📄 আর্জেন্টিনা ভ্রমণ এবং আলাপচারিতার আদব
একবার বন্ধু শিবলীর সাথে এক ঝিলের (হ্রদ) পার্শ্ব দিয়ে পায়চারি করছিলাম। সে আমাকে তখন বলল, 'আপনি কি কখনো সে প্রফেসরের সাথে সাক্ষাত করেছেন?' আমি বললাম, 'না'। পরে আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বললেন, 'তিনি অনেক বড় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ'।
পরের দিন তার সাথে সাক্ষাত করে জানালাম, 'একমাত্র আপনার সাক্ষাতেই আমরা এখানে এসেছি।' এতে তিনি খুব আনন্দিত হলেন। এ কথা প্রসঙ্গে তিনি জীবন-যাপনের কিছু মূল নীতি তুলে ধরলেন। এ সবের মাঝে আলাপচারিতা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, 'অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, থেমে থেমে কথা বলুন, অপরকে শোনার সুযোগ দিন, নিজেও শুনুন, অপরকেও শোনান। বক্তব্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে বারবার বলতে পারেন। অন্য কেউ কথা বললে তার দিকে ফিরে পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন।' (Journey of Argentine and Manners of Conversation)
📄 দ্রুত গতিতে হাঁটা (Light Pacing)
হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি. বলেন, আমি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে কাউকে বেশি সুন্দর দেখি নি। মনে হয়, তাঁর চেহারায় সূর্য চমকাচ্ছে। আমি কাউকে তাঁর মত দ্রুত চলতেও দেখি নি। মনে হয়, তাঁর সম্মানে যমীন নিজেকে সংকুচিত করছে (যেমন— দু'মিনিট পূর্বে ছিলেন এখানে, কিছুক্ষণ পর চলে গেলেন ওখানে)। তাঁর সমান গতিতে চলতে আমাদের খুব কষ্ট হত। অথচ তিনি স্বাভাবিক গতিতে চলতেই থাকতেন।
📄 হাকীম এস.এম. ইকবালের পর্যবেক্ষণ
ইউরোপ সফরে আমি দেখেছি তারা দ্রুতগতিতে চলাফেরা করছে। মনে হচ্ছে যেন তারা পলায়ন করছে। তারা সময় বাঁচানোর জন্য দ্রুত বেগে চলে। তাদের কাছে সময় অমূল্য সম্পদ। এ কারণেই তারা পার্থিব সফলতার শীর্ষে রয়েছে। অথচ আমি মুসলিম দেশে জনগণকে অত্যন্ত ধীরগতিতে অলসভাবে চলতে দেখেছি। মনে হয় যেন তাদের কাছে সময় এক মূল্যহীন বস্তু। এ জন্যই সমষ্টিগতভাবে মুসলিম সমাজ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
পূর্বোল্লিখিত বর্ণনায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কর্ম-পদ্ধতির মাধ্যমে মূলত সময়ের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন এবং মুসলমানদেরকে প্রতিটি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার শিক্ষা দিয়েছেন। একবার হযরত উমর রাযি. এক যুবককে ধীর গতিতে হেঁটে যেতে দেখলেন। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কোন রোগ-ব্যাধি আছে?' সে বলল, 'না'। তখন হযরত উমর রাযি. তার লাঠি উঠিয়ে ধমকাতে ধমকাতে বললেন, 'রাস্তায় যথাসম্ভব দ্রুত চল।' নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় চলাকালীন দৃঢ়ভাবে পা রেখে চলতেন। মনে হত তিনি যেন নিম্নভূমিতে অবতরণ করছেন।
📄 উপঢৌকন দেওয়া (Gift Giving)
উপঢৌকন সম্পর্কে আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে। এ সব অনুসন্ধানের সারাংশ হল উপঢৌকন আদান-প্রদানের ফলে মানুষ সমাজ জীবনে সৌহার্দের সাথে সহাবস্থানের শিক্ষা লাভ করে। এ বিষয়ে ডাক্তার রিচার্ডের বই 'গেইন গিফট' পাঠ করা একান্ত প্রয়োজন।
উপঢৌকন আবেগ প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম। আনন্দজনক উপলক্ষে উপঢৌকন প্রেরণ কেবল একটি প্রথাই নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। যেভাবে কাউকে ভাল নামে আহ্বান করা অথবা আন্তরিকতার সাথে অগ্রসর হয়ে কারো সাথে সাক্ষাৎ করাটা ভালবাসার প্রকাশ, তদ্রূপ ভালবাসা প্রকাশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে উপঢৌকনের ভূমিকাও কম নয়। ধন-সম্পদ উপঢৌকন দেওয়ার ফলেও একজনের সাথে অপরজনের অন্তরের সম্পর্ক স্থাপিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপঢৌকন দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে আরেকটা উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো উপঢৌকন অন্তরের ময়লা ও কালিমা তথা হিংসা, বিদ্বেষ ও ক্ষোভ দূর করে।