📄 ফিল্মের প্রভাব (Effect of Film)
সঙ্গী কাছে থাকলে এবং সঙ্গীর সন্তুষ্টি থাকলে নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে আপনা আপনি যৌন চাহিদা সৃষ্টি হয়। কিন্তু ব্লু ফিল্ম দর্শকদের জন্য সঙ্গীর উপস্থিতি ও সন্তুষ্টি যথেষ্ট হয় না। একজন সাধারণ ও সঠিক চিন্তা চেতনাবিশিষ্ট মানুষের যৌন উত্তেজনার দহলিজ খুব সহজেই পার হওয়া সম্ভব। এর জন্যে কেবল সঙ্গীর উপস্থিতি, নৈকট্য এবং এক সঙ্গে দুটি গরম নিশ্বাস বের হওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু ব্লু ফিল্মের দর্শকের যৌন উত্তেজনার দহলিজ নিজেদের কর্মফলের কারণে এত উঁচু উঠে যায় যে, তা পার হওয়ার জন্য এ সব প্রস্তুতি ছাড়াও প্রয়োজন পড়ে এক সঙ্গে কয়েকজন নারীর নগ্নদেহের চলমান চিত্র এবং তাদের সে সব অশ্লীল ক্রিয়াকলাপ। অথচ এ উদ্দেশ্যে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সৃষ্টি করা হয়নি।
দীর্ঘ দিন ব্লু ফিল্ম দেখার আরেকটি সর্বনাশা প্রতিক্রিয়া হল তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ বানিয়ে দেয়। এটাকে নিয়মমাফিক ডিরেকশনের বিপরীতে উত্তেজিত করা হয়। ফলে এ অঙ্গ বক্র অবস্থায়ই ভিজে যায়। ব্যবহারের সময়ও সোজা হতে সক্ষম হয় না। অর্থাৎ সিনেমা হল, রেষ্টুরেন্ট এবং ঘরে ফিল্ম দেখতে দেখতেই কোন অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া ব্যতীতই নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার অভ্যাস হয়ে যায়।
ব্লু ফিল্মের তৃতীয় ক্ষতি হল, একজন সাধারণ সাধাসিধে লোকের যৌন জীবন যথেষ্ট শান্তিময় ও সুখকর হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ গৃহিনীর পক্ষে ব্লু ফিল্মে প্রদর্শিত দেহ-পসারিনীর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া সাধারণত এ জাতীয় পুরুষরা স্বীয় স্ত্রীতে তৃপ্ত হয় না। এরা সাধারণত ভিন্ন পথ বেছে নেয়।
ব্লু ফিল্মের চতুর্থ ক্ষতি হল এ সকল রোগীরা প্রোস্টেটিক ডিসচার্জ করে। অর্থাৎ এদের প্রস্রাবের নালীর মুখে ফোঁটা ফোঁটা পানি থাকে। জাগ্রত অবস্থায় প্রতিটি মুহুর্তে এরা উত্তেজিত থাকে। ফলে মহিলাদের পিছু লাগা, তাদেরকে অযথা উত্যক্ত করা, যৌন ইঙ্গিত দেওয়া, সুযোগ পেলেই স্পর্শ করা, সর্বদা নগ্ন স্থির চিত্র পকেটে রাখা, দিন-রাত নগ্ন ফিল্ম দেখা, যৌন উত্তেজক বই পড়া (যে সকল বইয়ের কোন সাহিত্যরস নেই) তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।
নগ্ন ফিল্ম দেখার অভ্যাস অথবা কোন যে কোন যৌন বদঅভ্যাস অল্পক্ষেত্রেই একক অপরাধের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্যান্য অপরাধও এর সাথে জড়িত থাকে। যেমন- নেশা যুক্ত দ্রব্যাদির ব্যবহার, অযথা সময় নষ্ট, দায়িত্ব বহনে অস্বীকৃতি, অযথা পয়সা ব্যয় করা, সে পয়সা তার নিজের, বাবার অথবা চুরি চামারির হতে পারে, দেহ ব্যবসায়ী মহিলাদের নিকট আনাগোনা করা, চারিত্রিক মর্যাদা থেকে দূরে সরে যাওয়া ইত্যাদি।
📄 সমাপ্তি সম্ভব নয় (End is Impossible)
এ পরিস্থিতির সমাপ্তি সম্ভব নয়। ল্যাট্রিনে কয়লা দিয়ে ছবি নির্মাতাদের হাতও আটকে রাখা সম্ভব নয় আর নগ্ন ফিল্ম প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের মস্তিষ্কে পাহারাদার বসানোও সম্ভব নয়।
📄 পাঁচটি বিষয় থেকে বিরত থাক (Take Shelter from five things)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের দিকে ফিরে এরশাদ করেন : হে মুহাজির ও আনসার। পাঁচটি জিনিষে জড়িয়ে পড়া থেকে বেঁচে থাক :
