📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হযরত দাউদ আ. এর কান্না

📄 হযরত দাউদ আ. এর কান্না


আমাদের পূর্বপুরুষগণ আমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। সন্তান-সন্তুতির দুরবস্থায় কান্নাকাটি করাকে নবীগণ আ. নবুওয়াতের শান-বিরুদ্ধ মনে করতেন না। হযরত দাউদ আ. আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করে অঝোরে কাঁদতেন। তিনি বলতেন: 'আমার মাথা পানিতে পূর্ণ এবং আমার চক্ষু অশ্রুর ফোয়ারা।'

কঠিন দুঃখে কান্নাকাটি না করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এক মহিলার স্বামী ইন্তেকাল করলে কাফন-দাফনের সময় সবাই মহিলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। কারণ, মহিলা স্বামী হারানোর এত বড় দুঃখ পেয়েও চোখের পানি ঝরিয়ে সবার তামাশার পাত্রী হন নি। তিনি স্বামীর বিচ্ছেদকে ধৈর্যের সাথে মেনে নিয়েছেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল ছয় বছরের আর গভীর ভালবাসায় পূর্ণ যার নজীর খুঁজে পাওয়া ছিল মুশকিল। যৌবনেই তিনি বিধবা হলেন। সন্তান-সন্তুতি যেন দুঃখ-বেদনা অনুভব না করে, সে জন্য বড়ই ধৈর্যের সাথে নিজের ব্যথা-বেদনাকে চেপে রাখলেন। তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আমি তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। তিনি তার অন্তরে পুষে রাখা ব্যথায় দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। স্বাস্থ্য ভেঙে যাচ্ছিল। এ রকম পরিস্থিতিতে আল্লাহ তা'আলা মানুষকে চোখের পানি ঝরানোর মধ্যে যে বরকতময় চিকিৎসা রেখেছেন, তা সত্যিই অকল্পনীয়। মহিলা কান্না চেপে রেখেছিল। কেননা সমাজ দুঃখে পড়ে কান্নাকে ঘৃণা করে। কষ্টের সময় অশ্রু প্রবাহিত করাকে অনেক সমাজে অন্তরের দুর্বলতা ও লজ্জাজনক বলে মনে করা হয়। এর কোন ভিত্তি নেই। কাঁদো কাঁদো আবেগকে চেপে রাখলে পরে মারাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 এক বন্ধুর ঘটনা (Story of a Friend)

📄 এক বন্ধুর ঘটনা (Story of a Friend)


আজকাল চোখের পানি ঝরানোকে সেকেলে কাজ বলে মনে করা হয়। এ কারণেই আমার এক বন্ধু পনের বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। তার কন্যার মৃত্যুতে লোকেরা বলল, তাকে কাঁদতে দিও না। কবরস্থানে গিয়েও বন্ধুরা বলল, তাকে কাঁদতে দিও না। লাশ কবরস্থানে নামানো হলে কন্যার চেহারা দেখেই যদি কেঁদে ফেলে এই আশঙ্কায় লোকেরা তাকে কন্যার চেহারা দেখতেও দিল না। লোকেরা তাকে এমন কন্যার চেহারা দেখতেও নিষেধ করল, যে কন্যা পিতাকে সর্বদা হাসি-আনন্দে রাখত। এর ফলে সে কন্যার কামরাটি আজও ঐ অবস্থায়ই রেখেছে, কন্যার জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বেদনাদায়ক বিষয় (Tragedy)

📄 বেদনাদায়ক বিষয় (Tragedy)


আমাদের সমাজের একটি দুঃখজনক বিষয় হল আমরা কুদরতের চিরাচরিত নিয়মকে মেয়েলিপনা বলে মনে করি আর হাসিকে মনে করি হৃদয়ের মলম। অথচ খিলখিলিয়ে হাসা অথবা একাধারে হাসতে থাকা অন্তরকে প্রীতিশূন্য ও রুক্ষ্ণ করে। আর কান্নাকাটি হৃদয়ের অস্বাভাবিক কাঠিন্যকেও দূর করে। মানুষের স্বভাবজাত নির্ঘোষ আবেগের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা জ্ঞানের পরিচয় নয়? কান্নাকাটি করা দরদি ব্যক্তির হৃদয়ের আগুন নিভায়, হৃদয়ে আনে প্রশান্তি এবং তাতে ঠাণ্ডা পানির ছিটা দেয়। আবেগপূর্ণ তপ্ত অশ্রু মুহাব্বত ও হামদর্দির নিরঙ্কুশ ও নিখাদ প্রকাশ। মানুষের অনুভূতিকে 'গলা টিপে মারা'র একটি বিদ্রূপাত্মক বাগধারা বারবার মনে পড়ে- 'বসা দাঁড়ানোর চেয়ে উত্তম, শোয়া বসার চেয়ে উত্তম। কিন্তু সবচেয়ে উত্তম হল মরে যাওয়া।' লোক দেখানো নয় এমন কান্নাকাটি অন্তরে প্রশান্তি ও আনন্দ আনে। অতি আনন্দে চোখে পানি দেখা দেয়াও স্বভাবজাত বিষয়। এরূপ মুহূর্তে চেহারা আনন্দের ছটায় ঝলমল করে। 'চোখের পানি মুহাব্বতের আয়না।' 'মৃত্যুকে ভুলে যাওয়া' মানুষের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। এক ব্যক্তি কত না সুন্দর বলেছেন (!): শরীরের সাথে পোশাকের সম্পর্ক যেমন, জ্ঞানের সাথে আবেগের সম্পর্ক তেমন। পোশাক ব্যতীত আমরা সভ্য জীবন যাপন করতে পারি না। দুঃখ-বেদনার শিকার হয়ে 'হায় হায়' করে বিলাপ করা ও নির্বিচারে হঠকারিতামূলক কাজ-কর্ম করাও অভদ্রতা ও নিরর্থক। তবে চোখে পানি দেখা দেয়া স্বভাবজাত ব্যাপার। স্বভাবের বিরুদ্ধে কিছু করা শুধু ক্ষতিকরই নয়; বরং অপরাধ ও অপরিণামদর্শিতা। আবেগের স্বাভাবিক প্রকাশের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা ফিতরাতকে অবজ্ঞা করার শামিল। যদি মানুষের চোখে অশ্রু নামক আবে হায়াত না থাকত তবে মানবতার উন্নয়ন এবং আত্মত্যাগের পানি সিঞ্চন সম্ভব হত না। এটা স্বীকার করতে আমি মোটেও লজ্জিত নই, 'যখন আমি কাউকে ফিতরাতের উপর অত্যাচার করতে দেখি, তখন আমার কান্না আসে।' (হামদর্দে ছেহহাত)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অশ্রু প্রবাহিত করা নবীজী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নত

📄 অশ্রু প্রবাহিত করা নবীজী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নত


কান্নার কারণে আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর হাবীব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্ট হন, জাহান্নামের আগুন নিভে যায়, জান্নাতের টিকেট পাওয়া যায়। তবে শর্ত হল, এ কান্নার পেছনে ক্রিয়াশীল থাকতে হবে আল্লাহর ভয় ও মুহাব্বত। এ বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00