📄 জুন কুলেন্স এর অভিজ্ঞতা, পদার স্বীকারোক্তি
অন্ডসার হেলথ কেয়ার সেন্টার এর ডাক্তার উসওয়ালড মার্টিন ত্বকের উপর গবেষণা চালিয়ে প্রমাণিত করেছেন, ত্বকের আবৃত অংশ উন্মুক্ত অংশের তুলনায় তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ড. মার্টিন এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দু ব্যক্তির মাঝে পরীক্ষা চালিয়েছেন। এক ব্যক্তির বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর। সে তার কোমর ও নিতম্ব সূর্যের কিরণ থেকে বাঁচিয়ে রাখতো। অপর ব্যক্তির বয়স ছিল বিশ বছর। সে অনবরত ঘণ্টার পর ঘণ্টা রৌদ্রে থাকতো। তাদের ত্বক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, উভয়ের মধ্যে বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও দুই জনের কোমর ও নিতম্বের ত্বকে বিশেষ কোন পার্থক্য ছিল না।
মনে রাখবে আমাদের শরীরের যে সব অংশ খোলা থাকে তাতে বয়সের চেয়ে সূর্যের আলোর অধিক প্রভাব পড়ে। আপনি নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সূর্যের কিরণ শরীরের ত্বকে কি পরিমাণ প্রভাব ফেলে তা অনুমান করার জন্য নিজের বাহু, হাতের কব্জি ও আঙ্গুলের প্রতি লক্ষ্য করুন। বাহুর ত্বকের তুলনায় হাতের কব্জি ও হাতের ত্বক অধিক উজ্জ্বল ও সতেজ বলে মনে হবে। ত্বকের উপর সরাসরি সূর্যের কিরণ পড়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল তৎক্ষণাৎ সে ক্ষতি অনুভূত না হওয়া।
📄 একজন মুসলিম চিন্তাবিদের কথা
কাফেরের উপাসনা ও আকীদা-বিশ্বাসের প্রভাবে কোন মুসলমান ধর্ম ত্যাগ করে না; বরং কাফেরের সাহচর্যের কারণে অমুসলমান হয়। তাঁর যুক্তি হলো— চারটি বিষয় দ্বারা কুফর বিস্তার লাভ করে; ১. সম্পদ; ২. রাজত্ব; ৩. নারী; ৪. পদবী। কারণ কুফর প্রসারিত হওয়ার পথ দু'টি: ১. ইংরেজি স্কুল; ২. প্রযুক্তি।
১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের টাইমস পত্রিকায় পড়েছি বিশ বা পঞ্চাশ বছর পর সারা বিশ্বে ইসলাম বিজয় লাভ করবে। ইংল্যান্ড ও আমেরিকার জ্ঞানীগুণীরা যৌথভাবে বিষয়টি নিয়ে অনেক চিন্তা গবেষণা চালিয়ে কোন কর্তব্য কর্ম নির্ধারণ করতে না পেরে রোমের ধর্মযাজক জন পল পোপ এর শরণাপন্ন হল। পল আলোচনা শুনে তাদেরকে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন, 'মুসলমানদের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করে, না-কি দ্বীনী মাদ্রাসায়?' সকলে বললো, 'আশি ভাগের অধিক ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়ে। আর বাকি বিশ ভাগ মাদ্রাসায় পড়ে।' উত্তর শুনে খ্রিষ্টান পোপ অবলীলায় তাদেরকে আশ্বস্ত করল, 'তোমরা কানে তুলা দিয়ে ঘুমিয়ে থাক। কারণ শিশুগুলো আমাদেরই, মুসলমানদের নয়।'
মুসলিম চিন্তাবিদ আরও বলেন, 'তোমরা আমাকে তিনটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, তাহলে আমি তোমাদেরকে সুস্থতার নিশ্চয়তা দেব: ১. সুতি কাপড় পরিধান করবে; ২. সাধারণ ও স্বল্প পরিমাণ খাবার গ্রহণ করবে; ৩. পায়ে হেঁটে চলাফেরা করবে।'
📄 পেশাবের সুন্নত সম্মত বিধান
