📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দ্রুত গতিতে হাঁটা (Light Pacing)

📄 দ্রুত গতিতে হাঁটা (Light Pacing)


হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি. বলেন, আমি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে কাউকে বেশি সুন্দর দেখি নি। মনে হয়, তাঁর চেহারায় সূর্য চমকাচ্ছে। আমি কাউকে তাঁর মত দ্রুত চলতেও দেখি নি। মনে হয়, তাঁর সম্মানে যমীন নিজেকে সংকুচিত করছে (যেমন— দু'মিনিট পূর্বে ছিলেন এখানে, কিছুক্ষণ পর চলে গেলেন ওখানে)। তাঁর সমান গতিতে চলতে আমাদের খুব কষ্ট হত। অথচ তিনি স্বাভাবিক গতিতে চলতেই থাকতেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হাকীম এস.এম. ইকবালের পর্যবেক্ষণ

📄 হাকীম এস.এম. ইকবালের পর্যবেক্ষণ


ইউরোপ সফরে আমি দেখেছি তারা দ্রুতগতিতে চলাফেরা করছে। মনে হচ্ছে যেন তারা পলায়ন করছে। তারা সময় বাঁচানোর জন্য দ্রুত বেগে চলে। তাদের কাছে সময় অমূল্য সম্পদ। এ কারণেই তারা পার্থিব সফলতার শীর্ষে রয়েছে। অথচ আমি মুসলিম দেশে জনগণকে অত্যন্ত ধীরগতিতে অলসভাবে চলতে দেখেছি। মনে হয় যেন তাদের কাছে সময় এক মূল্যহীন বস্তু। এ জন্যই সমষ্টিগতভাবে মুসলিম সমাজ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

পূর্বোল্লিখিত বর্ণনায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কর্ম-পদ্ধতির মাধ্যমে মূলত সময়ের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন এবং মুসলমানদেরকে প্রতিটি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার শিক্ষা দিয়েছেন। একবার হযরত উমর রাযি. এক যুবককে ধীর গতিতে হেঁটে যেতে দেখলেন। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কোন রোগ-ব্যাধি আছে?' সে বলল, 'না'। তখন হযরত উমর রাযি. তার লাঠি উঠিয়ে ধমকাতে ধমকাতে বললেন, 'রাস্তায় যথাসম্ভব দ্রুত চল।' নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় চলাকালীন দৃঢ়ভাবে পা রেখে চলতেন। মনে হত তিনি যেন নিম্নভূমিতে অবতরণ করছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উপঢৌকন দেওয়া (Gift Giving)

📄 উপঢৌকন দেওয়া (Gift Giving)


উপঢৌকন সম্পর্কে আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে। এ সব অনুসন্ধানের সারাংশ হল উপঢৌকন আদান-প্রদানের ফলে মানুষ সমাজ জীবনে সৌহার্দের সাথে সহাবস্থানের শিক্ষা লাভ করে। এ বিষয়ে ডাক্তার রিচার্ডের বই 'গেইন গিফট' পাঠ করা একান্ত প্রয়োজন।

উপঢৌকন আবেগ প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম। আনন্দজনক উপলক্ষে উপঢৌকন প্রেরণ কেবল একটি প্রথাই নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। যেভাবে কাউকে ভাল নামে আহ্বান করা অথবা আন্তরিকতার সাথে অগ্রসর হয়ে কারো সাথে সাক্ষাৎ করাটা ভালবাসার প্রকাশ, তদ্রূপ ভালবাসা প্রকাশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে উপঢৌকনের ভূমিকাও কম নয়। ধন-সম্পদ উপঢৌকন দেওয়ার ফলেও একজনের সাথে অপরজনের অন্তরের সম্পর্ক স্থাপিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপঢৌকন দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে আরেকটা উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো উপঢৌকন অন্তরের ময়লা ও কালিমা তথা হিংসা, বিদ্বেষ ও ক্ষোভ দূর করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আচরণ (His [PBUH] Behaviour)

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আচরণ (His [PBUH] Behaviour)


স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথীদের জন্য অধিক পরিমাণ উপঢৌকন পাঠাতেন। সাহাবায়ে কেরামও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এবং নিজেদের পরস্পরের কাছে উপঢৌকন পাঠাতেন।

ঈদ তো মুসলমানদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের সময় বন্ধু-বান্ধব এবং নিকটাত্মীয়দেরকে মূল্যবান উপঢৌকন দেওয়া নিয়ে অনেকেই অস্থির ও পেরেশান হয়। অথচ উপঢৌকন দেওয়ার সময়ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা এবং নিজের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিৎ। এমনটি ভাবা ঠিক নয় যে, কেবল মূল্যবান বস্তুই উপঢৌকন হিসেবে দিতে হবে। কারণ উপঢৌকন মূল্যবান হওয়া না হওয়া উপঢৌকন দানকারীর আবেগ ও ভালবাসার উপর নির্ভর করে। উপঢৌকন এর মূল্য তার আর্থিক দামের উপর নির্ভরশীল নয়। মূলত আন্তরিকতা ও ভালবাসাই দুটি হৃদয়কে সহানুভূতিশীল করে (উপঢৌকন নয়)। এমনিভাবে উপঢৌকন গ্রহণ করার সময় উপঢৌকন দানকারীর আন্তরিকতা ও ভালবাসার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—'যদি আমাকে কেউ উপঢৌকন হিসাবে ছাগলের একটি পা-ও দান করে, অবশ্যই আমি তা গ্রহণ করব। যদি কেউ দাওয়াত করে কেবল একটা পা খাওয়ায়, অবশ্যই আমি তার দাওয়াতে উপস্থিত হব।' (তিরমিযী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00