📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হস্তছাপ

📄 হস্তছাপ


বর্তমান যুগে সব জ্ঞানী-গুণী এ বিষয়ে একমত যে, পৃথিবীতে বিদ্যমান অগণিত মানুষের হাতের তালুর গঠন ভিন্ন। অর্থাৎ এমন দু'জন মানুষ পাওয়া যাবে না যাদের উভয়ের হাতের তালু হুবহু এক; এমনকি যদিও তারা উভয়ে জমজ ভাই কিংবা জমজ বোন হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের লোকেরা হাতের তালুর এই স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যকে তাদের পেশাগত কাজে লাগাচ্ছে। তারা হাতের তালুর চিহ্নের মিল-অমিল পরীক্ষা করে অনেক বড় বড় অপরাধীকে সহজেই সনাক্ত করে ফেলছে। এটাকে আধুনিক পরিভাষায় হস্ত ছাপ (Finger Print) বলে।

এই হস্তছাপ এর ইতিহাস অনেক প্রাচীন ও চমৎকার। কথিত আছে, চীন দেশের লোকেরা সর্বপ্রথম আঙ্গুলের সাহায্যে দস্তখত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এ যাবৎ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে এটাই আঙ্গুলিকে দৈনন্দিন ধরা-বাঁধা কাজের বাইরে ব্যবহার করার প্রথম দৃষ্টান্ত। পরবর্তীতে ১৮৫১ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বৃটেনের তিনজন চিন্তাবিদ এ সম্পর্কে চমৎকার জ্ঞান রাখতেন। এ বিষয়ে তাদের রচিত পুস্তকও পাওয়া যায়। কিন্তু কোন অপরাধীকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ও প্রচলন তখনও শুরু হয় নি।

আপনি শুনে খুবই অবাক হবেন যে, ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দে ভারতের বাঙলা প্রদেশে সংঘটিত এক অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রথম হস্তছাপ ব্যবহৃত হয়। এক ব্যক্তি অপর একজনকে হত্যা করে অন্য গ্রামে পালিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তাকে সন্দেহ যুক্ত অবস্থায় ঘোরা-ফেরা করতে দেখে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এ ব্যক্তিই হত্যাকারী। কিন্তু পুলিশের নিকট এ বিষয়ে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল না। অবশেষে যখন অপরাধী ব্যক্তির হস্তছাপ নিহত ব্যক্তির শরীরে বিদ্যমান ছাপের সাথে মিলিয়ে দেখা হলো, তখন উভয় চিহ্ন হুবহু একই রকম প্রমাণিত হয়। ফলে সুনিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং হত্যাকারীকে ফাঁসি দেয়া হয়।

তখন বাংলায় পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ছিলেন একজন ইংরেজ। অপরাধী সনাক্তকরণের এই পদ্ধতি তার কাছে বেশ কার্যকরী বলে মনে হয়েছিল। সার উইলিয়াম হার্সল তখন হুগলিতে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ইন্সপেক্টর তাকে বললেন, 'আপনি এই পদ্ধতিটি যাচাই করে দেখুন।' ফলে তাঁর নির্দেশ অনুসারে তিনি অনুসন্ধান ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালেন এবং এ বিষয়ের উপর একটি গ্রন্থ রচনা করলেন। এই গ্রন্থটি সর্বমহলে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল।

