📄 লিউয়েন পাওন এর অনুসন্ধান
হযরত আবু কাতাদা রাযি. হতে বর্ণিত, নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো হয়। তোমাদের কেউ ভাল স্বপ্ন দেখলে সে স্বপ্ন হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু ব্যতীত আর কারো কাছে বর্ণনা করবে না। আর খারাপ স্বপ্ন দেখলে কাউকেই বলবে না। বরং আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম (আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পড়ে তিনবার বামে থুথু ফেলবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। এতে করে খারাপ স্বপ্নের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে।
আরামদায়ক বিছানা মেরুদণ্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমি এমন রোগী প্রত্যক্ষ করেছি যে, নরম বিছানা ব্যবহারের ফলে যার মেরুদণ্ডে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের হাড় থাকে নরম। তাদেরকে যদি নরম বিছানায় শোয়ানো হয়, তাহলে হাড় বাঁকা হয়ে যেতে পারে। ফলে আজীবন অনেকটা বিকলাঙ্গ অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয়। আরামদায়ক বিছানা ব্যবহারের ফলে কোমর ও পিঠের হাড় ঢিলা হয়ে যায়। ফলে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা সৃষ্টি হয়। সবসময় আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করতে থাকলে দিন দিন ব্যথা বৃদ্ধিই পেতে থাকে।
📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেরাজ
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেরাজ সম্পর্কে বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ জুয়াফ আলেকজান্ডার বলেন, এক কাফের মনোবিজ্ঞানীর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেরাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মেরাজে ইলেকট্রনিক্স যান/বাহন (বারকি সাওয়ারি) ব্যবহৃত হয়েছিল। বারক শব্দের অর্থ হল 'আলো অথবা বিদ্যুৎ'। তোমার ফ্যাক্স কিভাবে কাজ করে (?), টি.ভি এবং ডিশ এর আলোক চুম্বকীয় তরঙ্গ (Electro-Magnetic Wave) হাজার হাজার মাইল দূরের চিত্রকে অবিকল তোমার সামনে উপস্থিত করে? ফ্যাক্স মেশিন কয়েক সেকেন্ডে হাজারো মাইল দূরবর্তী প্রান্তে হুবহু সংবাদটি পৌঁছে দেয়? এগুলোতে আলো ও বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বারক বা বিদ্যুৎ ও আলো ছিলো সর্বোৎকৃষ্ট। অতএব, তাঁর মেরাজ সত্য। এতে কোন সন্দেহ নেই।' (Acceeding of Holy Prophet (PBUH-Peace be upon him))
📄 আল্লাহ তা‘আলার কুদরতের নিদর্শন
নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি পাঠ করে আল্লাহ তা'আলার কুদরতের প্রতি লক্ষ্য করুন এবং নিজের ঈমানের খোরাক সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন।
📄 হস্তছাপ
বর্তমান যুগে সব জ্ঞানী-গুণী এ বিষয়ে একমত যে, পৃথিবীতে বিদ্যমান অগণিত মানুষের হাতের তালুর গঠন ভিন্ন। অর্থাৎ এমন দু'জন মানুষ পাওয়া যাবে না যাদের উভয়ের হাতের তালু হুবহু এক; এমনকি যদিও তারা উভয়ে জমজ ভাই কিংবা জমজ বোন হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের লোকেরা হাতের তালুর এই স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যকে তাদের পেশাগত কাজে লাগাচ্ছে। তারা হাতের তালুর চিহ্নের মিল-অমিল পরীক্ষা করে অনেক বড় বড় অপরাধীকে সহজেই সনাক্ত করে ফেলছে। এটাকে আধুনিক পরিভাষায় হস্ত ছাপ (Finger Print) বলে।
এই হস্তছাপ এর ইতিহাস অনেক প্রাচীন ও চমৎকার। কথিত আছে, চীন দেশের লোকেরা সর্বপ্রথম আঙ্গুলের সাহায্যে দস্তখত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এ যাবৎ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে এটাই আঙ্গুলিকে দৈনন্দিন ধরা-বাঁধা কাজের বাইরে ব্যবহার করার প্রথম দৃষ্টান্ত। পরবর্তীতে ১৮৫১ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বৃটেনের তিনজন চিন্তাবিদ এ সম্পর্কে চমৎকার জ্ঞান রাখতেন। এ বিষয়ে তাদের রচিত পুস্তকও পাওয়া যায়। কিন্তু কোন অপরাধীকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ও প্রচলন তখনও শুরু হয় নি।
আপনি শুনে খুবই অবাক হবেন যে, ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দে ভারতের বাঙলা প্রদেশে সংঘটিত এক অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রথম হস্তছাপ ব্যবহৃত হয়। এক ব্যক্তি অপর একজনকে হত্যা করে অন্য গ্রামে পালিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তাকে সন্দেহ যুক্ত অবস্থায় ঘোরা-ফেরা করতে দেখে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এ ব্যক্তিই হত্যাকারী। কিন্তু পুলিশের নিকট এ বিষয়ে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল না। অবশেষে যখন অপরাধী ব্যক্তির হস্তছাপ নিহত ব্যক্তির শরীরে বিদ্যমান ছাপের সাথে মিলিয়ে দেখা হলো, তখন উভয় চিহ্ন হুবহু একই রকম প্রমাণিত হয়। ফলে সুনিশ্চিতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং হত্যাকারীকে ফাঁসি দেয়া হয়।
