর করব। তবে আপনি এ দোয়া করুন, যেন আমার সতর হেফাজত থাকে।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য সেই দোয়াই করলেন।

বস্তুত মুসলমান যদি অসুখের সময় সবর করে ও শোকর আদায় করে, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্থতা ও উত্তম প্রতিদান লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রোগের চিকিৎসা

📄 রোগের চিকিৎসা


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগের চিকিৎসা করাকে বৈধ করেছেন। তিনি রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে উপদেশ দিতেন। তাঁর শেষ অসুস্থতার সময় মদীনার ডাক্তারগণ তাঁর চিকিৎসা করেছেন। হযরত আয়েশা রাযি বর্ণনা করেন, 'আমি ডাক্তারদের বলে দেয়া ব্যবস্থা পত্র মুখস্থ করে নিতাম। পরবর্তীতে অনেক রোগী তার দ্বারা উপকৃত হতো।' এমনকি এভাবেই হযরত আয়েশা রাযি. চিকিৎসা বিদ্যায় নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছিলেন। সে যুগে আরবের সবচেয়ে বড় ডাক্তার ছিল হারেছ বিন কিলাহ। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই ছিলেন। জ্ঞান গরীমায় অতুলনীয় যুবক সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল 'হে আল্লাহর রসূল! তাকদীরের ব্যাপারে কি বলেন?' তিনি জবাব দেন, ঔষধও তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যাকে চান তার উপকার করেন এবং যাকে চান তার অপকার করেন।

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন, 'আল্লাহ তা'আলা এমন কোন ব্যাধি সৃষ্টি করেন নি, যার ঔষধ রাখেন নি।' শেষোক্ত হাদীসটি অনুসন্ধান ও গবেষণার পথ উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে মাইল ফলক। অবশ্য খুব বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বর্তমান শতাব্দীতেই ১৯৫০-৫৫ পর্যন্ত জীবাণু প্রতিষেধক এন্টিবায়োটিকস এর অস্তিত্ব ছিল না। বিভিন্ন রোগ জীবাণুর আক্রমণে লাখো লোক মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদি মারাত্মক ব্যাধি বলে গণ্য করা হতো। এমনকি এ রোগগুলোকে প্রাণনাশক পুরাতন জ্বর হিসাবে মনে করা হতো। অথচ বর্তমানে এসব কঠিন রোগের সহজ চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়েছে। যক্ষার মত মারাত্মক ও ঘাতক ব্যাধির জন্য এখন তিন মাসের চিকিৎসা যথেষ্ট। তদ্রূপ, কয়েক বছর পূর্বে ক্যান্সারের কোন চিকিৎসা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে এর চিকিৎসা অনেকাংশে সফল হয়েছে। যখনই নতুন কোন রোগ নিরূপণ হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান সংস্থাগুলো তার চিকিৎসা শুরু করে দেয়। একটা না একটা সমাধান বের হয়েই আসে। ফলে আল্লাহর রাসুলের সেই বাণীর সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 চিকিৎসা ও দোয়া (Remedy and Provoking)

📄 চিকিৎসা ও দোয়া (Remedy and Provoking)


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু দোয়া নয়, সাথে সাথে দাওয়ার প্রতিও গুরুত্ব দিতেন এবং অন্যদেরকেও এ জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলা রোগ কখন আরোগ্য হবে তার একটা সময় নির্দিষ্ট করেছেন। কেবল সে নির্দিষ্ট সময়েই ডাক্তারের প্রতিবিধান ফলবতী হয় এবং ঔষধ-পথ্যাদি কাজে লাগে। রোগী আরোগ্য লাভ করে। রোগীর দোয়া অন্যদের জন্যও অত্যন্ত ফলপ্রসূ। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা রোগীর কাছে যাওয়ার পর তার নিকট দোয়া চাইবে। কারণ আল্লাহর নিকট ফেরেশতাদের দোয়া কবুল হওয়ার ন্যায় রোগীর দোয়া কবুল হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00