📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দুজন সাহাবীর বিস্ময়কর কাহিনী (Incident of Two Sahaba)

📄 দুজন সাহাবীর বিস্ময়কর কাহিনী (Incident of Two Sahaba)


ইরাকের বাদশাহ ফয়সাল (১ম) এর শাসনামলে বাগদাদে সমাহিত দু'জন সাহাবীর ঐতিহাসিক ঘটনাও ঈমান দৃঢ়কারী এবং অত্যন্ত বিস্ময়কর। খৃষ্টীয় বিংশ শতাব্দীতে কোটি কোটি মুসলমান তাদের শারীরিক যিয়ারত লাভ করলেন। কবরে পানি স্পর্শ করার আশঙ্কায় কবর খনন করা হলে তাদের পবিত্র দেহকে অক্ষত পাওয়া যায়। মনে হচ্ছিল, দাফন করার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। অথচ দীর্ঘ চৌদ্দ শত বছর পূর্বে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। চোখ দু'টি খোলা ছিল। তাতে এমন অভিভূতকারী দীপ্তি ছিল যে উপস্থিত কেউ চোখ তুলে তাকাতে সাহস করেনি। একজন জার্মানী চক্ষু বিশেষজ্ঞ তো এই দৃশ্য অবলোকন করে মুসলমান হয়ে যান এবং তিনি ছাড়াও অনেক অমুসলিম ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেন। কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান নবজীবন লাভ করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুসলমানের মৃত দেহ ও গোঁড়া খৃস্টানের মৃত দেহ

📄 মুসলমানের মৃত দেহ ও গোঁড়া খৃস্টানের মৃত দেহ


ইসলামী আইন ও নিয়ম-কানুনে মুসলমানদের জন্য জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপযুক্ত সমাধান রয়েছে। এসব নিয়ম-কানুন থেকে ধনী-গরীব প্রত্যেকেই উপকৃত হতে পারে। মুসলমান এবং কাফের এর মৃত্যু পরবর্তী অনুষ্ঠানাদিতেও ঠিক একই অবস্থা দেখা যায়। কোন মুসলমান ইন্তেকাল করলে তাকে একবারে সাধারণ একটা কাপড়ে সহজ ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হয়।

কিন্তু ইউরোপীয়দের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে জীবন যাপনও কষ্টের এবং মারা যাওয়া বেঁচে থাকার চেয়ে বেশি সুখকর নয়। এ বিষয়ে একজন পর্যটক ও স্কলারের অভিজ্ঞতা নিম্নরূপ: "যখন থেকে দ্রব্য মূল্যের পাগলা ঘোড়া দ্রুত বেগে ঊর্ধ্বগামী হতে আরম্ভ করে, তখন থেকে ইউরোপে মৃত্যুও দুর্মূল্য হয়ে গেল। এই চড়া মূল্যের অবস্থা হলো যতক্ষণ পর্যন্ত পাদ্রী তার সব ধরনের রসম রেওয়াজ আদায় না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দাফন করাও যায় না এবং দাফন না করাও আযাবের চেয়ে কম নয়।" (প্রফেসর ব্ল্যাক অফার গেজেটে)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইউরোপী মৃত-দেহের প্রকারভেদ (Kinds of European's dead bodies)

📄 ইউরোপী মৃত-দেহের প্রকারভেদ (Kinds of European's dead bodies)


মৃত ব্যক্তিকে উন্নত মানের থ্রী পিস পরানো হয়, টাই লাগানো হয়। একটি উন্নত মানের সিন্দুকে আবদ্ধ করে তাকে দাফন করা হয়। এ দাফনের সময়ের মধ্যেই ওয়েলফেয়ার সংস্থা কর্তৃক গোসল দেওয়া, ঘর থেকে গোসল দেওয়ার স্থানে নেয়া এবং সেখান থেকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া, পোশাক এবং পারফিউম লাগানো, সিন্দুক তৈরি ও তাতে রাখা এসবের যে বিল হয়, সেই বিল পরিশোধ করতে হয়। এ সংস্থা প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা বিল তৈরি করে।

তাছাড়াও যে জমি এবং জায়গা কবরের জন্য ব্যবহার করা হয় সে জমির মূল্যও পরিশোধ করতে হয়। কোন কোন ইউরোপীয় দেশে জমির মূল্য পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। উক্ত সময়ের ভিতর টাকা না দেওয়া হলে দাফনকৃত স্থানে অন্যজনকে দাফন করা হয়। মৃত দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে অনেককে অনেক দামী এবং মূল্যবান থ্রী পিস পরানো হয়। এদের টাই থেকে কফিন বক্স পর্যন্ত সবকিছুই খুব দামী।

মৃত দেহ সৎকারের তৃতীয় প্রকার হলো, তাদেরকে উন্নতমানের অগ্নিকুণ্ডে জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়া। পরে সে ছাই পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান যুগে জমি কম কিন্তু চাষাবাদ বেশি হওয়ায় এবং সময়ও কম থাকায় অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে জ্বালিয়েই মৃতদেহ সৎকার করা হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মৃতদেহ পোড়ানোর স্থান-চিতা (Funeral House)

📄 মৃতদেহ পোড়ানোর স্থান-চিতা (Funeral House)


মুসলমানগণ তাদের আপনজনকে গোসল দেওয়া, কাফন ও দাফন করার বিনিময়ে যে সওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। অথচ ইউরোপীয়রা মৃত ব্যক্তিকে নিয়েও দারুণ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকে। তাদের কোন আত্মীয় মারা গেলে সকলে মৃত দেহ নিয়ে ভীত-শঙ্কিত থাকে। রোগ জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে মৃতদেহ এড়িয়ে চলে। এমনকি মৃতদেহকে তারা সীমাহীন ঘৃণা করে। চিতার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীরা এসে লাশ নিয়ে যায়। তাদের হাতে লম্বা লম্বা মোজা, পরণে কালো পোশাক, মুখে মুখোশ ও মাথায় টুপী থাকে। তারা প্রথমে লাশকে ঠাণ্ডা করে যেন ভিতরের মল-মূত্র ইত্যাদি জমাট বেঁধে যায়। এরপর বড় বড় ব্রাশ দিয়ে মৃত দেহ ধৌত করে।

স্ত্রী লোক হলে সুন্দর পোশাক ও বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী দ্বারা সজ্জিত করে। আর লাশ পুরুষ লোকের হলে থ্রিপিস স্যুট, টাই ইত্যাদি পরিয়ে কফিনে ভরে গোরস্তানে নিয়ে যায়। গোরস্তানে জায়গা বেশি থাকলে ভূমির সমান্তরালভাবে (Horizontally) আর জায়গা কম থাকলে উলম্ব ভাবে (Vertically) সমাহিত করা হয়।

পক্ষান্তরে ইসলাম কত সহজ সুন্দর পন্থা অবলম্বন করেছে! ইসলামের প্রতিটি বিধানই কল্যাণে ভরপুর। মুসলমানদের দেখা যায়, তারা প্রথা হিসাবে নয়; বরং জানাযার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই কিছু সময় দৃষ্টি নত রাখে। বস্তুত আমি মুসলমানদেরকে মৃতদেহের প্রতি যে পরিমাণ সম্মান নিবেদন করতে দেখেছি, অন্য কোন ধর্মে ততটা দেখিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00