১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে বেঙ্গল প্রদেশের রাজধানী কলকাতায় পৃথিবীর সর্বপ্রথম হস্তছাপ দপ্তর (Finger Print Bureau) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯০৭ খৃষ্টাব্দে এক ব্যক্তি নিজস্ব হস্তছাপ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সব দেশেই হস্তছাপের উপর বিজ্ঞানের গবেষণা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। কোথাও চুরি, ডাকাতি, হত্যা ইত্যাদি সংঘটিত হলে সর্বাগ্রে হস্তছাপ এর সাহায্যে নেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত ও অন্যান্য আসামীর হস্তছাপ সংযুক্ত বহু ফাইল পুলিশের নিকট থাকে। পুলিশ প্রয়োজন অনুসারে সেখান থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারে। এ যুগের অপরাধীরাও বেশ চতুর। তারা হাত মোজা ইত্যাদি পরে চুরি, হত্যা ইত্যাদি অপরাধ করে। তবে এটা বাস্তব যে, অনেক সুদক্ষ ও সুচতুর অপরাধীও নিজের অজান্তে সামান্য ভুল করে বসে। আর সেই ভুলের খেসারত স্বরূপ তাকে কারারুদ্ধ ও সাজাপ্রাপ্ত হতে হয়। কারণ আল্লাহর অমোঘ বিধান হলো 'সত্য চিরঞ্জয়ী'।

সি.আই.ডি (Criminal Investigation Department) সব দেশেই আছে। এরা মূলত পুলিশেরই একটি শাখা। অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত চালিয়ে তারা পুলিশের কাজে সহযোগিতা করে। সি.আই.ডি এর অভিজ্ঞ লোকেরা এ কাজে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে থাকে। যেখানেই কোন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়, তারা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌছে যায় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিবর্গের হস্তছাপ সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে সেই ছাপ তদন্তের কাজে সাহায্য করে। এছাড়া অপরাধী অপরাধ সংঘটনের স্থানে যে সব চিহ্ন রেখে যায়, এক প্রকার পাউডার জাতীয় বিশেষ পদার্থ দ্বারা সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পৃথিবীতে একজনের হস্তছাপের সাথে অন্যজনের হস্তছাপের মিল নেই। অনুরূপভাবে দেখা যায় আঙ্গুলের রেখা ও চক্র বয়সের কোন স্তরেই পরিবর্তিত হয় না। এমনকি পাঁচ-দশ বছর বয়সে হস্ত-রেখা যেমন থাকে, সত্তর বছর বয়সেও তেমনই থাকে। হস্তছাপ নেওয়ার পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। যার হস্তছাপ নেওয়ার প্রয়োজন, তার হাতের তালু বা বৃদ্ধা আঙ্গুলে কালো কালি মালিশ করবে। অতঃপর সেই কালিযুক্ত হাত সাদা কাগজে চেপে রাখবে। তাহলে সেই কাগজে অনুলিপি উঠবে। সাধারণত অশিক্ষিত লোক, যারা নিজেদের নাম লিখতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে এই বিষয় বিজ্ঞানের পাঠ্যভুক্ত। আধুনিক পরিভাষায় এটাকে Dactyloscopy নামে অভিহিত করা হয়। হস্তছাপ সংরক্ষণ অত্যন্ত জটিল ও কষ্টকর। কারণ বর্তমানে সবদেশে এতো অধিক পরিমাণে "হস্তছাপ" জমা হয়েছে, যে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য কয়েকটি বড় বড় রেজিষ্টার খাতার প্রয়োজন। তাছাড়া এগুলো সাধারণ লোকদের নাগালের বাইরে রাখা আবশ্যক। আমি এখানে শুধু আমেরিকার উদাহরণ তুলে ধরছি। ১৯৮০ খৃষ্টাব্দে সরকারি হিসাব অনুযায়ী আমেরিকার এফ.বি.আই তে পনের কোটি হস্তছাপ রক্ষিত ছিল। যারা আমেরিকার নিয়ম প্রণালী সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের কাছে এ সংখ্যা চিন্তা ও অবিশ্বাসের কারণ হতে পারে। কেননা এই সংখ্যা আমেরিকার অর্ধেক অধিবাসীর সমান। এ কারণে এ বিষয়ে কিঞ্চিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো। মূলত এফ.বি.আই দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে হস্তছাপ বিনিময় করে। ফলে তারা লাখ লাখ কপি জমা করে রাখে। কিন্তু সঠিক হিসাব অনুসারে আমেরিকার অধিবাসীদের হস্তছাপ এক লক্ষের কাছাকাছি হবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 তিনশ পঞ্চাশটি গির্জা নিয়ন্ত্রণকারী এক পাদ্রী

