📄 স্মিত হাসি
'হাসিমুখে সাক্ষাত করা একটি ছদকা। যার চেহারায় হাসির স্নিগ্ধতা থাকে, সেই সর্বোত্তম মুসলমান।' কারো সাথে সাক্ষাতকালে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা মোবারকে স্মিতহাসি ফুটে উঠত। কখনো কখনো তিনি শব্দ করেও হাসতেন। সাহাবায়ে কেরামও একে-অপরের সাথে হাসি-আনন্দ, কৌতুক করতেন।
📄 হাসি একপ্রকার ঔষধও (Laughter is also a Remedy)
আপনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করুন, কারণ আপনার হাসিও একটি উত্তম প্রয়োজনীয় ঔষধ। সাম্প্রতিককালেই হাসির এই তাৎপর্য ও গুরুত্ব উদঘাটিত হয়েছে। দেহ ছাড়াও মস্তিষ্কের জন্য হাসি অত্যন্ত উপকারী ঔষধ।
অতীত কাল থেকে এ অনুমান করা হতো। ১৯৪২ ইংরেজিতে ফোস্ট কোয়ার্ড লিখেছেন, 'হাসি রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে, পেটের রন্ধ্রগুলোকে মসৃণ করে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, আশা ও আত্ম-নির্ভরতার জন্ম দেয়, ভয় ও নিরাশা দূর করে।'
📄 মেরিল্যান্ড এর মনোবিজ্ঞানী
মেরিল্যান্ড এর এক মনস্তত্ত্ববিদ ওলসন বলেন, 'যে হাসি-কৌতুক নিরাময়কারী তা মনোকষ্টের কারণ হবে না; বরং প্রশান্তিদায়ক ও মনোরঞ্জক হবে। অবজ্ঞা ও ভৎসনামূলক হাসি দ্বারা অপরকে হেয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করা আত্মগর্ব ও প্রতিহিংসারই নামান্তর। 'আপনি কেমন হাসেন (?) এ বিষয় যেমন গুরুত্ববহ, তেমনি 'কেন হাসেন (?)' এ প্রশ্নটি তার চেয়ে কোন অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিদ্রূপ এক জিনিষ আর স্বাস্থ্যপদ হাসি আরেক জিনিষ। ডা. ওলসন এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, 'হাসি-কৌতুক তিন প্রকার : প্রথমত : বিদ্রুপাত্মক— কাউকে হেয় করার মানসে যেভাবে হাসা হয়। এটার ফলাফল জীবন ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই নয়। দ্বিতীয়ত: অর্থবোধক শব্দকে কৌতুক হিসাবে ব্যবহার করা। অথবা এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা যার উচ্চারণ একই রকম কিন্তু অর্থ ভিন্ন। এটা ইতিবাচক। তৃতীয়ত: সাধারণ কৌতুক। অর্থাৎ ধারণার বিপরীত কথা বলা অথবা এমন কথা বলা যা বাহ্যত অস্পষ্ট মনে হয় কিন্তু মূলত সঠিক।'
ডা. ওলসন বলেন, আমি এই তৃতীয় প্রকার কৌতুক পছন্দ করি। মি. রেমন্ড মুডি তার Laugh after Laugh নামক গ্রন্থেও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
📄 মহানবী ﷺ-এর আলাপচারিতা (Nabvi Conversaton)
হযরত আমেনা রাযি. বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা-বার্তা তোমাদের মত অনর্গল ও ব্যস্তবাগিশ সুলভ ছিল না; বরং তিনি ভাবব্যঞ্জক ও স্পষ্ট কথা বলতেন। প্রতিটি বাক্য আলাদা আলাদা হত। শ্রোতা খুব ভালভাবে বুঝতে পারত। অর্থাৎ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন আবছাভাবে কিংবা তাড়াহুড়া করে কথা বলতেন না যে কিছু অংশ বুঝা যায়, আর কিছু অস্পষ্ট থাকে। বরং তিনি শান্ত-শিষ্টভাবে স্পষ্ট করে কথা বলতেন যাতে শ্রোতা ভালভাবে বুঝতে পারে।
হযরত আনাস রাযি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো কোন বক্তব্যকে পরপর তিন বার বলতেন যাতে শ্রোতা ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারে। অর্থাৎ বিষয় দুর্বোধ্য হলে ধ্যান ও ভাবনা-চিন্তা করে অনুধাবন করতে পারে। সমাবেশ বড় হলে শ্রোতাদের দিকে ফিরে তিন বার বলতেন যাতে উপস্থিত লোকজন ভালভাবে বুঝতে পারে। তিন বার হল সর্বশেষ সীমা। অন্যথায় দু'বার বলাতে যথেষ্ট হলে দু'বারই বলতেন। তিনবার বলতেন না।