📄 ইউরোপী মৃত-দেহের প্রকারভেদ (Kinds of European's dead bodies)
মৃত ব্যক্তিকে উন্নত মানের থ্রী পিস পরানো হয়, টাই লাগানো হয়। একটি উন্নত মানের সিন্দুকে আবদ্ধ করে তাকে দাফন করা হয়। এ দাফনের সময়ের মধ্যেই ওয়েলফেয়ার সংস্থা কর্তৃক গোসল দেওয়া, ঘর থেকে গোসল দেওয়ার স্থানে নেয়া এবং সেখান থেকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া, পোশাক এবং পারফিউম লাগানো, সিন্দুক তৈরি ও তাতে রাখা এসবের যে বিল হয়, সেই বিল পরিশোধ করতে হয়। এ সংস্থা প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা বিল তৈরি করে।
তাছাড়াও যে জমি এবং জায়গা কবরের জন্য ব্যবহার করা হয় সে জমির মূল্যও পরিশোধ করতে হয়। কোন কোন ইউরোপীয় দেশে জমির মূল্য পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। উক্ত সময়ের ভিতর টাকা না দেওয়া হলে দাফনকৃত স্থানে অন্যজনকে দাফন করা হয়। মৃত দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে অনেককে অনেক দামী এবং মূল্যবান থ্রী পিস পরানো হয়। এদের টাই থেকে কফিন বক্স পর্যন্ত সবকিছুই খুব দামী।
মৃত দেহ সৎকারের তৃতীয় প্রকার হলো, তাদেরকে উন্নতমানের অগ্নিকুণ্ডে জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়া। পরে সে ছাই পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান যুগে জমি কম কিন্তু চাষাবাদ বেশি হওয়ায় এবং সময়ও কম থাকায় অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে জ্বালিয়েই মৃতদেহ সৎকার করা হয়।
📄 মৃতদেহ পোড়ানোর স্থান-চিতা (Funeral House)
মুসলমানগণ তাদের আপনজনকে গোসল দেওয়া, কাফন ও দাফন করার বিনিময়ে যে সওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। অথচ ইউরোপীয়রা মৃত ব্যক্তিকে নিয়েও দারুণ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকে। তাদের কোন আত্মীয় মারা গেলে সকলে মৃত দেহ নিয়ে ভীত-শঙ্কিত থাকে। রোগ জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে মৃতদেহ এড়িয়ে চলে। এমনকি মৃতদেহকে তারা সীমাহীন ঘৃণা করে। চিতার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীরা এসে লাশ নিয়ে যায়। তাদের হাতে লম্বা লম্বা মোজা, পরণে কালো পোশাক, মুখে মুখোশ ও মাথায় টুপী থাকে। তারা প্রথমে লাশকে ঠাণ্ডা করে যেন ভিতরের মল-মূত্র ইত্যাদি জমাট বেঁধে যায়। এরপর বড় বড় ব্রাশ দিয়ে মৃত দেহ ধৌত করে।
স্ত্রী লোক হলে সুন্দর পোশাক ও বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী দ্বারা সজ্জিত করে। আর লাশ পুরুষ লোকের হলে থ্রিপিস স্যুট, টাই ইত্যাদি পরিয়ে কফিনে ভরে গোরস্তানে নিয়ে যায়। গোরস্তানে জায়গা বেশি থাকলে ভূমির সমান্তরালভাবে (Horizontally) আর জায়গা কম থাকলে উলম্ব ভাবে (Vertically) সমাহিত করা হয়।
পক্ষান্তরে ইসলাম কত সহজ সুন্দর পন্থা অবলম্বন করেছে! ইসলামের প্রতিটি বিধানই কল্যাণে ভরপুর। মুসলমানদের দেখা যায়, তারা প্রথা হিসাবে নয়; বরং জানাযার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই কিছু সময় দৃষ্টি নত রাখে। বস্তুত আমি মুসলমানদেরকে মৃতদেহের প্রতি যে পরিমাণ সম্মান নিবেদন করতে দেখেছি, অন্য কোন ধর্মে ততটা দেখিনি।