📄 তিনশ পঞ্চাশটি গির্জা নিয়ন্ত্রণকারী এক পাদ্রী


মালিক মুহাম্মদ আনওয়ার সাহেব আমাদের বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ফিলিপাইনস ভ্রমণে ছিলাম। এক জায়গায় নামাযের সময় হলে সকলেই ওযু করছিলাম। এক খৃষ্টান আমাদের লক্ষ্য করতে থাকল। তারপর বলল, 'তোমরাই সবাই কি পাগল?' আমরা না সূচক জবাব দিলে তিনি বললেন, 'আমাদের দেশে পাগলদের চিকিৎসার জন্য এসব অঙ্গে পানি প্রবাহিত করানো হয়। তোমরাও এ সব অঙ্গ ধৌত করলে।'

তিনি আরো বলেন, 'আমরা যাত্রাপথে বন্ধু-বান্ধব মিলে এক বড় জাহাজের একটি কামরা ভাড়া করলাম। আমাদের পাশের কামরায় খৃষ্টানদের এক পাদ্রী ছিল। ৩৫০টি গির্জা তার অধীন ছিল। গন্তব্যস্থল পর্যন্ত পৌঁছতে আমাদের প্রয়োজন ছিল পঞ্চাশ ঘণ্টা। এ দীর্ঘ সময় তিনি আমাদের কুরআন তেলাওয়াত, নামায এবং আরো অন্যান্য ইসলামী আমলসমূহ দেখে বললেন, 'মুসলমানদের তিনটি আমল দেখে আমি খুবই প্রভাবিত হয়েছি: ১. জামাতের সাথে নামায আদায় করা। এটা নিয়মানুবর্তিতার চূড়ান্ত পর্যায়। এক ইমামকে অনুসরণ করে বিনা বাক্যে শত শত মানুষ বিশেষত হজ্জের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ একই আমল করে। ২. এক সাথে আহার করা। ৩. বিজ্ঞানসম্মত পোশাক। আমি অভিভূত হয়ে আপনাদের এ সব আমল বারবার লক্ষ্য করছি। আজকেও কয়েকবার দেখেছি। এগুলো আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছে। আমি মুসলমান হতে চাই।' অবশেষে সে পাদ্রী ইসলামে দীক্ষিত হলেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আরোগ্য লাভের সত্য ঘটনা (True Story of Getting Relief)

📄 আরোগ্য লাভের সত্য ঘটনা (True Story of Getting Relief)


আমি অধিকাংশ সময় ঘটনা উল্লেখ করি। কারণ ঘটনা দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায়। ড. যয়নুল আবেদীন সাহেব বার্লিনে মরহুম যাকের হোসাইন সাহেবের সঙ্গে অর্থনীতির উপর পি.এইচ.ডি করেছেন। তাঁরা উভয়ে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেছেন। ড. যয়নুল আবেদীন সাহেবের বাড়ি ভারতে। তবে তিনি বর্তমানে মক্কায় অবস্থান করছেন। তাঁর জামাতা ও ছেলেরা সৌদি আরবে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত। তার মুখে লম্বা দাড়ি দেখে মনে হয় তিনি এক বিরাট বুযুর্গ। তিনি প্রতিদিন হানাফী জায়নামাযে পনের বিশ মিনিট অবস্থান করতেন। এবার আল্লাহ তা'আলার অসীম কুদরতের নিদর্শনের একটি ঘটনা শুনুন।

