📄 আমেরিকান হাসপাতালের গবেষণা (Reserch of American Hospital)
সম্প্রতি আমেরিকার এক বড় হাসপাতালে ৯ হাজার রোগীর উপর পরীক্ষা চালানো হয়। এইডস এবং সন্তান জন্ম দানে অক্ষমতার মতো রোগে আক্রান্ত মহিলারাও ঐ রোগীদের মধ্যে ছিল। মুরাকাবার কয়েকটি স্তর/পর্যায় অতিক্রম করার পর মাত্র ছয় দিনের প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে প্রায় ৩৬ শতাংশ মহিলা গর্ভধারণ করেন এবং অবশিষ্ট রোগীরাও যথেষ্ট আরোগ্য বোধ করেন।
যে সমস্ত লোক কয়েক বছর যাবৎ মুরাকাবায় অভ্যস্ত, তাদের শরীরে ডি.এইচ.ই.এ (DHEA) হরমোনসমূহ, মুরাকাবায় অভ্যস্ত নয় এরূপ লোকের শরীরের তুলনায় বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়। অথচ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এ হরমোনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার কথা। এ জাতীয় লোকেরা তুলনামূলকভাবে কম রোগাক্রান্ত হয় এবং হৃদরোগ তো বলা যায় তাদের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে।
📄 মনস্তাত্ত্বিক রোগের প্রতিকার
(Treatment of Psychologial and Mental Diseases)
উন্নত দেশসমূহে চিকিৎসকবৃন্দ রোগীদেরকে মুরাকাবার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। এতে করে রোগী স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যথা এবং কষ্টকে জয় করে, শরীরে ক্ষত থাকলে তা দ্রুতগতিতে সেরে উঠে। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ রক্তের প্রয়োজন। রক্ত অক্সিজেন এবং অন্যান্য আর্দ্র উপাদান বাহিত রোগ-ব্যাধিকে শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়। অসুস্থতা, ক্ষত, ভীতি, অস্থিরতা, স্নায়ু চাপ, ক্রোধ এবং এ রকম আরো কারণে রক্তবাহী ধমনী ও শিরা বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীরের খিঁচুনি ও টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। রোগী এতে করে আরাম ও কষ্টের পর্যায়ক্রমিক আবর্তে পতিত হয় এবং এ অবস্থা তাকে 'আর কখনও সুস্থ হবো না'—এমন ভীতিকর মানসিক অবস্থায় উপনীত করে।
এসব ক্ষেত্রে মুরাকাবা রোগীর অস্থিরতা ও কষ্ট দূর করে এবং রোগী শান্তি অনুভব করে। রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। মনস্তাত্ত্বিক রোগ-ব্যাধির ক্ষেত্রেও নিয়মতান্ত্রিক মুরাকাবার ফলে জ্ঞানগত উপলব্ধি ক্ষমতা ফিরে আসে এবং দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। মুরাকাবা আপনার কর্মস্পৃহা ও দক্ষতা উভয়কেই বৃদ্ধি করে। চিন্তা ও কল্পনার জগতে পরিপূর্ণ মনোনিবেশ সহকারে বৎসরে ১০ দিনের এমন মুরাকাবা যাতে মুরাকাবাকারী প্রতি মুহূর্তে নিজের মনোযোগ দৈহিক অনুভূতি সম্পন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর নিবিষ্ট করে এবং এক ঘণ্টা সময় কোন রকম নড়াচড়া ছাড়াই বসে থাকে, এর মাধ্যমে শারীরিক অনুভূতি লোপ করার অনুশীলন হয়ে থাকে।
📄 বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা (Experiment of Experts)
মস্তিষ্কের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের উপর 'মুরাকাবার প্রতিক্রিয়া কি' তা জানার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা চালিয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা সবসময় নিজেদের নেতিবাচক চিন্তার কারণে রোগ বৃদ্ধি করে চলে। যদি কোন ব্যক্তি জীবনের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে কিছু সময়ের জন্যও দূরে সরিয়ে রাখে, অপর কোন বস্তুর উপর মনোনিবেশ করে, তবে এটা নিশ্চিত যে, সে স্বস্তি অনুভব করবে। এটাই তার শারীরিক অসুস্থতাকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নিজেদের পরীক্ষায় আরো আবিষ্কার করেছেন যে, পরিপূর্ণ মনোযোগের সহিত মুরাকাবা করতে পারলে অস্থিরতা, প্রচণ্ড ভয়-ভীতি ইত্যাদি উপসর্গ কম দেখা দেয়।
