📄 মধ্যমপন্থা (Equition)
মোটকথা, উপঢৌকন দেওয়ার সময়ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। কারণ মধ্যমপন্থা থেকে বিচ্যুতির কারণে অনেকেই বিভিন্ন আনন্দ উপলক্ষে প্রকৃত আনন্দের স্বাদ উপভোগ তো করেই না; বরং আর্থিক সমস্যায় নিপীড়িত হয়। ঈদ, বিয়ে-শাদী কিংবা অন্য যে কোন আনন্দ উৎসব হোক না কেন বিত্তশালীরা ঐ সব উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত খরচ করে। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরাও প্রভাবিত হয়। একজন অপরজনের চেয়ে সামাজিকভাবে প্রাধান্য লাভের বাসনায় সীমালঙ্ঘন ও বাহুল্য খরচের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
তাদের আয় ও ব্যয়ের সাম্য রক্ষিত হয় না। একমাত্র মধ্যমপন্থা অবলম্বনই করেই নিজের আর্থিক সামর্থ্যের অতিরিক্ত খরচ কিংবা ঘৃণ্য কৃচ্ছতা থেকে বেঁচে থাকা যায়। অনেক সময় সামর্থ্যের অতিরিক্ত ব্যয় সামলে উঠার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় পড়তে হয়। এতে করে এক দিকে অনর্থক খরচের বিষফল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অপরদিকে দম্ভ, যশ ও আড়ম্বর প্রদর্শনের পথে অর্থ ব্যয় করে আল্লাহর নেয়ামতের নাশোকরি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সাদাসিধে মধ্যম পন্থার সারমর্ম এটাই যে উপঢৌকন আদান-প্রদানসহ জীবনের সব বিষয়ে ব্যয় যেন আয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে।
📄 উপঢৌকনের বিনিময়ে উপঢৌকন দেয়া (Gift in Return of a Gift)
উপঢৌকনের বিনিময়ে উপঢৌকন দেওয়া উচিৎ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে পছন্দনীয় উপঢৌকন ছিল সুগন্ধি। উপঢৌকন সামর্থ্য অনুযায়ী হলেই চলে। এ চিন্তা করে পিছপা হওয়া উচিৎ নয় যে আমি মূল্যবান উপঢৌকন দিতে পারি না, তাই উপঢৌকনই দেব না।
ঈদে উপঢৌকন নির্বাচনে আমরা স্বভাবত বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব্বে পড়ি। ফুল প্রকৃতির একটি অমূল্য উপঢৌকন। উপঢৌকন হিসেবে এটি নজরকাড়া এবং চিত্তাকর্ষক। সুন্দর মোড়ক উপঢৌকনের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করে। মোড়কে রং-বেরং এর কাগজের বেষ্টনী, ঝালর, ফিতা ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে, অসন্তুষ্ট বন্ধুদেরকে এ সব উপঢৌকন দিয়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট করা যেতে পারে। (গেইন গিফট অবলম্বনে)
📄 বরকতে নববী (Barkat Nabvi-Modern Science)
হযরত আবু উবায়দা রাযি বলেন, আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি বকরি রান্না করলাম। তিনি কাঁধের গোস্ত পছন্দ করতেন। তাই তাঁর খিদমতে কাঁধের অংশ পেশ করলাম। অতঃপর তিনি আরেকটি আনতে বললে দ্বিতীয় কাঁধটিও তাঁর খিদমতে পেশ করলাম। এরপর আরেকটি আনতে বললেন। আমি তখন বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! বকরির বাহু তো দুটিই হয়।' প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'শপথ ঐ সত্ত্বার যার কবজায় আমার আত্মা! আমি যতক্ষণ চাইতাম, ততক্ষণ তুমি যদি চুপ থাকতে, তাহলে নিঃসন্দেহে ডেগছি থেকে বকরির কাঁধ বের হয়ে আসতে থাকত।' এটা ছিল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মু'জেযা।
মুসনাদে আহমাদে আবু রাফে থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। মূলত এ ঘটনা দু'বার ঘটা অসম্ভব নয়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীতে এ রকম আরো অনেক ঘটনা রয়েছে। কাযী ইয়ায রহ. কিতাবুশ্ শিফাতে এ জাতীয় কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
হযরত আবু আইয়ুব রাযি. একবার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আবু বকর রাযি.কে দাওয়াত করলেন এবং শুধু দুজনের জন্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার পাক করলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ৩০ জন নেতৃস্থানীয় আনসারকে ডেকে আন। তিনি ৩০ জন আনসারকে ডেকে আনলেন। সবার খাওয়া সমাপ্ত হলে হুজুর আরো ষাটজনকে ডেকে আনতে বললেন। এ ষাটজনকে খাওয়ানোর পর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কিছু লোককে ডাকালেন। এভাবে শেষ পর্যন্ত ১৮০ জন লোক মাত্র দুজনের খাবার তৃপ্তি সহকারে আহার করলেন।