তখন বাংলায় পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ছিলেন একজন ইংরেজ। অপরাধী সনাক্তকরণের এই পদ্ধতি তার কাছে বেশ কার্যকরী বলে মনে হয়েছিল। সার উইলিয়াম হার্সল তখন হুগলিতে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ইন্সপেক্টর তাকে বললেন, 'আপনি এই পদ্ধতিটি যাচাই করে দেখুন।' ফলে তাঁর নির্দেশ অনুসারে তিনি অনুসন্ধান ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালেন এবং এ বিষয়ের উপর একটি গ্রন্থ রচনা করলেন। এই গ্রন্থটি সর্বমহলে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল।
১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে বেঙ্গল প্রদেশের রাজধানী কলকাতায় পৃথিবীর সর্বপ্রথম হস্তছাপ দপ্তর (Finger Print Bureau) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯০৭ খৃষ্টাব্দে এক ব্যক্তি নিজস্ব হস্তছাপ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সব দেশেই হস্তছাপের উপর বিজ্ঞানের গবেষণা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। কোথাও চুরি, ডাকাতি, হত্যা ইত্যাদি সংঘটিত হলে সর্বাগ্রে হস্তছাপ এর সাহায্যে নেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত ও অন্যান্য আসামীর হস্তছাপ সংযুক্ত বহু ফাইল পুলিশের নিকট থাকে। পুলিশ প্রয়োজন অনুসারে সেখান থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারে। এ যুগের অপরাধীরাও বেশ চতুর। তারা হাত মোজা ইত্যাদি পরে চুরি, হত্যা ইত্যাদি অপরাধ করে। তবে এটা বাস্তব যে, অনেক সুদক্ষ ও সুচতুর অপরাধীও নিজের অজান্তে সামান্য ভুল করে বসে। আর সেই ভুলের খেসারত স্বরূপ তাকে কারারুদ্ধ ও সাজাপ্রাপ্ত হতে হয়। কারণ আল্লাহর অমোঘ বিধান হলো 'সত্য চিরঞ্জয়ী'।
সি.আই.ডি (Criminal Investigation Department) সব দেশেই আছে। এরা মূলত পুলিশেরই একটি শাখা। অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত চালিয়ে তারা পুলিশের কাজে সহযোগিতা করে। সি.আই.ডি এর অভিজ্ঞ লোকেরা এ কাজে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে থাকে। যেখানেই কোন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়, তারা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌছে যায় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিবর্গের হস্তছাপ সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে সেই ছাপ তদন্তের কাজে সাহায্য করে। এছাড়া অপরাধী অপরাধ সংঘটনের স্থানে যে সব চিহ্ন রেখে যায়, এক প্রকার পাউডার জাতীয় বিশেষ পদার্থ দ্বারা সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়।
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পৃথিবীতে একজনের হস্তছাপের সাথে অন্যজনের হস্তছাপের মিল নেই। অনুরূপভাবে দেখা যায় আঙ্গুলের রেখা ও চক্র বয়সের কোন স্তরেই পরিবর্তিত হয় না। এমনকি পাঁচ-দশ বছর বয়সে হস্ত-রেখা যেমন থাকে, সত্তর বছর বয়সেও তেমনই থাকে। হস্তছাপ নেওয়ার পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। যার হস্তছাপ নেওয়ার প্রয়োজন, তার হাতের তালু বা বৃদ্ধা আঙ্গুলে কালো কালি মালিশ করবে। অতঃপর সেই কালিযুক্ত হাত সাদা কাগজে চেপে রাখবে। তাহলে সেই কাগজে অনুলিপি উঠবে। সাধারণত অশিক্ষিত লোক, যারা নিজেদের নাম লিখতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে এই বিষয় বিজ্ঞানের পাঠ্যভুক্ত। আধুনিক পরিভাষায় এটাকে Dactyloscopy নামে অভিহিত করা হয়। হস্তছাপ সংরক্ষণ অত্যন্ত জটিল ও কষ্টকর। কারণ বর্তমানে সবদেশে এতো অধিক পরিমাণে "হস্তছাপ" জমা হয়েছে, যে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য কয়েকটি বড় বড় রেজিষ্টার খাতার প্রয়োজন। তাছাড়া এগুলো সাধারণ লোকদের নাগালের বাইরে রাখা আবশ্যক। আমি এখানে শুধু আমেরিকার উদাহরণ তুলে ধরছি। ১৯৮০ খৃষ্টাব্দে সরকারি হিসাব অনুযায়ী আমেরিকার এফ.বি.আই তে পনের কোটি হস্তছাপ রক্ষিত ছিল। যারা আমেরিকার নিয়ম প্রণালী সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের কাছে এ সংখ্যা চিন্তা ও অবিশ্বাসের কারণ হতে পারে। কেননা এই সংখ্যা আমেরিকার অর্ধেক অধিবাসীর সমান। এ কারণে এ বিষয়ে কিঞ্চিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো। মূলত এফ.বি.আই দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে হস্তছাপ বিনিময় করে। ফলে তারা লাখ লাখ কপি জমা করে রাখে। কিন্তু সঠিক হিসাব অনুসারে আমেরিকার অধিবাসীদের হস্তছাপ এক লক্ষের কাছাকাছি হবে।