মোটকথা স্নায়ু-চাপ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় মুরাকাবা এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। আর মুরাকাবার যে এই শক্তি আছে তা বিজ্ঞানের মূলনীতি সমূহের উপরই প্রতিষ্ঠিত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এ শক্তিকে ব্যাখ্যাও করা যায়। যখন আপনি আকস্মিকভাবে কোন কষ্ট পান অথবা কোন দুর্ঘটনা অপ্রস্তুত অবস্থায় আপনার সামনে আসে, তখন সাথে সাথেই মস্তিষ্ক অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির হরমোন নিঃসৃত করার সংকেত দেয়। এতে করে মন ভারাক্রান্ত বোধ হয়, তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়, নিশ্বাস গভীর ও দ্রুত হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে খিঁচুনি শুরু হয়, রক্তের চলাচল হ্রাস পায় এবং শরীরে ঘাম ঝরতে থাকে। মস্তিষ্কের শান্তি ও স্থিরতা থেকে রক্ত সংবহনতন্ত্র (শিরা ধমনী) স্থিরতা লাভ করে। ফলে মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও সংকট চলে, মুরাকাবা সে দ্বন্দ্ব ও সংকটকেও দূর করে। যদি আপনি মুরাকাবায় অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তবে উপরে বর্ণিত শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি ও সমস্যাগুলোকে সহজেই আয়ত্তে আনতে পারেন।
📄 মুরাকাবা একটা অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া (It is an Easy Process)
মুরাকাবা সোনার হরিণের মতো কোন অদ্ভুত বিষয় নয়। এটা চিকিৎসকদের বড় কোন অনুগ্রহও নয়। তবে এটা নারী পুরুষের বৈশিষ্ট্যগত কোন ব্যাধিকে দূর করতে কিংবা বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিত্বকে সুবিন্যস্ত করতে পারে না। অথবা শারীরিক অসুস্থতাকেও সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারে না। মুরাকাবা থেকে কেবল তারাই কল্যাণপ্রাপ্ত হয় যারা মুরাকাবায় আগ্রহী। মুরাকাবায় কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না এবং এটা একটা সহজ ও সবার আয়ত্তাধীন প্রক্রিয়া। এজন্য কোন ঔষধ পত্রাদির প্রয়োজন হয় না। এটা পরবর্তীতে কোন অনিষ্টকর প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করে না। এছাড়া ব্যক্তি নির্বিশেষ সবাই মুরাকাবা করতে পারে।
দৈনন্দিন মাত্র বিশ মিনিটের মুরাকাবাই মানুষের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর এবং এটা শ্রমসাধ্যও নয়। এতে করে সমগ্র মনোযোগ একই বিষয়ে নিবদ্ধ হয় এবং বিভিন্ন সমস্যাসংকুল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার ক্ষমতা তাড়াতাড়ি অর্জিত হয়। এর ফলে মানুষ অনেক জটিল জটিল পরিস্থিতিতেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অভিজ্ঞদের ধারণা মতে যদি কোন ব্যক্তি মস্তিষ্কের চাপজনিত রোগে আক্রান্ত হয় অথবা কেউ বুদ্ধিগত কোন সমস্যায় সিদ্ধান্ত নিতে অসমর্থ হয়, তবে মুরাকাবার সাহায্যে এই উভয় সমস্যা থেকে মুক্তি/আরোগ্য লাভ হতে পারে।
মুরাকাবা করতে থাকলে নিজের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি জাগ্রত হয়। সচরাচর বিশেষ কোন কারণেই মানুষ আনন্দ বোধ করে। যেমন—আপনি হয়তো ভালো কোন চাকরি পেয়েছেন কিংবা পছন্দসই কোন বস্তু ক্রয় করেছেন। আবার কোন কোন সময় এরূপ বাহ্যিক কারণ ব্যতীতই আমরা আনন্দিত বোধ করি। এটা মানুষের অন্তরের একটা উচ্চতর পর্যায় এবং এটাকে আমরা আরও উত্তম নামে অভিহিত করি। সেটা হল 'কানায়াত' বা 'সন্তুষ্টি'।