📄 সফরের সহযাত্রী। (Companion for Journey)
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'একাকী সফরের অনিষ্টতা সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি, অন্যেরা তা অবহিত হলে কেউ একাকী রাত্রি বেলায় সফর করত না'। (বোখারী শরীফ)
এক ব্যক্তি দীর্ঘ পথ সফর শেষে নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার সফর সঙ্গী কে? মুসাফির বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো কোন সফর সঙ্গী নেই। আমি একাকীই এসেছি।' প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, 'নিঃসঙ্গ সফরকারী শয়তান, একজন সঙ্গীসহ সফরকারী শয়তান, কিন্তু তিনজন সফরকারী হল মুসাফির।'
📄 ‘হামফ্রে’ এর অভিজ্ঞতা
আমার জীবনের অভিজ্ঞতা হল, মানুষ যেন একাকী সফর না করে। আমি লার্নিয়ার জনশূন্য অঞ্চলে সফর করছিলাম। পথিমধ্যে এমন এক গ্রাম্য লোকের সাক্ষাত পেলাম ধরন-চলনে যাকে হিংস্র বলে মনে হচ্ছিল। সে তার কথার ম্যার-প্যাচে আমাকে ঝুপরির ন্যায় এক ঘরে যেতে বাধ্য করল। সেখানে আমাকে খড়-কুটা দিয়ে তৈরি বিছানায় শয়ন করতে দিল। ক্লান্তির শেষ ছিল না। তাই শয়ন করতে না করতেই ঘুমিয়ে পড়ি। জাগ্রত হওয়ার পর মনে হচ্ছিল যেন দু'দিন পর ঘুম ভাঙল।
ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখেছিলাম খড়-কুটোর সাথে নেশা উদ্রেককারী ঘ্রাণ ও গুণাগুণ বিশিষ্ট কিছু বন্য শিকড়জাত ভেষজ রাখা অথচ আমার তল্পিতল্পা ও পাথেয় কিছুই নেই। নিঃসঙ্গ সফরে বের হওয়ার ক্ষতি সম্পর্কে আমি তখন থেকেই নিশ্চিত হই। আমি পথপ্রদর্শক ও সঙ্গীসহ সফর করার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিতভাবে পরখ করেছি। এরকম সফর নিরাপদ ও কল্যাণকর। (সফর কি ইয়াদ বাতে)
📄 এশার নামাযের পর কথোপকথন ও জাগ্রত থাকা
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার পর জাগ্রত থাকা ও কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলেন, এশার নামাযের পর ধর্মীয় ও পারিবারিক প্রয়োজনে ছাড়া কেউ জাগ্রত থাকবে না। (তাবগীব ও তারতীব)
এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা দিনের ক্লান্তির পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রাতের প্রথম ভাগে শয়ন করা এবং প্রত্যুষে তাড়াতাড়ি শয্যা ত্যাগ করা উচিত। শয়নে দেরি করলে সূর্য উঠার পরও বিছানায় থাকতে হয়। ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর সূর্যের কিরণ পড়লে মারাত্মক ব্যাধি জন্ম নিতে পারে। রাত্রি বেলায় ঘুম কম হওয়ায় প্রয়োজন মাফিক বিশ্রাম না হলে মানসিক চাপ, অস্থিরতা, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণেই নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাযের পরপরই শয়ন করতে বলতেন।
📄 ডাক্তার নিক্সন ভিজিটর এর গবেষণা
রাত্রি বেলায় দেরি করে শয়নে অভ্যস্ত রোগীর মাঝে স্নায়ুবিক ও মানসিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তারা হতাশা আর অস্থিরতা মাঝে দিনাতিপাত করে। এ কারণে তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করতেও উদ্যত হয়।
মোটকথা, দিনের বেলায় শ্রম দেওয়া, রাত্রী বেলায় বিশ্রাম নেওয়া সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়ম। এর ব্যতিক্রম হলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। (কিওর মেডিকেল)