📄 মাতা-পিতার চরিত্র (Character of Parents)
উঠতি বয়সী যুবক এবং ছাত্রদের যেরূপ নগ্ন ছবির সাথে সম্পর্ক রয়েছে, ধন সম্পদ ও টাকা পয়সা অনুপাতে বড়দের সাথেও অশ্লীল ছবির অনুরূপ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের জীবনও এরূপ উদ্দেশ্যহীন। তাদের সন্তানরা বাড়িতেই কোন কামরায় কোন ফিল্ম দেখছে, কি খাচ্ছে, কি পান করছে তাও তাদের জানা নেই। এরূপ পরিবারে বড়দের সাথে সন্তানদের সম্পর্ক শুধু এতটুকুই যে, তারা তাদেরকে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিবে। পড়ুয়া ছেলেদের সাথে প্রতিযোগিতা করে উপরের স্থান লাভ নিজেদের জন্য নিশ্চিত করবে। পয়সাওয়ালা এবং প্রতিষ্ঠিত লোকেরাও উচ্চ শিক্ষার স্কলারশীপপ্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রদের পরিবর্তে নিজেদের নকল করে পাশ করা ছেলের জন্য নিজেকে ওয়াক্ফ মনে করে। আর ছেলেরাও মনে করে যে, তারাই প্রকৃত আরাম-আয়েশ ও সুখ শান্তির একমাত্র দাবীদার।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে অশ্লীল ফিল্মের আলোচনার সাথে মদ, হেরোইন ও অন্যান্য নেশাযুক্ত দ্রব্যের উল্লেখ সামঞ্জস্যহীন বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হল, জীবন যাপনের এ সব অন্যায়-অবৈধ পন্থাগুলো একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। একটি বিশেষ পরিবেশেই এ সব অপরাধ জন্ম নেয় এবং বৃদ্ধি পেতে থাকে।
📄 জীবনের প্রাণবন্ত উদ্দেশ্য (Healthy Aim of Life)
যে সব উঠতি বয়সী যুবকদের জীবনে নেশাযুক্ত জিনিষ প্রবেশ করে নি, তাদের জীবনের প্রারম্ভ থেকেই তথা শৈশব, কৈশোর ও যৌবনে খুবই সতর্কভাবে যৌনতা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের পরিবেশ দেখে প্রতিটি ছেলে মেয়ের মন-মস্তিষ্কে যৌনতা সম্পর্কে যে সব প্রশ্ন জাগে, এক ধমকেই সেগুলিকে দাফন করে দেওয়া যায় না। যদি তাদের মস্তিষ্কে এমন সুস্থ ধারণা থাকে যার ভিত্তি কোন মহৎ উদ্দেশ্য এবং অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের উপর প্রাধান্য দেওয়া অথবা যাদের ধ্যান-ধারনায় চারিত্রিক মর্যাদার এতটুকু গুরুত্ব থাকে, যতটুকু গুরুত্ব রয়েছে নির্মল বায়ুতে শ্বাস গ্রহণ করার, তাহলে এরূপ তরুণরা হয়তো চারিত্রিক ভ্রষ্টতার দিকে মোটেও যাবে না। অথবা যদি ঘটনাচক্রে জেনে অথবা না জেনে দু'একজন সেখানে পৌছে যায়, তাহলে আবার স্বস্থানে ফিরেও আসে। এরূপ ব্যক্তিরা একবার অশ্লীল ফিল্ম দেখার পর দ্বিতীয়বার দেখার বিষয়ে আগ্রহী হয় না।
আবার এর বিপরীতও হয়ে থাকে। অর্থাৎ যাদের জীবনের কোন উদ্দেশ্য থাকে না, সৎ প্রচেষ্টা ও চারিত্রিক মর্যাদা থেকে যারা দায়মুক্ত, নেশায় উন্মাদ, তাদের জন্য প্রতিটি নতুন যৌন অভিজ্ঞতা নতুন মাদকের ন্যায় সৃষ্টি করে নব প্রয়োজন। সর্বদা উঁচু মানের মদ পান করে থাকে এমন ব্যক্তিকেও যদি একবার নিম্নমানের দেশী মদ দেওয়া হয়, তাহলে সে মাঝে-মাঝেই এই দেশী ছাই-ভস্মের স্বাদও উপভোগ করতে চায়। কারণ তার নেশা নতুন ধরনের আমেজ সৃষ্টি করে। যখন মদের নেশার ভূত নেমে যায়, তখন সে প্রতিবারই মনে করে শেষে পান করা মদটি একেবারেই নিম্নমানের।
📄 নগ্ন ফিল্মের প্রভাব (Effect of Naked Picture)
ব্লু অথবা নগ্ন ফিল্ম দেখাও এক প্রকারের নেশা। ৮ বছর বয়সের কিশোর থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সে ছেলে এবং মেয়েরা এর দর্শক। কিন্তু তুলনামূলকভাবে মেয়েরা কম, ছেলেরা বেশি। ১৫ থেকে ৪৫ বৎসরের পুরুষরা এ বদঅভ্যাসের বেশি শিকার। এদের মাঝে রয়েছে বিবাহিত অবিবাহিত উভয়েই। বিবাহিতদের মধ্যে তারাও রয়েছে যাদের প্রজনন ক্ষমতা ভর-দুপুরের ন্যায়। সে সব পুরুষও রয়েছে যাদের যৌবনে নেমে এসেছে রাতের অন্ধকার এবং স্ত্রীরা পেরিয়ে গেছে প্রজনন ক্ষমতার স্তর। বর্তমান যুগের অধিকাংশ ইংরেজি, হিন্দি অথবা স্থানীয় ভাষার ফিচার ফিল্মের কোন কোন সিকুয়েন্স (Sequences) কে যদি নগ্ন ফিল্মের সারিতে রাখা হয়, তবে অনুমান করা যেতে পারে যে, আমাদের সমাজের কত বড় অংশ বিংশ শতাব্দীর এ প্রযুক্তি ও শিল্পের ভুল ব্যবহার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। সকলেরই জানা আছে, ফিচার ফিল্ম আর্টের দিকে দিয়ে যত উন্নত মানেরই হোক না কেন তাতে কম-বেশি নগ্নতা থাকবেনই। তাতে থাকবে নগ্ন শারীরিক প্রদর্শনী আর এ সবই উঠতি বয়সী যুবকদের কাছে খুব প্রিয়। সুতরাং এ উঠতি বয়সী যুবক দর্শকরা ফিল্মে দেখা এ সব দৃশ্যের পটভূমিতেই নিজেদের যৌন জীবন গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে। এ জন্য ভাববার বিষয় হল, যারা পূর্বেই বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেছে বা সবে মাত্র পদার্পণ করছে, তাদের বৈবাহিক জীবনে প্রশান্তির পদচারণা কিভাবে ঘটবে?
