📄 মুরাকাবার জন্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা
* পেট খালি থাকা অবস্থায় মুরাকাবা করুন।
* সকাল বেলা মুরাকাবার উত্তম সময়।
* ঘুম দূর করার জন্য মুরাকাবা করলে মুরাকাবার পূর্বে হাত, পা ও মুখমণ্ডল ধৌত করা উচিত।
* জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন মনোভাব নিয়ে মুরাকাবা করবেন না; বরং সানন্দে নিজেই উৎসাহিত হয়ে মুরাকাবায় বসে যান।
* মোমবাতির মৃদু আলো, সুগন্ধি ইত্যাদি মুরাকাবার সহায়ক।
* মুরাকাবার সময়ও যদি অস্বস্তি বোধ হতেই থাকে, তবে এমন মুরাকাবা করা উচিত যাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া হয়। যেমন— ইউগা (এক ধরনের কারাতে জাতীয় কসরত), শরীর চর্চা ইত্যাদি।
* মুরাকাবা শেষ না হতেই উঠার ইচ্ছা হলে সেই ইচ্ছাকে শক্তি প্রয়োগে প্রতিরোধ করা চাই। তবে যদি এমনটি মনে হয় যে পনের-বিশ মিনিট অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে মিনিট পাঁচেক পর পুনরায় শুরু করা দরকার।
* মুরাকাবার অভ্যাস চালু রাখা দরকার। কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভের উদ্দেশ্যে মুরাকাবার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুন। কখনো যদি মুরাকাবায় দক্ষ কাউকে পাওয়া যায় অথবা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ আসে, তবে তা থেকে উপকৃত হওয়া উচিত। (মাকালাতে সাইন্স)
📄 আংটির যুগ
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বরকতময় আগমনের পূর্বে হাতে গোণা দুই একজন ব্যক্তি নিজের অবস্থানুযায়ী জাতীয় পরিশুদ্ধির জন্য চেষ্টা চালাতেন। অন্তত জাতীয় দুরাবস্থা দূরকরণের চিন্তা-ফিকিরের কষ্টকে মেনে নিতেন। তখন জীবনের নানা বিষয়ে অনেক বিস্ময়কর ও বিরল প্রথা চালু ছিল। কেননা পথভ্রষ্টতার যুগে মানুষ উপদেশ অনুযায়ী আমল করবে— এটা তো দূরের কথা, উপদেশ শ্রবণকারীও সোনার হরিণ হয়ে উঠে। ঐ যুগে আংটির বেশ প্রচলন ছিল। সে যুগে যদি কেউ উপদেশ দেওয়ার জন্য বক্তৃতা শুরু করত আর তা যদি শ্রোতার নিকট অপছন্দনীয় মনে হত, তবে শ্রোতা বক্তাকে আংটি দেখিয়ে তার এই অপছন্দনীয় মনোভাব জানিয়ে দিত। সে যুগের প্রথানুযায়ী এটা বক্তার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল।
এমনই পরিস্থিতির শিকার ছিল এক ব্যক্তি। সমাজের কল্যাণকামী হয়ে লোকজনের সফলতার জন্য উপদেশ দানের স্পৃহাও তার ছিল। কিন্তু ঐ আংটির ভয়ে তিনি তার স্পৃহা অবদমন করেন। লোকালয় ছেড়ে বনে আশ্রয় নেয়। ঘাস, গাছের পাতা ইত্যাদি খেতে থাকেন এবং আল্লাহর সত্ত্বার বিভিন্ন বিস্ময়কর দিক নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতেন। তার এই ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে কতিপয় অসাধারণ গুণাবলী দান করেন। তিনি পাখির দিকে দৃষ্টি দিলে পাখি মাটিতে পড়ে যেত। মনোযোগের সাথে পাথরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে পাথরও উপর থেকে পড়তে শুরু করত। এমনকি যে কোন বস্তুকেই মনোযোগ সহকারে দেখলে, তার দৃষ্টির বলে সে বস্তু প্রভাবিত হয়ে পড়ত। তাঁর এসব অলৌকিক গুণাবলী গোপন থাকে নি।
মক্কার জ্ঞানীরা তার নিকট আসা যাওয়া করত। এ সময়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাবাসীকে সম্বোধন করে তাঁর নুবওয়তের ঘোষণা দেন। মক্কাবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্যাতন শুরু করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার (নাউযুবিল্লাহ) চিন্তা করে এবং তাঁর কথাকে যাদুকরের কথা বলে বিবেচনা করে। এ কারণেই তারা সে যুগের বড় বড় যাদুকরদের সাহায্যে তাঁর আনীত ঐশীবানীকে খতম করতে উদ্যত হত। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অবশেষে মক্কার নেতাজীরা ঐ সাধু ব্যক্তির কথা স্মরণ করে এবং তাকে কিভাবে মক্কায় ফিরিয়ে আনা যায় তা চিন্তা করতে থাকে। অবশেষে তারা তাকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে প্রতিনিধি প্রেরণ করে। প্রতিনিধি ঐ সাধুর কাছে তার আগমনের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করলে সাধু তাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব বানীকে ঐশী বানী বলে প্রচার করতেন, সেগুলোকে মুখস্থ করে আনতে বলেন। এটাও জানিয়ে দেন যে, মুরাকাবায় থাকা অবস্থায় তাকে কথাগুলো বারবার শুনালে তিনি মগ্নতার চূড়ান্ত পর্যায়ে যে মন্তব্য করবেন সেটাই হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনীত ঐশী বানীর জবাব।
এ নির্দেশনা অনুযায়ী ঐ প্রতিনিধিবর্গ মক্কায় ফিরে এসে সূরা কাউসার এর অংশবিশেষ মুখস্থ করে ফিরে যায়। অতঃপর মুরাকাবার সময় তাকে ঐ সূরা শুনানো হলে তিনি মন্তব্য করেন 'এটা সত্য এবং কোন মানুষের বাণী নহে। আমি তো মক্কার জনগণের আচরণে নিরাশ হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আমার এ জ্ঞান ছিল না যে এমন দূরদর্শী ও খোদায়ী সাহায্যপ্রাপ্ত কেউ ঐ ভূমিতে আগমন করতে পারেন যিনি মানুষকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করবেন'। একথা শুনে তারা মুসলমান হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে ফিরে আসে। এভাবে মক্কার নেতাজীদের এ দূরভিসন্ধি ব্যর্থ হয়। উপরোক্ত ঘটনায় বর্ণিত ঐ সাধু ব্যক্তির শক্তি ও ক্ষমতার উৎস ছিল মুরাকাবা।