হযরত সামুরা রাযি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন এক স্থান থেকে এক পেয়ালা গোস্ত আসল। মানুষ ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এসে সে গোস্ত তৃপ্তি সহকারে আহার করল।
হযরত আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, আমার এক থলিতে দশটির কিছু বেশি খেজুর ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, খাওয়ার কিছু আছে কি না? আমি বললাম, এই থলিতে ক'টি খেজুর আছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে থলি থেকে কয়েকটি খেজুর বের করে ছড়িয়ে দিলেন এবং দোয়া পড়ে বললেন 'দশজন দশজন করে লোককে খাওয়াতে থাক। এভাবে পালাক্রমে সব সাথীই সেই থলি থেকে খেজুর খেলেন এবং খাওয়া শেষে থেকে যাওয়া খেজুর আমাকে ফেরত দিয়ে বললেন, 'এই থলি থেকে এভাবে খেতে থাকবে। তবে থলিকে উল্টিয়ে একবারে শূন্য করে ফেলবে না।' আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ থেকে উসমান রাযি. এর শাসনকাল পর্যন্ত আমি এ থলি থেকে খেজুর খেতাম এবং প্রয়োজন মুহূর্তে সদকাও করতাম। এর (খাওয়া এবং দান করা খেজুরের) পরিমাণ কয়েক মণ হতে পারে। হযরত উসমান রাযি. এর শাহাদতের সময় কোন এক ব্যক্তি জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে এ থলি ছিনিয়ে নেয়। পরে আর তা পাই নি।
হযরত আনাস রাযি বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওলিমা উপলক্ষে আমার আম্মা 'মালিদা' (ঘি ও চিনি মিশ্রিত রুটি) তৈরি করে এক পিয়ালা মালিদা আমাকে দিয়ে তাঁর খেদমতে প্রেরণ করলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'পাত্রটি রেখে অমুক অমুক (নাম নিয়ে নিয়ে বললেন) ব্যক্তিকে এবং পথিমধ্যে যাদের সাথে সাক্ষাত হয়, তাদেরকেও ডেকে আন। আমি নির্দেশ মোতাবেক লোকজনকে ডেকে আনলাম। এতে হুজুরের কামরা ও আহলে ছুফফার বসবাসের স্থান লোকে পূর্ণ হয়ে গেল। নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, '১০ জন ১০ জন করে গোলাকারভাবে বসে খেতে থাক।' অতঃপর সবাই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলে নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, 'এই পাত্রটি উঠাও।' হযরত আনাস রাযি বলেন, 'পাত্রটি উঠানোর সময় বেশি ভর্তি ছিল, না-কি পূর্ব থেকেই পাত্রটি এত ভারী ছিল, তা আমি আন্দাজ করতে পারছিলাম না।'
📄 লিউয়েন পাওন এর অনুসন্ধান
হযরত আবু কাতাদা রাযি. হতে বর্ণিত, নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো হয়। তোমাদের কেউ ভাল স্বপ্ন দেখলে সে স্বপ্ন হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু ব্যতীত আর কারো কাছে বর্ণনা করবে না। আর খারাপ স্বপ্ন দেখলে কাউকেই বলবে না। বরং আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম (আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পড়ে তিনবার বামে থুথু ফেলবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। এতে করে খারাপ স্বপ্নের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে।
আরামদায়ক বিছানা মেরুদণ্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমি এমন রোগী প্রত্যক্ষ করেছি যে, নরম বিছানা ব্যবহারের ফলে যার মেরুদণ্ডে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের হাড় থাকে নরম। তাদেরকে যদি নরম বিছানায় শোয়ানো হয়, তাহলে হাড় বাঁকা হয়ে যেতে পারে। ফলে আজীবন অনেকটা বিকলাঙ্গ অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয়। আরামদায়ক বিছানা ব্যবহারের ফলে কোমর ও পিঠের হাড় ঢিলা হয়ে যায়। ফলে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা সৃষ্টি হয়। সবসময় আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করতে থাকলে দিন দিন ব্যথা বৃদ্ধিই পেতে থাকে।