📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Experiment of Experts)

📄 বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Experiment of Experts)


মস্তিষ্কের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের উপর 'মুরাকাবার প্রতিক্রিয়া কি' তা জানার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা চালিয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা সবসময় নিজেদের নেতিবাচক চিন্তার কারণে রোগ বৃদ্ধি করে চলে। যদি কোন ব্যক্তি জীবনের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে কিছু সময়ের জন্যও দূরে সরিয়ে রাখে, অপর কোন বস্তুর উপর মনোনিবেশ করে, তবে এটা নিশ্চিত যে, সে স্বস্তি অনুভব করবে। এটাই তার শারীরিক অসুস্থতাকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নিজেদের পরীক্ষায় আরো আবিষ্কার করেছেন যে, পরিপূর্ণ মনোযোগের সহিত মুরাকাবা করতে পারলে অস্থিরতা, প্রচণ্ড ভয়-ভীতি ইত্যাদি উপসর্গ কম দেখা দেয়।

মোটকথা স্নায়ু-চাপ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় মুরাকাবা এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। আর মুরাকাবার যে এই শক্তি আছে তা বিজ্ঞানের মূলনীতি সমূহের উপরই প্রতিষ্ঠিত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এ শক্তিকে ব্যাখ্যাও করা যায়। যখন আপনি আকস্মিকভাবে কোন কষ্ট পান অথবা কোন দুর্ঘটনা অপ্রস্তুত অবস্থায় আপনার সামনে আসে, তখন সাথে সাথেই মস্তিষ্ক অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির হরমোন নিঃসৃত করার সংকেত দেয়। এতে করে মন ভারাক্রান্ত বোধ হয়, তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়, নিশ্বাস গভীর ও দ্রুত হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে খিঁচুনি শুরু হয়, রক্তের চলাচল হ্রাস পায় এবং শরীরে ঘাম ঝরতে থাকে। মস্তিষ্কের শান্তি ও স্থিরতা থেকে রক্ত সংবহনতন্ত্র (শিরা ধমনী) স্থিরতা লাভ করে। ফলে মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও সংকট চলে, মুরাকাবা সে দ্বন্দ্ব ও সংকটকেও দূর করে। যদি আপনি মুরাকাবায় অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তবে উপরে বর্ণিত শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি ও সমস্যাগুলোকে সহজেই আয়ত্তে আনতে পারেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুরাকাবা একটা অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া (It is an Easy Process)

📄 মুরাকাবা একটা অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া (It is an Easy Process)


মুরাকাবা সোনার হরিণের মতো কোন অদ্ভুত বিষয় নয়। এটা চিকিৎসকদের বড় কোন অনুগ্রহও নয়। তবে এটা নারী পুরুষের বৈশিষ্ট্যগত কোন ব্যাধিকে দূর করতে কিংবা বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিত্বকে সুবিন্যস্ত করতে পারে না। অথবা শারীরিক অসুস্থতাকেও সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারে না। মুরাকাবা থেকে কেবল তারাই কল্যাণপ্রাপ্ত হয় যারা মুরাকাবায় আগ্রহী। মুরাকাবায় কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না এবং এটা একটা সহজ ও সবার আয়ত্তাধীন প্রক্রিয়া। এজন্য কোন ঔষধ পত্রাদির প্রয়োজন হয় না। এটা পরবর্তীতে কোন অনিষ্টকর প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করে না। এছাড়া ব্যক্তি নির্বিশেষ সবাই মুরাকাবা করতে পারে।

দৈনন্দিন মাত্র বিশ মিনিটের মুরাকাবাই মানুষের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর এবং এটা শ্রমসাধ্যও নয়। এতে করে সমগ্র মনোযোগ একই বিষয়ে নিবদ্ধ হয় এবং বিভিন্ন সমস্যাসংকুল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার ক্ষমতা তাড়াতাড়ি অর্জিত হয়। এর ফলে মানুষ অনেক জটিল জটিল পরিস্থিতিতেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অভিজ্ঞদের ধারণা মতে যদি কোন ব্যক্তি মস্তিষ্কের চাপজনিত রোগে আক্রান্ত হয় অথবা কেউ বুদ্ধিগত কোন সমস্যায় সিদ্ধান্ত নিতে অসমর্থ হয়, তবে মুরাকাবার সাহায্যে এই উভয় সমস্যা থেকে মুক্তি/আরোগ্য লাভ হতে পারে।