১. কোন সম্প্রদায়ের মাঝে নির্লজ্জতা প্রকাশ্য ও সাধারণ বিষয়ে পরিণত হলে, তাদের মধ্যে মহামারী এবং এমন রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে ছিল না।
২. লোকেরা মাপে কম দিতে আরম্ভ করলে দুর্ভিক্ষ, বাদশাহর জুলুম-অত্যাচার ও বিভিন্ন ধরনের কঠোরতায় আক্রান্ত হয়।
৩. যখন মানুষ যাকাত দেওয়া বন্ধ করে, তখন আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি চতুষ্পদ ও অন্যান্য প্রাণী না থাকত, তবে কখনো বৃষ্টি হত না।
৪. যখন মানুষ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে কৃতওয়াদা ভঙ্গ করে, তখন তাদের উপর আল্লাহ তা'আলা ভিনদেশী দুশমনকে চাপিয়ে দেন।
৫. যখন রাজা-বাদশাহগণ আল্লাহ্ তা'লার কিতাবে বর্ণিত বিধি-নিষেধসমূহ ছেড়ে দেয়, তখন পরস্পরে ঝগড়া-বিবাদ এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ লাগিয়ে দেওয়া হয়।
📄 আমেরিকায় দুর্যোগ (Accidents in America)
চলতি বছর আমেরিকায় কিছু নতুন ঘটনা ঘটেছে। এগুলো আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয়। মিসিসিপি নদীতে প্রতি বছর বন্যা হয়। এ নদীতে স্বাভাবিক অবস্থায় পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ কিউসেক। এ বছরের বন্যায় পানি প্রবাহের পরিমাণ ছিল সাড়ে সাত লক্ষ কিউসেক। পানি পূর্বনির্মিত পুল এবং বাঁধগুলোকে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রায় সাতটি প্রদেশ বন্যার সময় পানির নীচে ছিল। ত্রিশ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট টি.ভি.তে ভাষণে বলেন, এ বিপদ যেন দূর হয় এ জন্য চার্চের দায়িত্বশীলদের দোয়া করা উচিৎ। তকদীরের সামনে তদবীর হাঁটু গেঁড়ে দিয়েছে। আল্লাহু আকবার।
টেক্সাস প্রদেশে টর্নেডো হল। এ টর্নেডোর শক্তি ছিল ১০টি নাইট্রোজেন বোমার শক্তির চেয়েও বেশি। এতে ঘরের ছাদ পর্যন্ত উড়ে যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি শূন্যে ভেসে আবার আছড়ে পড়ে। স্বল্প সময়েই সুন্দর বসতি বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়। ক্ষতির অংক কয়েক বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের সুপার পাওয়ার কুদরতে এলাহীর দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। আল্লাহু আকবার।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে জানুয়ারি, ১৯৯৪, সময়-রাত ৪ ঘটিকা, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এটি ১৭ই জানুয়ারির সেই রাত যে রাতে সুপার পাওয়ার বাগদাদের পবিত্র স্থানসমূহের উপর বোম্বিং করছিল। এ ভূমিকম্পের পূর্ণ বিবরণ বড়ই আশ্চর্যজনক। ভূমিকম্পের পূর্বে সংকেতদানকারী যন্ত্রগুলো ছিল নিঃশব্দ। আর ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Epi Centre) ভূমি থেকে নয় কিলোমিটার গভীরে ছিল। প্রযুক্তিবিদদের দৃষ্টিতে এ ভূমিকম্প সংঘটনরে সম্ভাবনা ছিল দশ হাজারের এক ভাগ (Probability One in Ten Thousand)। প্রকৌশলীরা অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলেন এ ধরনের ভূমিকম্প কখনো সংঘটিত হবে না। ভূমিকম্প এসে পড়লে তারা বিস্ফোরিত নেত্রে চেয়ে থাকে। সুপার পাওয়ারের সব টেকনোলজি অকেজো প্রমাণিত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা (Amplitude) সাতের চেয়েও বেশি ছিল। এ ভূমিকম্প মাত্র ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। অথচ মনে হচ্ছিল যেন আর শেষ হবে না। ঘুমন্ত লোক বিছানা থেকে বলের ন্যায় টপকে নীচে পড়ে।