📄 উত্তর মেরু বা গ্রীন ল্যান্ড ভ্রমণ
এ সব এলাকায় চুম্বক পাহাড় রয়েছে। সুতরাং এমন সময় সেখানে সফর করতে হয়, যখন সেগুলো বরফাবৃত থাকে এবং মাটি শক্ত হয়ে যায়। এখানকার সফরে ছয় মাস লাগে। কারণ, পায়ে হাঁটা ছাড়া অন্য কোন যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। জাহাজ, গাড়ি ইত্যাদি চলাচল করা সেখানে সম্ভব নয়। কারণ পাহাড়ের চুম্বক গাড়ির লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি, বডি ইত্যাদিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। ফলে গাড়ি চলতে পারে না।
তাছাড়া সেখানে অনেক ভাল্লুক রয়েছে। ভাল্লুকের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি ফলক লাগানো হয়েছে। যখন সে সব স্থান দিয়ে অতিক্রম করা হয়, তখন গাড়ির কাঁচ বন্ধ রাখা হয়। প্রচণ্ড শীতকালে ভাল্লুক গর্তে ঢুকে এবং ছয় মাস পর্যন্ত গর্তের মধ্যে পানাহার ছাড়া কাটিয়ে দেয়। সেই ছয় মাস ঘুমিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে শ্বাস নেয়। চক্ষু বন্ধ রাখে এবং নড়াচড়া করে না; যাতে শক্তি খরচ না হয় এবং আমাদের জীবন নিরাপদ থাকে। এমনকি যদি কেউ তাদের শরীর মাড়িয়ে যায় তবুও তারা বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করে না।
আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে পানাহার ছাড়া অর্ধ-বছর বাঁচিয়ে রাখেন। যারা চুম্বক পাহাড়ে সফর করে, তারা ছয় মাস যাবৎ প্রতিদিন একটি মাত্র ক্যাপসুল ব্যবহার করে। খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং পেশাব-পায়খানারও জরুরত পড়ে না। আল্লাহ্ প্রেমিকদের অবস্থাও ঠিক তাদের মত। কয়েক সপ্তাহ যাবৎ তাঁরা পানাহারবিহীন থাকে কিংবা সামান্য পরিমাণ আহার করেন। এতদসত্ত্বেও তারা স্বাস্থ্যময় জীবন যাপন করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সামান্য পরিমাণ আহারে অধিক পরিমাণ বরকত দান করেন।
📄 নেতা সমাজের সেবক Leader is the Servent of the Nation
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন জাতির নেতা হল জাতির সেবক। সেবা করার মাধ্যমে মানুষ যে পরিমাণ নেকীর অধিকারী হয়, এক মাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ তার অগ্রগামী হতে পারে না। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্দার ছিলেন। তিনি মানবতার সেবায় সর্বক্ষণ নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। জীবনের শুরু থেকেই তিনি মানুষের জন্য কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। মসজিদে নবী নির্মাণের কাজে অংশ গ্রহণ করেছেন। কোন এক সফরে রান্না করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তিনি লাকড়ি সংগ্রহের দায়িত্ব নেন। অনুরূপ কোন ভোজ সভায় তিনি সাহাবায়ে কেরামকে খাদ্য পরিবেশন করেছেন।
প্রিয় নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর খোলাফায়ে রাশেদীনও এ মোবারক আমলের উপর নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। হযরত উমর রাযি. এর জীবনে এ রকম ঘটনা তো মশহুর। তিনি নিজ কোমরে খাবারের বস্তা বহন করে নিয়ে এক জঙ্গলে গেছেন এবং বৃদ্ধা মহিলা ও তার সন্তানদের রান্না করে খাইয়েছেন। এরকম শিক্ষণীয় ঘটনা সাহাবায়ে কেরামের জিন্দেগিতেও অনেক পাওয়া যায়। খলিফা বা সর্দার হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা মানবতার সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতেন।
📄 আব্রাহাম লিংকনের সেবা Abraham Linkan’s services
লিংকনের স্বীকারোক্তি, আমি সর্বসাধারণের মনিব নই; বরং তাদেরই একজন। ইতিপূর্বে যখন প্রেসিডেন্টশিপের দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয় নি, তখন নিজেকে হালকা মনে হত। কিন্তু এখন নিজেকে কর্তব্যের ভারে ভারাক্রান্ত বোধ হচ্ছে। আমি এমন কিছু দায়িত্ব হাতে নিয়েছি, একমাত্র আমেরিকার শ্রমজীবী মজদুরই যেগুলো করতে পারে। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ায়, আমি মনে করি, আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, মানুষের সেবা করা। সেবা করেই আমি খ্যাতি অর্জন করব, প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুবাদে নয়।
টিকাঃ
-(আব্রাহাম লিংকনের জীবনের কিছু অপ্রকাশ্য দিক)