প্রায় ১৮ বৎসরে নেওয়া অগণিত সাক্ষাৎকার থেকে এ সব সংগৃহীত। এ সব সাক্ষাৎকারের আলোকে বলা যায়, অন্যান্য খারাপ কাজের (Evils) পাশাপাশি নগ্ন ফিল্ম দেখার অভ্যাসও সমাজে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অভ্যাস অন্যান্য যৌন অপরাধের তুলনায় আরো ব্যাপক। এমনকি অন্য অপরাধের সাথেও যদি তুলনা করা হয়, তবে নেশাযুক্ত দ্রব্যাদির ব্যবহার তারচেয়েও অধিক পরিমাণে সমাজের রগ-নেশা এবং মস্তিষ্কে ভর করেছে। নগ্ন ফিল্মের প্রভাব অনুসারে মানুষকে চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
১. সে সব লোক যারা কখনো নগ্ন ফিল্ম দেখে নি।
২. যারা নগ্ন ফিল্ম খুব কম দেখে অথবা শুধু একবার দেখেছে।
৩. যারা নিয়মিত নগ্ন ফিল্ম দেখে কিন্তু সেগুলি না দেখাও থাকতে পারে।
৪. যারা নগ্ন ফিল্ম দেখার অভ্যাস ছাড়তে পারে না।
তারা একা অথবা অন্য কোন পুরুষ বা নারীকে সঙ্গে নিয়ে এ জাতীয় ফিল্ম দেখে থাকে। অধিকাংশ সময় একটা গ্রুপ মিলে এসব ফিল্ম দেখে। এ অপকর্মের সাথে সাথে সাধারণ অন্য কোন অপরাধও তারা করে বসে।
📄 ফিল্মের সাথে প্রথম পরিচয় (First Encounter with Film)
ইতোপূর্বে আমি বলে এসেছি যে, নগ্ন ফিল্মের সাথে পরিচয় ঘটনা চক্রেও হতে পারে। যেমন- কোনো হলরুমে, ড্রয়িং রুমে কিংবা কোন সিনেমায় ফিচার ফিল্ম দেখানো হচ্ছিল এবং হঠাৎই নরমাল রিলসমূহের মাঝে দু একটি নগ্ন ফিল্মের রিল জুড়ে দেওয়া হল। বর্তমানে এটা প্রত্যেক শহরের সিনেমা হলে হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, সেন্সর বোর্ড এমন ফিল্মেরই ছাড়পত্র দিয়েছে যে সিনেমা সকলেই দেখতে পারে। কিন্তু তার ভিতরেই হাজার বারো শত ফিট নগ্ন ফিল্ম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ শিশুদেরকেও সিনেমা দেখার জন্য সঙ্গে নিয়ে আসে, তবে এমন এক পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, সম্ভব হলে সে যেন হলের মেঝের তলায় আত্মগোপন করবে। কারণ শিশুর সামনে প্রদর্শিত এ নগ্ন ফিল্মকে সে বন্ধ করতেও সক্ষম নয়। ছোট ছোট শহরের সিনেমা হলগুলোর অবস্থাও এ রকম। এ সব সিনেমা হলেও শিশুদেরকে সাথে নেওয়া যায় না। একা যেতে হয়।
যারা পূর্ব থেকে এ সম্পর্কে শুনেছে সে সব ছেলেমেয়েরাও উৎসাহ নিয়ে নগ্ন ফিল্ম দেখে। অনেক বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় দেখে এবং মিথ্যা দাবী করে, 'এ নগ্নতা আমার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।' তাদের মিথ্যা দাবী ঐ সব ছেলেদের দাবীর ন্যায় যারা জীবনে প্রথমবার সিগারেট ফুঁকে নিজেকে বড় মনে করে এবং বুক ফুলিয়ে বলে 'আমি সমবয়সীদের থেকে কোন অংশে পিছনে নই।"