মুরাকাবা করতে থাকলে নিজের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি জাগ্রত হয়। সচরাচর বিশেষ কোন কারণেই মানুষ আনন্দ বোধ করে। যেমন—আপনি হয়তো ভালো কোন চাকরি পেয়েছেন কিংবা পছন্দসই কোন বস্তু ক্রয় করেছেন। আবার কোন কোন সময় এরূপ বাহ্যিক কারণ ব্যতীতই আমরা আনন্দিত বোধ করি। এটা মানুষের অন্তরের একটা উচ্চতর পর্যায় এবং এটাকে আমরা আরও উত্তম নামে অভিহিত করি। সেটা হল 'কানায়াত' বা 'সন্তুষ্টি'।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আত্মিক পথ-প্রদর্শন (Spiritual Guidance)

📄 আত্মিক পথ-প্রদর্শন (Spiritual Guidance)


আপনি যখন খোদা প্রদত্ত সত্ত্বার নৈকট্য লাভ করেন, তখন নৈকট্যের অনুভূতি আপনাকে আনন্দিত করে এবং এর সাথে সাথে আপনি আত্মিক স্থিরতা অর্জন করেন। আমরা আমাদের প্রিয়জনের সান্নিধ্যে থেকেও এ বিষয়টা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। এতে করে আমরা আত্মিক বিষয়ে দিক-নির্দেশনাও পেয়ে থাকি।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 মুরাকাবার পদ্ধতি (Methods of Meditation)

📄 মুরাকাবার পদ্ধতি (Methods of Meditation)


মুরাকাবার জন্য নিম্ন বর্ণিত পদ্ধতির প্রচলন দেখা যায়:

সচেতনতার সাথে মনোনিবেশ করা : এই মুরাকাবা আপনাকে শিক্ষা দিবে কিভাবে শরীর ও মন বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু-চাপ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এ প্রক্রিয়ায় মুরাকাবাকারী বিছানা অথবা চেয়ারে ঠিক সোজা হয়ে উপবেশন করে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ নিবদ্ধ করে। তারপর নিজের শরীর ও মনের উপর নিরীক্ষণ চালিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করে কিভাবে শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে ব্যথার উদ্ভব হয়। তারা এটা অনুভব করতে পারে, ভয় এর অনুভূতি এবং অসন্তুষ্টিমূলক ভাবনা/কল্পনা মানুষকে অসুখী করে তোলে। এই বিশ্লেষণ/নিরীক্ষণ মুরাকাবাকারীকে এ বিষয়ে আরো সচেতন করে তোলে। এতে করে আপনি যদি মুরাকাবাকারী হন, তবে আপনার মাঝে এক বিশেষ সুখকর অনুভূতি অনুভব করতে পারবেন। আপনি নিজেকে অধিক হাস্যকারী এবং মিতভাষী হিসেবে দেখতে পাবেন। এছাড়াও যৌন আচরণেও আরো বেশি তৃপ্তি অনুভব করবেন। এ অবস্থাই মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এই মুরাকাবার ফলে মানুষ স্থিরতা ও প্রশান্তি লাভ করে, ঝগড়া-বিবাদ ও সংঘর্ষ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং অল্পতেই প্রচণ্ড আবেগে উত্তেজিত হওয়ার প্রবণতা দূর হয়।

ভ্রমণ অবস্থায় মুরাকাবা (Meditation with Walking) :
প্রাতঃভ্রমণ করা অবস্থায় মুরাকাবা করার জন্য ধীর পদক্ষেপে সরল রেখা বরাবর পায়চারি করা দরকার। এই রৈখিক পথের দূরত্ব বিশ ফুট কিংবা এর কিছু কম-বেশি হওয়া চাই। আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস এবং পা উঠানো, সামনের দিকে অগ্রসর করা এবং পুনরায় মাটিতে স্পর্শ করার সময় যে অনুভূতি আপনার মাঝে জাগ্রত হয়, তার প্রতি। সাথে সাথে অবশ্যই নিশ্চুপ থাকা চাই। এতে করে আপনার উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্থিরতা হ্রাস পাবে।

উত্তম মুরাকাবা (Better Meditation) :
সারাদিন কাজ কর্মের ফলে যে ক্লান্তি ও অবসাদ দেহ-মনকে আচ্ছন্ন করে এবং মস্তিষ্কে ভারবোধের যে অনুভূতি জন্মে, তা হ্রাস করতে আপনি মুরাকাবার আশ্রয় নিতে পারেন। 'আল্লাহু আকবার', 'আল্লাহু কাইয়্যেমু' অথবা 'হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া/রহম কর'— এ জাতীয় শব্দ পর্যায়ক্রমে একবার উচ্চশব্দে ও একবার নিরবে পনের বিশ মিনিট পড়তে থাকুন। দিনের মধ্যে অন্তত কয়েকবার এরূপ করুন। এতে আপনার শরীরের যাবতীয় তন্ত্রের (Systems) সজীবতা ও কার্যক্ষমতা ফিরে আসবে এবং আপনি প্রাণ-প্রাচুর্যপূর্ণ আনন্দঘন মনোভাবসহ সারা দিন অতিবাহিত করতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00