📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পুরো সমাজের দুর্গতি

📄 পুরো সমাজের দুর্গতি


আরেকটি চিন্তার বিষয় হল, সাধারণত অন্যভাবে বান্দার হক নষ্ট করলে এক বা অল্প কয়েকজন ব্যক্তি কষ্টের সম্মুখীন হয়। কিন্তু গুদামজাত করার কারণে একজন নয়, বরং পুরো শহর অথবা পুরো দেশ কষ্টে নিপাতিত হয়। বলা যেতে পারে একজনের এ অপরাধের ফলে লাখ লাখ অথবা কোটি কোটি লোক কষ্ট পায়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিষ্পাপ শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিও থাকে। ব্যবসায়ী যদি অধিক মূল্যের আশায় ঔষধপত্র জমা করে রাখে, তবে ভেবে দেখুন, তার এ কাজটি রোগীদের উপর জুলুম বলে গণ্য হবে কি-না? অথচ দরিদ্রদের মধ্যেই রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে। এক হাদীসে এসেছে আমাদের রিযিক গরিব এবং দুর্বলদের নামায এবং দোয়ার বরকতে পৌঁছানো হয়। অর্থাৎ গরিব ও দুর্বলদের বদৌলতে ধনীরাও রিযিক পেয়ে থাকেন। কুরআন শরীফে সূরায়ে আহযাবের ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য গুনাহের অভিযোগে অভিযুক্ত।

এ সম্পর্কীয় আরেকটি হাদীসও শুনুন। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি লোকজনকে টপকিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'বসে যাও। কেননা তুমি লোকদেরকে কষ্ট দিয়েছ।' অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে 'প্রথমত তুমি দেরিতে এসেছ, দ্বিতীয়ত তুমি মানুষের ঘাড় টপকিয়ে তাদেরকে কষ্ট দিয়েছ।' এখন চিন্তা করে দেখুন, গুদামজাত করে রাখার কারণে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সংস্থান কত কঠিন হয়। কখনো কখনো খাবার সংস্থানে দেরি হয়। এমতাবস্থায় সে কি পরিমাণ কষ্ট পায়! ঔষধ গুদামজাত করে রাখার কারণে যদি রোগী ঔষধ না পায় অথবা এত অধিক মূল্যে সংগ্রহ করতে হয় যা তার পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব নয়, অথবা তাকে অনুনয়-বিনয় করে কর্জ নিতে হয়, তবে এ ধরনের নিপীড়িত ব্যক্তির কি পরিমাণ কষ্ট হতে পারে! নিঃসন্দেহে এই সব হতভাগ্য নবী আদমের কষ্ট ঐ লোকদের কষ্টের চেয়ে অনেক বেশি যাদের টপকিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার কথা হাদীসে বলা হয়েছে। যখন শুধু গর্দান টপকানোর মামুলি কষ্টের জন্য এত বড় ধমক এসেছে, তখন খাদ্যদ্রব্য এবং ঔষধ গুদামজাত করে লোকদেরকে কষ্ট দেওয়ার কারণে দুনিয়া আখেরাতে কি পরিমাণ শাস্তি ভোগ করতে হবে?

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নৈতিকতা বিরূদ্ধ কাজ

📄 নৈতিকতা বিরূদ্ধ কাজ


মজুতদারি এমন একটি অপরাধ যার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি অন্যান্য দেশেও গোপন থাকে না। অনেক সময় বিদেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য আমদানি করতে হয়। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে। এই বলে ইসলামের দুর্নাম করা হয় যে, মুসলিম দেশের ব্যবসায়ীরা অনেক লোভী। তারা সম্পদের জন্য সর্বসাধারণকে কত কষ্ট দিচ্ছে। আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা একথা বলে থাকেন যে, আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত। নাত, ইসলামী কবিতা, সংগীত ইত্যাদিতে নবীজীর দয়ার কথা প্রায়ই বলে থাকেন। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ লোকদের কষ্ট দিয়ে ইসলাম এবং নবীজীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। পাঠকরা লক্ষ্য করুন, মজুতদারি কত বড় অপরাধ! অথচ ব্যবসায়ীরা সম্পদের লোভে এমনটি করে থাকেন। (ইসলামী জীবিকা ব্যবস্থা)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শরীরের হক (Right of Body)

📄 শরীরের হক (Right of Body)


