📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শরীরের হক (Right of Body)

📄 শরীরের হক (Right of Body)


১. ইবাদতের আধিক্য ও পরিশ্রম দ্বারা নিজের আত্মাকে কষ্ট দিও না, সারা রাত জাগ্রত থেকো না। সর্বদা রোযাও রেখো না। নফসকেও আরাম দাও। (সহীহ মুসলিম)
২. নফস সম্পর্কে এমন মন্তব্য করো না যে, আমার নফস দুর্বৃত্ত হয়ে গিয়েছে; বরং এভাবে বল-আমার নফস দুর্বল হয়ে পড়েছে। (সহীহ বুখারী)
৩. নিজের নফসকে সমৃদ্ধ বানাবে। ধন সম্পদের মুহাব্বত থেকে আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখবে। (সহীহ বুখারী)
৪. নফসকে এমন পরীক্ষায় ফেল না যা তার সহ্যের বাইরে। (ইবনে মাজাহ, আহমদ)
৫. নফসের সঙ্গে জিহাদ করবে। অর্থাৎ নিজের নফসকে আল্লাহর আহকামের অনুগামী করবে। (আহমদ, হাকেম)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নফসের হকসমূহ (Rights of Body)

📄 নফসের হকসমূহ (Rights of Body)


এ পৃথিবীতে যত ধর্ম আগমন করেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ধর্মেই সামাজিক হকসমূহকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধর্মই মাতা-পিতার হককেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদি স্বভাবগত দিক থেকে এ বিষয়ে চিন্তা করা হয় তাহলে মাতা-পিতার হকের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। ইসলামও মাতা-পিতার হকে গুরুত্ব স্বীকার করে। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলামের বিশেষত্ব রয়েছে। হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইসলামের বিশেষত্ব হল ইসলাম মানুষের হকগুলোকে স্তরে স্তরে ভাগ করে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। ইসলামে বিভিন্ন জনের হকের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, তাতে বিভিন্ন জনের হক এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কোন জ্ঞান-পিপাসুর পিপাসা অতৃপ্ত থাকে না। মানুষের উপর মানুষের যে সব হক রয়েছে সেগুলো বর্ণনা করা ছাড়াও প্রাণি-জগত, উদ্ভিদ-জগত এবং জড়-বস্তুর হকসমূহকেও বাদ দেওয়া হয়নি। মানুষের নিজের উপরও যে সব হক রয়েছে সেগুলোকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের নিজের উপরও হক রয়েছে। এমনকি প্রতিটি অঙ্গের হক রয়েছে। সহীহ বুখারীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন 'তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে।'

এমনিভাবে অন্য এক হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার চোখেরও হক রয়েছে।' কোন কোন ধর্মে নিজের শরীর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কষ্টে ফেলা, প্রবৃত্তির চাহিদাকে অস্বাভাবিকভাবে ধ্বংস করা এবং জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জন প্রান্তরে গিয়ে ধ্যানমগ্ন হওয়াকে তাকওয়া ও পরহেযগারী মনে করা হয়। কিন্তু ইসলাম এ সব অস্বাভাবিক নিয়মাবলীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে, বৈরাগ্যবাদ এবং নিজের প্রবৃত্তিকে অস্বাভাবিকভাবে দমন করা মোটেই ইবাদত নয়; বরং ইসলাম এর কঠোর বিরোধী।

শরীয়ত নিজের নফসকে হত্যা করার অনুমতি কাউকে দেয় না; বরং ইসলামের বিধান হল নফসের হকসমূহ আদায় করা এবং তাকে জীবিত ও কার্যক্ষম রাখা। কিন্তু এ হকগুলো এমনভাবে আদায় করতে হবে যাতে নফস আল্লাহর আদেশের অনুগত থাকে। তাকওয়া সম্পর্কে ইসলামের চিন্তাধারা হলো এই নফসকে মেরে ফেলা যাবে না। বরং নফসকে আয়ত্বে রাখাই হল তাকওয়া। নফসকে পবিত্র করাই সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। এর উদাহরণ হলো তলোয়ারের মত। তলোয়ার দ্বারা নিষ্পাপদেরকেও হত্যা করা যায়। এ জন্য পূর্বের শরীয়তসমূহে বলা হয়েছে তলোয়ার ভেঙে ফেলো। অথবা তাকে এমনভাবে ভোঁতা করে ফেল যাতে তার তেজ না থাকে। কিন্তু ইসলামের বক্তব্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলাম বলে তলোয়ারকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ কর এবং তাকে আল্লাহর আদেশের অনুগামী কর যাতে অত্যাচারীতদের সহযোগিতায় আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো নফসকে তার হকসমূহ থেকে বঞ্চিত করার অনুমতি দিতেন না। তিনি সব সময় জোরালোভাবে উপদেশ দিতেন, দুনিয়ায় খাদ্য গ্রহণ কর, পানীয় পান কর, ভাল পোষাক পরিধান কর এবং বিবাহ শাদী কর। কিন্তু সর্বাবস্থায় ইসলামী শরীয়তের সীমানার ভিতর থাকার চেষ্টা কর, মধ্যমপন্থা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখ। (সহীহ বুখারী)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে দুজন সাহাবার আগমন

