📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এক বন্ধুর ঘটনা (Story of a Friend)

📄 এক বন্ধুর ঘটনা (Story of a Friend)


আজকাল চোখের পানি ঝরানোকে সেকেলে কাজ বলে মনে করা হয়। এ কারণেই আমার এক বন্ধু পনের বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। তার কন্যার মৃত্যুতে লোকেরা বলল, তাকে কাঁদতে দিও না। কবরস্থানে গিয়েও বন্ধুরা বলল, তাকে কাঁদতে দিও না। লাশ কবরস্থানে নামানো হলে কন্যার চেহারা দেখেই যদি কেঁদে ফেলে এই আশঙ্কায় লোকেরা তাকে কন্যার চেহারা দেখতেও দিল না। লোকেরা তাকে এমন কন্যার চেহারা দেখতেও নিষেধ করল, যে কন্যা পিতাকে সর্বদা হাসি-আনন্দে রাখত। এর ফলে সে কন্যার কামরাটি আজও ঐ অবস্থায়ই রেখেছে, কন্যার জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বেদনাদায়ক বিষয় (Tragedy)

📄 বেদনাদায়ক বিষয় (Tragedy)


আমাদের সমাজের একটি দুঃখজনক বিষয় হল আমরা কুদরতের চিরাচরিত নিয়মকে মেয়েলিপনা বলে মনে করি আর হাসিকে মনে করি হৃদয়ের মলম। অথচ খিলখিলিয়ে হাসা অথবা একাধারে হাসতে থাকা অন্তরকে প্রীতিশূন্য ও রুক্ষ্ণ করে। আর কান্নাকাটি হৃদয়ের অস্বাভাবিক কাঠিন্যকেও দূর করে। মানুষের স্বভাবজাত নির্ঘোষ আবেগের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা জ্ঞানের পরিচয় নয়? কান্নাকাটি করা দরদি ব্যক্তির হৃদয়ের আগুন নিভায়, হৃদয়ে আনে প্রশান্তি এবং তাতে ঠাণ্ডা পানির ছিটা দেয়। আবেগপূর্ণ তপ্ত অশ্রু মুহাব্বত ও হামদর্দির নিরঙ্কুশ ও নিখাদ প্রকাশ। মানুষের অনুভূতিকে 'গলা টিপে মারা'র একটি বিদ্রূপাত্মক বাগধারা বারবার মনে পড়ে- 'বসা দাঁড়ানোর চেয়ে উত্তম, শোয়া বসার চেয়ে উত্তম। কিন্তু সবচেয়ে উত্তম হল মরে যাওয়া।' লোক দেখানো নয় এমন কান্নাকাটি অন্তরে প্রশান্তি ও আনন্দ আনে। অতি আনন্দে চোখে পানি দেখা দেয়াও স্বভাবজাত বিষয়। এরূপ মুহূর্তে চেহারা আনন্দের ছটায় ঝলমল করে। 'চোখের পানি মুহাব্বতের আয়না।' 'মৃত্যুকে ভুলে যাওয়া' মানুষের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। এক ব্যক্তি কত না সুন্দর বলেছেন (!): শরীরের সাথে পোশাকের সম্পর্ক যেমন, জ্ঞানের সাথে আবেগের সম্পর্ক তেমন। পোশাক ব্যতীত আমরা সভ্য জীবন যাপন করতে পারি না। দুঃখ-বেদনার শিকার হয়ে 'হায় হায়' করে বিলাপ করা ও নির্বিচারে হঠকারিতামূলক কাজ-কর্ম করাও অভদ্রতা ও নিরর্থক। তবে চোখে পানি দেখা দেয়া স্বভাবজাত ব্যাপার। স্বভাবের বিরুদ্ধে কিছু করা শুধু ক্ষতিকরই নয়; বরং অপরাধ ও অপরিণামদর্শিতা। আবেগের স্বাভাবিক প্রকাশের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা ফিতরাতকে অবজ্ঞা করার শামিল। যদি মানুষের চোখে অশ্রু নামক আবে হায়াত না থাকত তবে মানবতার উন্নয়ন এবং আত্মত্যাগের পানি সিঞ্চন সম্ভব হত না। এটা স্বীকার করতে আমি মোটেও লজ্জিত নই, 'যখন আমি কাউকে ফিতরাতের উপর অত্যাচার করতে দেখি, তখন আমার কান্না আসে।' (হামদর্দে ছেহহাত)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অশ্রু প্রবাহিত করা নবীজী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নত

📄 অশ্রু প্রবাহিত করা নবীজী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নত


কান্নার কারণে আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর হাবীব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্ট হন, জাহান্নামের আগুন নিভে যায়, জান্নাতের টিকেট পাওয়া যায়। তবে শর্ত হল, এ কান্নার পেছনে ক্রিয়াশীল থাকতে হবে আল্লাহর ভয় ও মুহাব্বত। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আধুনিক বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ

📄 আধুনিক বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ


কান্নার উপকারিতা এত বেশি যে মানুষ যদি এ সব উপকারিতার কথা জানতো, তবে কাজ-কর্ম ছেড়ে কাঁদতে আরম্ভ করত। কান্নার ফলে চক্ষু রোগ ভাল হয়, গুনাহ মাফ হয়। যে হাসে তার চেয়ে যে কাঁদে সে মানুষের দৃষ্টিতে পড়ে বেশি। আমাদের মধ্যে খুব কম লোকই কান্নার উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞাত। এ উপকারী আমলের পরিচয় পেলে মানুষ সব কাজ ছেড়ে কান্নায় লেগে যাবে। ভারতীয় একটি পত্রিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী কান্নাকাটি করলে চোখের অগণিত রোগ ভাল হয়, বড় বড় অপরাধ মাফ হয়। যে সব আশা পূর্ণ হওয়ার মতো ছিল এ ধরনের অগণিত আশাও পূরণ করে নেয়া যায় কান্নার দ্বারা। বাস্তব ব্যাপার হল হাসাহাসিকারীর প্রতি মানুষ তেমন লক্ষ্য করে না। কিন্তু কান্নাকাটিকারী ব্যক্তি প্রত্যেকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আল্লাহকে অন্বেষণকারী ব্যক্তি একাকী কোন এক কোণে বসে কান্নাকাটি করতে করতে সৃষ্টির বিরাট বিরাট রহস্য পেয়ে যায়। জান্নাত থেকে বের হওয়ার পর আদম ও হাওয়া আ. এর সার্বক্ষণিক কান্নাকাটিই তাঁদের ক্ষমা লাভের কারণ হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির প্রেমিকের মুখ ভার হলে সে প্রেমিককে পথে আনার ক্ষেত্রেও চোখের পানি অত্যন্ত সফল। বাস্তব কথা হল, কান্নাকাটি করা মূলত আশা-আকাঙ্ক্ষাই ভিন্ন নাম। আর আশা-আকাঙ্ক্ষার উপরই পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00