১. ইবাদতের আধিক্য ও পরিশ্রম দ্বারা নিজের আত্মাকে কষ্ট দিও না, সারা রাত জাগ্রত থেকো না। সর্বদা রোযাও রেখো না। নফসকেও আরাম দাও। (সহীহ মুসলিম)
২. নফস সম্পর্কে এমন মন্তব্য করো না যে, আমার নফস দুর্বৃত্ত হয়ে গিয়েছে; বরং এভাবে বল-আমার নফস দুর্বল হয়ে পড়েছে। (সহীহ বুখারী)
৩. নিজের নফসকে সমৃদ্ধ বানাবে। ধন সম্পদের মুহাব্বত থেকে আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখবে। (সহীহ বুখারী)
৪. নফসকে এমন পরীক্ষায় ফেল না যা তার সহ্যের বাইরে। (ইবনে মাজাহ, আহমদ)
৫. নফসের সঙ্গে জিহাদ করবে। অর্থাৎ নিজের নফসকে আল্লাহর আহকামের অনুগামী করবে। (আহমদ, হাকেম)

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নফসের হকসমূহ (Rights of Body)

📄 নফসের হকসমূহ (Rights of Body)


এ পৃথিবীতে যত ধর্ম আগমন করেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ধর্মেই সামাজিক হকসমূহকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধর্মই মাতা-পিতার হককেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদি স্বভাবগত দিক থেকে এ বিষয়ে চিন্তা করা হয় তাহলে মাতা-পিতার হকের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। ইসলামও মাতা-পিতার হকে গুরুত্ব স্বীকার করে। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলামের বিশেষত্ব রয়েছে। হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইসলামের বিশেষত্ব হল ইসলাম মানুষের হকগুলোকে স্তরে স্তরে ভাগ করে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। ইসলামে বিভিন্ন জনের হকের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, তাতে বিভিন্ন জনের হক এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কোন জ্ঞান-পিপাসুর পিপাসা অতৃপ্ত থাকে না। মানুষের উপর মানুষের যে সব হক রয়েছে সেগুলো বর্ণনা করা ছাড়াও প্রাণি-জগত, উদ্ভিদ-জগত এবং জড়-বস্তুর হকসমূহকেও বাদ দেওয়া হয়নি। মানুষের নিজের উপরও যে সব হক রয়েছে সেগুলোকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের নিজের উপরও হক রয়েছে। এমনকি প্রতিটি অঙ্গের হক রয়েছে। সহীহ বুখারীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন 'তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে।'

এমনিভাবে অন্য এক হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার চোখেরও হক রয়েছে।' কোন কোন ধর্মে নিজের শরীর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কষ্টে ফেলা, প্রবৃত্তির চাহিদাকে অস্বাভাবিকভাবে ধ্বংস করা এবং জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জন প্রান্তরে গিয়ে ধ্যানমগ্ন হওয়াকে তাকওয়া ও পরহেযগারী মনে করা হয়। কিন্তু ইসলাম এ সব অস্বাভাবিক নিয়মাবলীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে, বৈরাগ্যবাদ এবং নিজের প্রবৃত্তিকে অস্বাভাবিকভাবে দমন করা মোটেই ইবাদত নয়; বরং ইসলাম এর কঠোর বিরোধী।

শরীয়ত নিজের নফসকে হত্যা করার অনুমতি কাউকে দেয় না; বরং ইসলামের বিধান হল নফসের হকসমূহ আদায় করা এবং তাকে জীবিত ও কার্যক্ষম রাখা। কিন্তু এ হকগুলো এমনভাবে আদায় করতে হবে যাতে নফস আল্লাহর আদেশের অনুগত থাকে। তাকওয়া সম্পর্কে ইসলামের চিন্তাধারা হলো এই নফসকে মেরে ফেলা যাবে না। বরং নফসকে আয়ত্বে রাখাই হল তাকওয়া। নফসকে পবিত্র করাই সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। এর উদাহরণ হলো তলোয়ারের মত। তলোয়ার দ্বারা নিষ্পাপদেরকেও হত্যা করা যায়। এ জন্য পূর্বের শরীয়তসমূহে বলা হয়েছে তলোয়ার ভেঙে ফেলো। অথবা তাকে এমনভাবে ভোঁতা করে ফেল যাতে তার তেজ না থাকে। কিন্তু ইসলামের বক্তব্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলাম বলে তলোয়ারকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ কর এবং তাকে আল্লাহর আদেশের অনুগামী কর যাতে অত্যাচারীতদের সহযোগিতায় আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো নফসকে তার হকসমূহ থেকে বঞ্চিত করার অনুমতি দিতেন না। তিনি সব সময় জোরালোভাবে উপদেশ দিতেন, দুনিয়ায় খাদ্য গ্রহণ কর, পানীয় পান কর, ভাল পোষাক পরিধান কর এবং বিবাহ শাদী কর। কিন্তু সর্বাবস্থায় ইসলামী শরীয়তের সীমানার ভিতর থাকার চেষ্টা কর, মধ্যমপন্থা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখ। (সহীহ বুখারী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00