📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে দুজন সাহাবার আগমন

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে দুজন সাহাবার আগমন


দু'জন সাহাবী হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, 'আমাদের একজন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়ার এবং অপরজন বিবাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করেছি।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, 'আমি তো এ দুটো দ্বারাই উপকৃত হই- খাদ্য দ্বারা ও বিবাহ দ্বারা।' সুতরাং তারা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মতি না পেয়ে নিজেদের ইচ্ছা পরিত্যাগ করলেন। আরবে এ নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, কেউ কেউ একাধারে কয়েকদিন পর্যন্ত রোযা রাখত। কোন কোন সাহাবীও এরূপ সংকল্প করছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. কে আত্মত্যাগ ও খোদাভীরুতায় সমসাময়িকদের মাঝে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী মনে করা হয়। তিনি সংকল্প করলেন যে, সব সময় রোযা রাখবেন, এবং সারা রাত ইবাদত করবেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা জানতে পেরে তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন 'কি ব্যাপার (?) এ খবরটি কি সঠিক?' তিনি আরয করলেন—'হ্যাঁ।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, 'তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, চোখের হক আছে, স্ত্রীর হক আছে। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখাই যথেষ্ট।' (বোখারী)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্তি

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্তি


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিতেন তা হলো অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মত নফসকে তার হকসমূহ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না; বরং নফসের মধ্যে পরিশুদ্ধির নূর সৃষ্টি করতে হবে। আসল দায়িত্ব হল নিজের নফসের হকসমূহও আদায় করা এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার হুকুমেরও অনুগামী হওয়া। ইসলাম দ্বীনের পাশাপাশি দুনিয়ার মঙ্গলও শিক্ষা দিয়েছে—'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়ায়ও মঙ্গল ও সাফল্য দান করুন এবং আখেরাতেও স্বীয় ক্ষমা ও সন্তুষ্টি দ্বারা সম্মানিত করুন।' এমনিভাবে দুনিয়াবী কাজও যদি শরীয়তের বিধি-নিষেধের ভেতর থাকে, তবে সেটা ইবাদত এবং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কারণ। কেবল তাই নয়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনুগত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদায় সমাসীন থাকা সত্ত্বেও এবং রিসালতের মর্যাদা দ্বারা তাঁকে বিশিষ্ট করা হলেও, তিনি যমীনে সৃষ্টিকর্তার আদিষ্ট সীমার মাঝে থেকে অধিক ইবাদত ও আত্মশুদ্ধিতে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেদিকেই ইঙ্গিত করে সূরায়ে মুযযাম্মিলে বলা হয়েছে, নফসের হকের প্রতি খেয়াল রাখুন। আল্লাহ তা'আলা বলেন— অর্থাৎ 'রাত্রির সামান্য অংশ আপনি দণ্ডায়মান থাকুন; অর্ধ-রাত অথবা তারচেয়ে কিছু কম অথবা তারচেয়ে কিছু বেশি।' এ আয়াতের সুস্পষ্ট নির্দেশ হলো, আল্লাহ তা'আলা তাঁর স্বীয় মাহবুবের ইবাদতে সম্পূর্ণ তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি কামনা করতেন যে, তিনি যেন নফসের হকগুলোও আদায় করেন। অর্থাৎ আরামও করেন এবং নিদ্রা গমনও করেন। এতে নফস ও শরীরের প্রতি বাড়াবাড়ি করা হবে না; বরং তাদের যে হক আছে, তারা তা পেয়ে যাবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামী শরীয়তের তাগিদ (Insistance of Islamic Shariat)

📄 ইসলামী শরীয়তের তাগিদ (Insistance of Islamic Shariat)


ইসলামী শরীয়ত সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছে যে, মানুষ আল্লাহর আদেশের গণ্ডিতে থেকে এ পৃথিবীতে এমনভাবে জীবন যাপন করবে যেন মানবজাতির হকও আদায় হয় এবং নফসও জুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তি পায়। ইসলাম একটি স্বভাবসম্মত ধর্ম। এর কোন বিধি-নিষেধ মানুষের স্বভাব বিরুদ্ধ নয়। ইসলাম যেহেতু সাম্যতা, মধ্যমপন্থা ও ন্যায়-পরায়ণতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয় এবং মধ্যমপন্থায় বিন্যস্ত চরিত্রকে উত্তম বিবেচনা করে তখন ইসলাম তো স্বভাবের স্বাভাবিক চাহিদাই পূরণ করছে। ইসলামী শরীয়ত সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছে যে, মানুষ আল্লাহর আদেশের গণ্ডিতে থেকে এ পৃথিবীতে এমনভাবে জীবন যাপন করবে যেন মানবজাতির হকও আদায় হয় এবং নফসও জুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তি পায়। অন্যদিকে নফস যেন আল্লাহ তা'আলার আদেশের অনুগামী থাকে তার উপর জোর দেওয়ার সাথে সাথে নফসকে পবিত্র করার পথ বর্ণনা করেছে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মধ্যম পন্থা (Moderateness)

📄 মধ্যম পন্থা (Moderateness)


নফস এবং নফসের হকসমূহের ক্ষেত্রে ইসলাম ও শরীয়ত মধ্যমপন্থাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে। একদিকে মানুষের নফসের সব হক যেন আদায় হয় তার প্রতি জোর দিয়েছে, অপরদিকে নফস যেন আল্লাহ তা'আলার আদেশের অনুগামী থাকে তার উপর জোর দেওয়ার সাথে সাথে নফসকে পবিত্র করার পথ বর্ণনা করেছে। এ নির্দেশের আলোকে নফসের প্রতি বাড়াবাড়ি করা ও উদাসীনতা প্রদর্শন উভয়টি থেকেই আমাদের বেঁচে থাকা উচিৎ। ইবাদতও করতে হবে, অন্যের হকও আদায় করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00