একবার ডা. যয়নুল আবেদীন সাহেব যাকের হুসাইন সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সুদূর আরব থেকে এসেছিলেন। তিনি তখন সিন্ধুতে ছিলেন। লোকজন ডা. সাহেবকে জুমার খুতবা পাঠ করার জন্যে পীড়াপীড়ি করছিল। কেননা তার দীর্ঘ শুশ্রূষা তাকে আলেম হিসেবে পরিচিতি করেছিল। তখন তিনি বললেন, আমি আলেম নই। আমি বার্লিন থেকে পি.এইচ.ডি করেছি। বস্তুত আল্লাহ পাক তাঁকে আধ্যাত্মিকতায় আলেমদের চেয়েও বহুগুণ উপরে উঠিয়েছিলেন। তাঁর মুখমণ্ডল দেখে মনে হতো যেন নূরের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। সে যুগে মাইকের ব্যবস্থা ছিল না। তাই হযরত মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতেন আর নামায পড়াতেন সামনের মেহরাবে গিয়ে। মেহরাব থেকে মহিলাদের কাছেই মাইক রেখে দিতেন। ড. যয়নুল আবেদীন সাহেব হযরতের সেই মিম্বরে বসে বক্তৃতা করছিলেন। তার বক্তৃতা ছিল অত্যন্ত সুন্দর মর্মস্পর্শী। তিনি অনেকগুলো ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

ঘটনাগুলো এমন যেগুলি শুনলে ঈমান সজীব ও দৃঢ় হয়। তন্মধ্যে একটি ঘটনা আজও আমার মনে আছে। হেরেম শরীফে অবস্থান কালে তাঁর উক্ত ঘটনাটি পুনরায় জানতে চাইলে, তিনি বলেন, বার্লিনে অর্থনীতির একজন শিক্ষক ছিলেন। সে যুগে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও দক্ষ অর্থনীতিবিদ হিসাবে খ্যাত ছিলেন। ড. সাহেব তার শিক্ষকের নামও উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু তার নাম আমার স্মৃতি থেকে ঝরে গেছে।

ড. সাহেব আল্লাহ পাকের কুদরত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'একবার সেই শিক্ষকের স্ত্রীর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়েছিল। একদিনের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও ব্যথা উপশম হল না; বরং রোগীর চিৎকারে পরিবারের সবার চোখের ঘুম বিদায় নিয়েছিল। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হল। কিন্তু রোগ নির্ণয় করা কারো পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। রোগিণীকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করার কথাও ভাবা হচ্ছিল। তখন আমি বললাম, 'আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা এ কাজ করবেন না। ইসলামে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অনুমতি নেই। আল্লাহর রহমত থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হওয়া হারাম, (ঐ সময়ে তারা খৃস্টান ও হিটলারের অনুসারী ছিলেন)'। তখন তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করেন, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আলোচ্য আয়াতের আশ্বাসে মুসলমানেরা আশাবাদী। তাই তাদের মাঝে আত্মহত্যার ঘটনা খুবই বিরল। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা হলো, তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। কিন্তু ইসলামে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। গোটা জীবন কুফর ও শিরকের পঙ্কিলতায় লিপ্ত থাকলেও, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ পাক এমন ব্যক্তিকেও তওবা করার তাওফীক দান করতে পারেন। মৃত্যু যন্ত্রণা শুরুর পূর্বেই কেউ যদি তওবা করে তাহলে তার জান্নাতে প্রবেশ নিশ্চিত। রহমাতুল লিল আলামীন ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কালেমা পাঠ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'

