📄 মধ্যম পন্থা (Moderateness)
নফস এবং নফসের হকসমূহের ক্ষেত্রে ইসলাম ও শরীয়ত মধ্যমপন্থাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে। একদিকে মানুষের নফসের সব হক যেন আদায় হয় তার প্রতি জোর দিয়েছে, অপরদিকে নফস যেন আল্লাহ তা'আলার আদেশের অনুগামী থাকে তার উপর জোর দেওয়ার সাথে সাথে নফসকে পবিত্র করার পথ বর্ণনা করেছে। এ নির্দেশের আলোকে নফসের প্রতি বাড়াবাড়ি করা ও উদাসীনতা প্রদর্শন উভয়টি থেকেই আমাদের বেঁচে থাকা উচিৎ। ইবাদতও করতে হবে, অন্যের হকও আদায় করতে হবে।
📄 যে কোন কাজে বাড়া-বাড়ি অনিষ্টকর (Excess of Work is Harmful)
বৃটেনের এক প্রশিক্ষক ডা. দীর্ঘ সময় কাজ করতেন। এতে করে ঘুমানোর সময় পেতেন খুবই কম। অবশেষে তিনি মারা যান। জাপানের সাধারণ রীতি হলো অধিক পরিশ্রম করা। এ কারণে বহু মানুষ অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। একজন জাপানী ছুটি কাটানো ব্যতীতই সতের মাস কাজ করেছে। তারপর সে মৃত্যুবরণ করেছে। তার উত্তরাধিকারদেরকে জীবনের বিনিময়ে অনেক টাকা-পয়সা দিয়ে যায়। এ সব ঘটনা থেকে বুঝা যায় মাত্রাতিরিক্ত শ্রম ক্ষতিকর। আরও বিভিন্ন ঘটনাবলী এ বিষয়কে সত্যায়ন করে যে, মাত্রাতিরিক্ত শ্রম রোগ ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যে সব গাড়ি চালককে যান-জটপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চলতে হয়, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি মানুষ কাজ বেশি করে কিন্তু সামাজিক, গোত্রীয় ও পারিবারিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত থাকে, তবে রোগাক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষত যখন দায়িত্ব বেশি থাকে অথচ স্বাধীনতা কম থাকে, যে সব লোক সমাজ, পরিবার ও সহকর্মীদের সহায়তা পায়, দায়িত্ব কম থাকে কিন্তু স্বাধীনতা বেশি পায়, তারা তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে বেশি। যদি অতিরিক্ত কাজের পাশাপাশি নিম্নমানের খাদ্য খায়, শারীরিক ব্যায়াম কম করে, তাহলে ক্ষতি আরও বেশি হয়। অধিক কর্মব্যস্ত লোকদের রগ ও শিরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যদি কেউ অবসর ব্যতীতই একটানা কাজ করে, তাহলে তার ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এ কষ্ট ও ক্লান্তির কারণে স্নায়ুতান্ত্রিক ও অন্যান্য হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। বিশেষত এরকম ক্ষেত্রে আড্রিনালিন জাতীয় কার্টিসোন হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। হৃদপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণের হার বৃদ্ধি পায়, রক্তের চাপ বেড়ে যায়, নিদ্রা হ্রাস পায়, রক্তের কোলেস্টেরল, চর্বি ও শর্করা বৃদ্ধি পায়। কাজ যদি ভালভাবে সম্পন্ন না হয়, কর্মক্ষেত্রে কোন অভিজ্ঞ পরামর্শ দাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা না থাকে কিংবা উপযুক্ত খাদ্যের সংস্থান না হয়, তাহলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। অকাল মৃত্যুহার কমানোর জন্য এ সব বিষয়গুলোর সংস্কার অত্যাবশ্যক। (ড. এস.এ. এর অভিজ্ঞতা)