📄 বর্তমান সমাজ ও অশ্লীল/ছবি
বর্তমান সমাজ ও অশ্লীল/ছবি অশ্লীল ছবি দেখার অভ্যাস অন্য সব বদঅভ্যাসের মতই। এ জাতীয় রোগী নগ্ন ফিল্মের পাশাপাশি হয়তো নেশা করে অথবা ফিল্মে যা দেখে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। কেউ কেউ হয়তো ব্লু ফিল্ম অথবা নগ্ন ছবি দেখে অন্য যৌন অভ্যাসেও লিপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ সবের মাধ্যমেও তার চাহিদা পূর্ণ না হলে অবশেষে এ সব ছবি দেখাই তার বিকৃত চাহিদা পূরণের উপকরণে পরিণত হয়।
📄 কারণসমূহ (Reason)
মনোস্তাত্ত্বিক ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে স্পষ্ট জানা যায়, নগ্ন ছবি সে সকল ছেলেরাই দেখে যাদের সামনে জীবনের কোন মহৎ উদ্দেশ্য নেই। যে সব ছাত্ররা পড়ালেখা করে না, নকল করে পাশ করে, রাজনৈতিক পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে অথবা যাদেরকে তাদের বুদ্ধিমান অভিভাবকগণ ধর্ম এবং এ বিষয়ক চারিত্রিক বিধি-নিষেধের ঝুট ঝামেলা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে, তারাই এ ধরনের ছবির দর্শক।
এক শ্রেণির উঠতি বয়সী যুবককেরা নিজেদেরকে সমাজসেবক মনে করে এবং নিজেদেরকে মুক্ত বা স্বাধীন বলে বিশ্বাস করে। এ ধরনের উঠতি বয়সী যুবকদের সব ধরনেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাধারণত এরা দুটি জিনিষ নিয়ে হা হুতাশ করে। বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি (অর্থাৎ কারো কাছ থেকেই ভালবাসা না পাওয়ার) এবং হীনম্মন্যতা। কিন্তু তারা নিজেরা অন্যের জন্য কি করেছে (?), অন্যকে কতটুকু ভালবাসা দিয়েছে (?) এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের এ বঞ্চনা নিজেদেরই কর্মফল এবং কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা। তাই তারা শান্তির জন্য অন্বেষণ করে বেড়ায় অবাস্তব মাধ্যম যেমন- নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার, জুয়া, অবৈধ যৌনতা, অন্যের উপর জুলুম-অত্যাচার করা, হাওয়ার বেগে মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার চালানো, অপরাধমূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ, ব্লু ফিল্ম দেখে ফুর্তি করা ইত্যাদি।
📄 মাতা-পিতার চরিত্র (Character of Parents)
উঠতি বয়সী যুবক এবং ছাত্রদের যেরূপ নগ্ন ছবির সাথে সম্পর্ক রয়েছে, ধন সম্পদ ও টাকা পয়সা অনুপাতে বড়দের সাথেও অশ্লীল ছবির অনুরূপ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের জীবনও এরূপ উদ্দেশ্যহীন। তাদের সন্তানরা বাড়িতেই কোন কামরায় কোন ফিল্ম দেখছে, কি খাচ্ছে, কি পান করছে তাও তাদের জানা নেই। এরূপ পরিবারে বড়দের সাথে সন্তানদের সম্পর্ক শুধু এতটুকুই যে, তারা তাদেরকে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিবে। পড়ুয়া ছেলেদের সাথে প্রতিযোগিতা করে উপরের স্থান লাভ নিজেদের জন্য নিশ্চিত করবে। পয়সাওয়ালা এবং প্রতিষ্ঠিত লোকেরাও উচ্চ শিক্ষার স্কলারশীপপ্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রদের পরিবর্তে নিজেদের নকল করে পাশ করা ছেলের জন্য নিজেকে ওয়াক্ফ মনে করে। আর ছেলেরাও মনে করে যে, তারাই প্রকৃত আরাম-আয়েশ ও সুখ শান্তির একমাত্র দাবীদার।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে অশ্লীল ফিল্মের আলোচনার সাথে মদ, হেরোইন ও অন্যান্য নেশাযুক্ত দ্রব্যের উল্লেখ সামঞ্জস্যহীন বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হল, জীবন যাপনের এ সব অন্যায়-অবৈধ পন্থাগুলো একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। একটি বিশেষ পরিবেশেই এ সব অপরাধ জন্ম নেয় এবং বৃদ্ধি পেতে থাকে।
📄 জীবনের প্রাণবন্ত উদ্দেশ্য (Healthy Aim of Life)
যে সব উঠতি বয়সী যুবকদের জীবনে নেশাযুক্ত জিনিষ প্রবেশ করে নি, তাদের জীবনের প্রারম্ভ থেকেই তথা শৈশব, কৈশোর ও যৌবনে খুবই সতর্কভাবে যৌনতা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের পরিবেশ দেখে প্রতিটি ছেলে মেয়ের মন-মস্তিষ্কে যৌনতা সম্পর্কে যে সব প্রশ্ন জাগে, এক ধমকেই সেগুলিকে দাফন করে দেওয়া যায় না। যদি তাদের মস্তিষ্কে এমন সুস্থ ধারণা থাকে যার ভিত্তি কোন মহৎ উদ্দেশ্য এবং অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের উপর প্রাধান্য দেওয়া অথবা যাদের ধ্যান-ধারনায় চারিত্রিক মর্যাদার এতটুকু গুরুত্ব থাকে, যতটুকু গুরুত্ব রয়েছে নির্মল বায়ুতে শ্বাস গ্রহণ করার, তাহলে এরূপ তরুণরা হয়তো চারিত্রিক ভ্রষ্টতার দিকে মোটেও যাবে না। অথবা যদি ঘটনাচক্রে জেনে অথবা না জেনে দু'একজন সেখানে পৌছে যায়, তাহলে আবার স্বস্থানে ফিরেও আসে। এরূপ ব্যক্তিরা একবার অশ্লীল ফিল্ম দেখার পর দ্বিতীয়বার দেখার বিষয়ে আগ্রহী হয় না।
আবার এর বিপরীতও হয়ে থাকে। অর্থাৎ যাদের জীবনের কোন উদ্দেশ্য থাকে না, সৎ প্রচেষ্টা ও চারিত্রিক মর্যাদা থেকে যারা দায়মুক্ত, নেশায় উন্মাদ, তাদের জন্য প্রতিটি নতুন যৌন অভিজ্ঞতা নতুন মাদকের ন্যায় সৃষ্টি করে নব প্রয়োজন। সর্বদা উঁচু মানের মদ পান করে থাকে এমন ব্যক্তিকেও যদি একবার নিম্নমানের দেশী মদ দেওয়া হয়, তাহলে সে মাঝে-মাঝেই এই দেশী ছাই-ভস্মের স্বাদও উপভোগ করতে চায়। কারণ তার নেশা নতুন ধরনের আমেজ সৃষ্টি করে। যখন মদের নেশার ভূত নেমে যায়, তখন সে প্রতিবারই মনে করে শেষে পান করা মদটি একেবারেই নিম্নমানের।