উপরোক্ত হাদীসে শৈশবে কালিমা পাঠ করার কথা বলা হয়নি। বরং হাদীসের মর্ম হল, কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পূর্বে বিশুদ্ধ চিত্তে ইসলামের কালেমা পাঠ করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিওবা সে জীবনে এক ওয়াক্ত নামাযও আদায় না করে। ভেবে দেখুন, এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কি হতে পারে? যাই হোক, ড. সাহেব তাদেরকে বললেন, 'আমাকে একটা ব্যবস্থাপত্র পরীক্ষা করার সুযোগ দিন।' তিনি বলেন, এরপর আমি এক গ্লাস পানি নিয়ে অন্যদের থেকে সরে গিয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করে বিনয়ের সাথে দোয়া করলাম, হে আল্লাহ! এ ব্যক্তি তোমারই বান্দা, আমার কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আমি তোমার কালাম পাঠ করেছি। তোমার বাণীর ওসীলায় তাকে আরোগ্য কর। রোগিণী রোগ থেকে মুক্তি পেলে ইসলামের বড়ত্বের ছাপ তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হবে এবং নবী প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি যে সাদা দাড়ি রেখেছি, তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে। আল্লাহর কি অসীম কুদরত! পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে রোগিণী সম্পূর্ণ সুস্থ হল। বড় বড় ডাক্তারা অভিভূত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি তাকে জাদু করেছেন? বললাম, আমি কোন জাদু করি নি; বরং আল্লাহ পাকের কালাম তেলাওয়াত করেছি। আমি কি করেছি তা জানার জন্য তারা বারবার আমাকে অনুরোধ করছিল। কিন্তু আমি তা প্রকাশ করতে বারংবার অস্বীকৃতি জানাই। কারণ আমার ধারণা, তারা কুরআনে অবিশ্বাসী হেতু তাদের নিকট কুরআনের কথা উল্লেখ করা আর নিজের ও কুরআনের অবমাননা করা একই কথা। অনেক পীড়াপীড়ির পর কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করার কথা জানালে তারা মুগ্ধ হয়ে 'আল্লাহু আকবর' বলে উঠল। আল্লাহর কালামের ওসীলায় রোগ মুক্তি ঘটে তারা তা মেনে নিল।

ড. সাহেব বর্ণনা করেন, 'পরবর্তীতে কারো কোন অসুবিধা হলে তখন তখনই পানির গ্লাস হাতে আমার কাছে ছুটে আসতো এবং আমি যাদের জন্যই পানি পড়ে দিয়েছি, তারা সুস্থতা লাভ করেছে। পরবর্তীতে ঐ পরিবারের সবাই পাদ্রিদের ছেড়ে আমার ভক্ত হয়েছে। এরপর থেকে আমি নামাযের প্রতি বিশেষ যত্নবান হলাম যেন কেউ আমাকে একথা বলার সুযোগ না পায় যে, এ ব্যক্তি বড় ঈমানদার হয়েও নামাযের প্রতি যত্নবান নন। কারণ তাদের পাদ্রী অনেক উঁচু দরের আলেম ছিলেন। তাদের দেশে পাদ্রীদের যে মর্যাদা, আমাদের এখানে আলেমদের সে মর্যাদা নেই। এ কারণেই ড. সাহেব অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মত ধর্মের অনুসরণে আত্মনিয়োগ করেন এবং ঐ পাদ্রীদের চেয়ে তিনি বেশি ধর্মনিষ্ঠ এটা তাদের চোখেও তুলে ধরেছেন।

ড. সাহেব আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ আমাদের মাঝে ঈমান থাকলে আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, আল্লাহ তা'লা হযরত ইবরাহীম আ.কে যেমন অগ্নি থেকে রক্ষা করেছেন, আমাদেরকেও তেমনি অগ্নি থেকে রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে রক্ষা করেন কি-না এটা প্রমাণ চাইলে আপনারা আগুন প্রস্তুত করুন, আমি তাতে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত আছি। ইনশাআল্লাহ আমার তাতে একটুও কষ্ট হবে না। কেননা আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মুহাব্বতে এ কাজ করব।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সফরের সহযাত্রী। (Companion for Journey)

📄 সফরের সহযাত্রী। (Companion for Journey)


নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'একাকী সফরের অনিষ্টতা সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি, অন্যেরা তা অবহিত হলে কেউ একাকী রাত্রি বেলায় সফর করত না'। (বোখারী শরীফ)

এক ব্যক্তি দীর্ঘ পথ সফর শেষে নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার সফর সঙ্গী কে? মুসাফির বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো কোন সফর সঙ্গী নেই। আমি একাকীই এসেছি।' প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, 'নিঃসঙ্গ সফরকারী শয়তান, একজন সঙ্গীসহ সফরকারী শয়তান, কিন্তু তিনজন সফরকারী হল মুসাফির।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00