📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 দৃষ্টির প্রতারণা

📄 দৃষ্টির প্রতারণা


দৃষ্টির ধোকা ও প্রতারণার বিষয়ে ডাক্তার লেবান যে উক্তি করেছেন তার গুরুত্ব অনেক বেশি। মানব সমাজে একমাত্র প্রেরিত পুরুষ বা নবী-রাসূল আলাইহি সালাম এবং উম্মতের সংশোধনকারীগণ ব্যতিত অন্য যে কোন ব্যক্তিই মানুষের পারস্পরিক আচার-আচরণের মূলতত্ত্ব অনুধাবনের ক্ষেত্রে দৃষ্টির প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। দৃষ্টির এই প্রতারণা প্রত্যেক যুগেই মানব সমাজের অপরিসীম ক্ষতির কারণ হয়েছে। ইতিহাস পর্যালোচনায় এই জাতীয় প্রতারণার যত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তার সংখ্যা কম নয়। এ কথা বললেও হয়তো অত্যুক্তি হবে না যে, মানব ইতিহাসের বৃহত্তম অংশই সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিদের দৃষ্টির প্রতারণা সম্পর্কিত বর্ণনায় ভরপুর। প্রত্যেক যুগে নবী-রাসূলদের আগমন হয়েছে এ কারণেই যে, তাঁরা দৃষ্টিভ্রমে পতিত ব্যক্তিদের ভ্রান্তিসমূহকে প্রকাশ করে দিবেন এবং তাদেরকে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সোস্যালিজম ও পুঁজিবাদ নামের জীবন ব্যবস্থার যে দুটি রূপ আমাদের সামনে উপস্থিত, এগুলো বর্তমান যুগে যুক্তির/দৃষ্টির প্রতারণারই ভিন্ন নাম। গত ৭০ বছর যাবত সোস্যালিজমের ভক্ত কোটি কোটি বনী আদম সব মানুষের সমস্যাবলীকে এক ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অভিজ্ঞতা সোস্যালিজম সম্পর্কে এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে এটা শুধু যুক্তি/দৃষ্টির ভ্রষ্টতা। সমগ্র মানব জাতির সমস্যা দূর করা তো সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়, কিন্তু এ মতবাদ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখারও উপযুক্ত নয়।

পুঁজিবাদের অবস্থাও এ থেকে ভিন্ন নয়। সমগ্র পশ্চিমা দুনিয়া আজ এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম, সাফল্যমণ্ডিত ও প্রগতিপন্থী বলে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে। কিন্তু পুঁজিবাদী মতবাদ সমগ্র দুনিয়াতে অর্থনৈতিক জীবনে যে দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করেছে তার নজির ইতিহাসে বিরল। তার এ ব্যাধিকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে আশি বছরের বৃদ্ধের বার্ধক্যের সাথে তুলনা করে। বার্ধক্য এমন একটা অবস্থা যখন এক রোগের উপশম হতে না হতেই আরো এক বা একাধিক রোগ তাকে আক্রান্ত করে। অনুরূপ অবস্থার শিকার আজকের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা. দুনিয়ার সমগ্র সম্পদের ৮০ শতাংশ বিশ্বের মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের হাতে আবর্তিত হচ্ছে। পক্ষান্তরে কোটি কোটি বনী আদম ন্যূনতম মৌলিক ও মানবীয় প্রয়োজনগুলো পূরণের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা রাখে না। এতদসত্ত্বেও পুঁজিবাদী বিশ্ব তাদের অতৃপ্ত আত্মাকে তৃপ্তকরণার্থে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ কুক্ষিগত করতে উন্মত্ত। এতে করে সমগ্র দুনিয়ার মানব সন্তানেরা আজ নানারূপ নির্যাতন ও দুর্দশার শিকার। তাদের সামনে এমন কোন নিয়ম-নীতিও নেই যা তাদেরকে পুঁজিবাদের পূজা ও অতৃপ্ত লোভ থেকে বিরত রাখতে পারে। আল্লাহ চাহে তো অতি শীঘ্রই দুনিয়া এর তাণ্ডবলীলা থেকেও মুক্ত হয়ে শান্তির নিশ্বাস ফেলবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামের মূলনীতি (Basic Principle of Islam)

📄 ইসলামের মূলনীতি (Basic Principle of Islam)


ইসলাম মুসলমানকে ব্যক্তি বিশেষের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রক্ষা করার জন্যে একটা মৌলিক নীতিমালা দান করেছে। এই নীতি হলো শুধু রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের যে রূপরেখা রেখে গেছেন এবং অতীতের নেককার মু'মিন মুসলমানেরা সে রূপরেখায় যেভাবে নিজেদের জীবনকে প্রস্ফুটিত করেছেন তার অনুকরণ, অনুসরণ করা। অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের পথ ব্যতীত কেউ যদি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দ্বারা ভিন্ন কোন মতবাদ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন 'যে ব্যক্তি হেদায়াতের রাস্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের মত ও পথ ভিন্ন অন্য মত ও পথ অবলম্বন করে, আমি তাকে এ জন্য সুযোগ দেই। অবশেষে তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাবো।' আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুমিনগণ যে জীবন পরিক্রমা অবলম্বন করেছেন, তাই স্বভাবসম্মত, ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা, উদারতা, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির পথ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00