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে দুজন সাহাবার আগমন


দু'জন সাহাবী হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, 'আমাদের একজন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেওয়ার এবং অপরজন বিবাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করেছি।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, 'আমি তো এ দুটো দ্বারাই উপকৃত হই- খাদ্য দ্বারা ও বিবাহ দ্বারা।' সুতরাং তারা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মতি না পেয়ে নিজেদের ইচ্ছা পরিত্যাগ করলেন। আরবে এ নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, কেউ কেউ একাধারে কয়েকদিন পর্যন্ত রোযা রাখত। কোন কোন সাহাবীও এরূপ সংকল্প করছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. কে আত্মত্যাগ ও খোদাভীরুতায় সমসাময়িকদের মাঝে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী মনে করা হয়। তিনি সংকল্প করলেন যে, সব সময় রোযা রাখবেন, এবং সারা রাত ইবাদত করবেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা জানতে পেরে তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন 'কি ব্যাপার (?) এ খবরটি কি সঠিক?' তিনি আরয করলেন—'হ্যাঁ।' হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, 'তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, চোখের হক আছে, স্ত্রীর হক আছে। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখাই যথেষ্ট।' (বোখারী)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্তি

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্তি


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিতেন তা হলো অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মত নফসকে তার হকসমূহ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না; বরং নফসের মধ্যে পরিশুদ্ধির নূর সৃষ্টি করতে হবে। আসল দায়িত্ব হল নিজের নফসের হকসমূহও আদায় করা এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার হুকুমেরও অনুগামী হওয়া। ইসলাম দ্বীনের পাশাপাশি দুনিয়ার মঙ্গলও শিক্ষা দিয়েছে—'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়ায়ও মঙ্গল ও সাফল্য দান করুন এবং আখেরাতেও স্বীয় ক্ষমা ও সন্তুষ্টি দ্বারা সম্মানিত করুন।' এমনিভাবে দুনিয়াবী কাজও যদি শরীয়তের বিধি-নিষেধের ভেতর থাকে, তবে সেটা ইবাদত এবং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কারণ। কেবল তাই নয়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনুগত্যের সর্বোচ্চ মর্যাদায় সমাসীন থাকা সত্ত্বেও এবং রিসালতের মর্যাদা দ্বারা তাঁকে বিশিষ্ট করা হলেও, তিনি যমীনে সৃষ্টিকর্তার আদিষ্ট সীমার মাঝে থেকে অধিক ইবাদত ও আত্মশুদ্ধিতে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেদিকেই ইঙ্গিত করে সূরায়ে মুযযাম্মিলে বলা হয়েছে, নফসের হকের প্রতি খেয়াল রাখুন। আল্লাহ তা'আলা বলেন— অর্থাৎ 'রাত্রির সামান্য অংশ আপনি দণ্ডায়মান থাকুন; অর্ধ-রাত অথবা তারচেয়ে কিছু কম অথবা তারচেয়ে কিছু বেশি।' এ আয়াতের সুস্পষ্ট নির্দেশ হলো, আল্লাহ তা'আলা তাঁর স্বীয় মাহবুবের ইবাদতে সম্পূর্ণ তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি কামনা করতেন যে, তিনি যেন নফসের হকগুলোও আদায় করেন। অর্থাৎ আরামও করেন এবং নিদ্রা গমনও করেন। এতে নফস ও শরীরের প্রতি বাড়াবাড়ি করা হবে না; বরং তাদের যে হক আছে, তারা তা পেয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00