পানিতে বসবাসকারী প্রাণী সাধারণত স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। তাই ইসলামে পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করা হয়েছে যেন পানিতে বিদ্যমান কোন জীবাণু বিপরীত দিক থেকে পেশাবের ধারা বেয়ে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে না পারে। অনুরূপভাবে গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করা হয়েছে যেন গর্তের ভিতর থেকে কোন প্রাণী বের হয়ে ক্ষতি করতে না পারে। আমার কাছে এক ব্যক্তি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেছে সে একবার গর্তের মুখে পেশাব করছিল। সেই মুহূর্তে গর্তের ভিতর থেকে একটি বিচ্ছু বের হয়ে আসে।
তাছাড়া গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করার বড় কারণ হলো, যদি গর্ত থেকে বিষাক্ত কোন প্রাণী বের হয়ে আসে তাহলে ভয় ও আশঙ্কায় তৎক্ষণাৎ পেশাব বন্ধ হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য, হঠাৎ পেশাব বন্ধ হওয়ার কারণে শরীরের যে ক্ষতি হয় তা সাপের দংশনের চেয়েও মারাত্মক। এর ফলে মৃগী, অজ্ঞানতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গর্তে পেশাব করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আর একটি কারণ হলো, গর্তের মধ্যে গর্তবাসী প্রাণীর মল-মূত্র থাকে। যখন গর্তের ভিতর মানুষের পেশাব যাবে তখন গর্তে বিদ্যমান জীবাণু পেশাব বেয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সেগুলো নানা রকম রোগের কারণ হতে পারে।
📄 উত্তর মেরু বা গ্রীন ল্যান্ড ভ্রমণ
এ সব এলাকায় চুম্বক পাহাড় রয়েছে। সুতরাং এমন সময় সেখানে সফর করতে হয়, যখন সেগুলো বরফাবৃত থাকে এবং মাটি শক্ত হয়ে যায়। এখানকার সফরে ছয় মাস লাগে। কারণ, পায়ে হাঁটা ছাড়া অন্য কোন যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। জাহাজ, গাড়ি ইত্যাদি চলাচল করা সেখানে সম্ভব নয়। কারণ পাহাড়ের চুম্বক গাড়ির লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি, বডি ইত্যাদিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। ফলে গাড়ি চলতে পারে না।
তাছাড়া সেখানে অনেক ভাল্লুক রয়েছে। ভাল্লুকের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি ফলক লাগানো হয়েছে। যখন সে সব স্থান দিয়ে অতিক্রম করা হয়, তখন গাড়ির কাঁচ বন্ধ রাখা হয়। প্রচণ্ড শীতকালে ভাল্লুক গর্তে ঢুকে এবং ছয় মাস পর্যন্ত গর্তের মধ্যে পানাহার ছাড়া কাটিয়ে দেয়। সেই ছয় মাস ঘুমিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে শ্বাস নেয়। চক্ষু বন্ধ রাখে এবং নড়াচড়া করে না; যাতে শক্তি খরচ না হয় এবং আমাদের জীবন নিরাপদ থাকে। এমনকি যদি কেউ তাদের শরীর মাড়িয়ে যায় তবুও তারা বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করে না।
আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে পানাহার ছাড়া অর্ধ-বছর বাঁচিয়ে রাখেন। যারা চুম্বক পাহাড়ে সফর করে, তারা ছয় মাস যাবৎ প্রতিদিন একটি মাত্র ক্যাপসুল ব্যবহার করে। খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং পেশাব-পায়খানারও জরুরত পড়ে না। আল্লাহ্ প্রেমিকদের অবস্থাও ঠিক তাদের মত। কয়েক সপ্তাহ যাবৎ তাঁরা পানাহারবিহীন থাকে কিংবা সামান্য পরিমাণ আহার করেন। এতদসত্ত্বেও তারা স্বাস্থ্যময় জীবন যাপন করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের সামান্য পরিমাণ আহারে অধিক পরিমাণ বরকত দান করেন।